ট্রিলিয়ন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর বাজার: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কি প্রস্তুত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ । ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারে সেমিকন্ডাক্টর বা চিপের চাহিদা আকাশচুম্বী। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমোবাইল কিংবা নিত্যব্যবহার্য ইলেকট্রনিক পণ্য—সবকিছুর মূল চালিকাশক্তি এই ক্ষুদ্র যন্ত্রাংশ। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই সেমিকন্ডাক্টর খাতের বাজারমূল্য ছাড়িয়ে যাবে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈশ্বিক অর্থনীতির এই নতুন মেরুকরণে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ।

বর্তমান বিশ্বে চিপ উৎপাদন এবং সরবরাহের ক্ষেত্রে কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশ আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তবে সাপ্লাই চেইন বৈচিত্র্যময় করার লক্ষে অনেক বড় প্রযুক্তি কোম্পানি এখন বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে। সেই সুযোগটিই কাজে লাগাতে চাইছে বাংলাদেশ। তবে কেবল স্বপ্ন দেখলেই হবে না, এই লক্ষ্য অর্জনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। দক্ষ প্রকৌশলী তৈরি করা এবং ন্যানোমিটার প্রযুক্তির চিপ ডিজাইনের ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উচ্চপ্রযুক্তির অবকাঠামো এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ। চিপ তৈরির কারখানা বা ‘ফ্যাব’ স্থাপনের জন্য প্রচুর মূলধনি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিশ্বমানের ল্যাবরেটরি এবং গবেষণা কেন্দ্র থাকা জরুরি। বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে নানা মহলে পর্যালোচনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে আইটি সেক্টরে বিনিয়োগের নানা সুবিধা ঘোষণা করা হলেও, চিপ ডিজাইন এবং ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের জন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত ইকোসিস্টেম।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সংক্রান্ত কোর্স ও গবেষণায় গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও এখন এই খাতের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছে। কিন্তু একাডেমিক জ্ঞানের সাথে ইন্ডাস্ট্রির বাস্তব কাজের যোগসূত্র স্থাপন করাটা মূল চ্যালেঞ্জ। যদি দেশীয় প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপগুলো এবং বৈশ্বিক জায়ান্টদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব হয়, তবে বাংলাদেশ এই গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারবে।

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন চিপ তৈরির জন্য এমন দেশ খুঁজছে যেখানে মেধার অভাব নেই এবং সরকারি নীতি সহায়তা স্থিতিশীল। বাংলাদেশ যদি আগামী দিনের প্রযুক্তির এই লড়াইয়ে টিকে থাকতে চায়, তবে এখনই সময় নীতি নির্ধারণে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি আনার। কেবল কাঁচামাল বা শ্রমনির্ভর রপ্তানি নয়, বরং উচ্চতর প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানির দিকে ধাবিত হতে হবে। তবেই ট্রিলিয়ন ডলারের এই সেমিকন্ডাক্টর বাজারের অংশীদার হওয়া সম্ভব। আগামী দিনগুলোতে প্রযুক্তিনির্ভর এই লড়াইয়ে বাংলাদেশ কতটা সফল হয়, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো প্রযুক্তি বিশ্ব।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন