রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি ছিঁচকে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আয়োজিত এই জনসভায় যোগ দিতে এসে বিএনপির নয় জন নেতাকর্মী তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন হারিয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। জানা গেছে, ভুক্তভোগীদের মধ্যে সাতজন নগরীর রাজপাড়া থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের ব্যাপক সমাগম ও ভিড়কে পুঁজি করে পকেটমার বা অপরাধী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। জনসভার মাঠ ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতেও কীভাবে এমন চুরির ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ভিড়ের সুযোগে খুব কৌশলে তাদের ব্যবহৃত দামী স্মার্টফোনগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী নেতাকর্মীরা বিষয়টির সুরাহা করতে ও তাদের চুরি হওয়া মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধারের জন্য পুলিশের দ্বারস্থ হন।
রাজপাড়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জনসভার মতো বড় পরিসরের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েই অপরাধীরা সবসময় সক্রিয় থাকে। বিশেষ করে রাজনৈতিক মাঠের জনসভাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকার কথা থাকলেও, অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে সাধারণ মানুষ বা দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যক্তিগত সামগ্রী খোয়া যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে। এবারের জনসভাতেও একই চিত্র দেখা গেছে।
ভুক্তভোগী নেতাকর্মীদের অভিযোগ অনুযায়ী, জনসভাস্থলের কাছাকাছি আসতেই তারা মোবাইল ফোন হারানোর বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা পুলিশের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েছেন। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে জনসভায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এদিকে, বর্তমানে রাজনীতির মাঠে জনসভার কার্যক্রম ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে নিয়মিত সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে। এই সব সমাবেশগুলোতে বিশৃঙ্খলা এড়াতে ও নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজকদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে এবং চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা রোধে ভবিষ্যতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ আয়োজনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বিপুল জনসমাগম হয়। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি সবসময়ই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এবার ৯ জন নেতাকর্মীর মোবাইল ফোন চুরির ঘটনায় একদিকে যেমন ভুক্তভোগীদের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে, তেমনি মাঠের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন চুরি হওয়া মোবাইলগুলো উদ্ধারে প্রযুক্তিগত তদন্তের আশ্রয় নেবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগীরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ