অনলাইন বিনিয়োগের নামে ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চীনা নাগরিকসহ চারজন রিমান্ডে

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন বিনিয়োগের নামে প্রতারণা এবং বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় চারজনকে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন দুইজন বিদেশি নাগরিক, যারা চীনা বংশোদ্ভূত। প্রতারণার এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই আইনি প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ধৃত চারজনের মধ্যে রয়েছেন রুহুল আমিন বিশ্বাস ও শেখ সানজিদা মনসুর সিথি। এছাড়া বাকি দুইজন চীনা নাগরিক, যাদের নাম চ্যান লং জি এবং ওয়াং শিওয়েই। দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র অনলাইন বিনিয়োগের ফাঁদ তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছিল বলে প্রাথমিক অভিযোগে বলা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের করা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই চক্রটি প্রায় ১১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুকৌশলে অনলাইনে বিভিন্ন অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করত। পরবর্তীতে বিনিয়োগকারীদের জমাকৃত অর্থ আত্মসাৎ করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিত চক্রটি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেটের তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

এদিকে, মৌলভীবাজারের উত্তর কলিমাবাদ এলাকায় পৃথক একটি ঘটনায় পুলিশি তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। শুক্রবার বিকালে শহরের ‘আরজু ভিলা’ নামের একটি চারতলা ভবন থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে আসবাবপত্রসহ ভাড়া নেওয়া ওই ফ্ল্যাটে ঘটনার সময় ওই নারীর সঙ্গে আরও এক যুবক অবস্থান করছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মৃত্যুর কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। ওই ঘটনার পরপরই ফ্ল্যাটে অবস্থানরত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। যদিও এই দুটি ভিন্ন ঘটনার মধ্যে এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এটি একটি সুসংগঠিত চক্রের কাজ। তারা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে দেশি-বিদেশি যোগসাজশে প্রতারণার জাল বিছিয়েছিল। রিমান্ডে থাকা অভিযুক্তদের জবানবন্দি এবং তাদের ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত ডিভাইস থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি, যারা বিনিয়োগের নামে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রলোভন দেখায়, তাদের ব্যাপারেও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজারে নারীর মৃত্যুর ঘটনায় যে যুবককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তার পরিচয় যাচাই-বাছাই চলছে। একইভাবে অনলাইন বিনিয়োগে অর্থ আত্মসাতের মামলার প্রধান অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপরাধী যেই হোক না কেন, তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে এবং ভুক্তভোগীরা যাতে সুবিচার পায় তা নিশ্চিত করা হবে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন