মিরপুরে শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে নাশকতার ছক: আওয়ামী লীগের ১১ নেতাকর্মীসহ ৪৯ জন আটক

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬ । ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন নির্ধারণের দাবিতে চলা আন্দোলনের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির একটি বড় ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে আইনশৃঙ্ক্ষলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জানিয়েছে, শ্রমিকদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১১ জন নেতাকর্মীসহ মোট ৪৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডিবি মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খাঁন।

দীর্ঘ কয়েক দিন ধরেই মিরপুর এলাকায় ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে পুঁজি করে এক শ্রেণির স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার পাঁয়তারা করছিল বলে গোয়েন্দা তথ্যে উঠে আসে। ডিবি পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ওই নেতাকর্মীরা শ্রমিকদের আন্দোলনে মিশে গিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করা এবং দায়ভার শ্রমিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া।

গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিরপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের চিহ্নিত করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে ১১ জন সরাসরি আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সক্রিয় কর্মী। বাকিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, শ্রমিকদের আন্দোলনের আড়ালে ঢাকা শহরের জনজীবন বিপর্যস্ত করার জন্য একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা ছিল। তবে পুলিশের সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা তাদের অপতৎপরতা বাস্তবায়নের আগেই ধরা পড়েছে।

মিরপুরের ডিসি মোহাম্মদ রাকিব খাঁন জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহমর্মিতা থাকা সত্ত্বেও কোনো গোষ্ঠীকে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। যারা সাধারণ শ্রমিকদের আড়ালে থেকে নাশকতা বা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে পুলিশ। এই ঘটনার পর মিরপুর এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে কোনো বহিরাগত বা অশুভ চক্র অনুপ্রবেশ করছে কি না, তা নিয়েও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যারা জনগণের সম্পদ নষ্ট করার বা সাধারণ মানুষের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন