ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে আধুনিক কিউআর কোড প্রযুক্তির পথে ঢাকা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর যানজট নিরসন এবং সড়কের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ এই অভিনব উদ্যোগটি হাতে নিয়েছে। এই নতুন পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিটি অটোরিকশাকে একটি সুনির্দিষ্ট ডেটাবেজের আওতায় নিয়ে আসা। এর অংশ হিসেবে অটোরিকশাগুলোতে যুক্ত করা হচ্ছে কিউআর কোড বা কুইক রেসপন্স কোড। এর ফলে অটোরিকশাগুলোর চালক, মালিক এবং যানবাহনের প্রয়োজনীয় তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকবে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম রোধে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঢাকা মহানগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল এবং এর সঠিক হিসাব না থাকায় প্রায়ই যানজট ও দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় সাধারণ যাত্রীদের। লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের আধিক্য এবং চালকদের অদক্ষতার কারণে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়মিত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি অটোরিকশায় একটি স্বতন্ত্র কিউআর কোড থাকবে। যখনই কোনো অটোরিকশা স্ক্যান করা হবে, তখন সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে অটোমেটিক সেই যানের যাবতীয় তথ্য ভেসে উঠবে। এতে করে অবৈধ বা অননুমোদিত কোনো যানবাহন সড়কে চলাচল করলে সহজেই তা শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এটি শুধু নজরদারি বাড়ানোই নয়, বরং অটোরিকশা চালকদের মধ্যেও এক ধরণের দায়বদ্ধতা তৈরি করবে।

প্রযুক্তির এই ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতাও অনেকটা কমে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কিউআর কোড স্ক্যান করলে অটোরিকশার মালিকের নাম, ঠিকানা, চালকের পরিচিতি এবং সংশ্লিষ্ট থানা বা ট্রাফিক বিভাগের অনুমোদনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে। এতে করে চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ক্ষেত্রেও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে। অপরাধীরা যেন অটোরিকশা ব্যবহারের মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো তেজগাঁও এলাকাজুড়ে এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে এবং এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য অঞ্চলেও এটি ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সড়কে চলাচলরত প্রতিটি ছোট-বড় যানবাহনকে সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনার সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগটিকে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে বিভিন্ন সময়ে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও কিউআর কোডের মতো প্রযুক্তির সরাসরি প্রয়োগ এই প্রথম বড় আকারে শুরু হতে যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কিউআর কোড ব্যবহারের ফলে অটোরিকশা ব্যবহারের ক্ষেত্রে এক ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। চালকদের স্বেচ্ছাচারিতা এবং যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থাটি অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে।

বর্তমানে প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে এই কিউআর কোড স্টিকার লাগানো এবং ডাটা এনট্রির কাজ চলমান রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা নির্দিষ্ট পয়েন্টে অটোরিকশা থামিয়ে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করছেন। এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন, স্থানীয় অটোরিকশা মালিক এবং চালকদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই তথ্য সংগ্রহের কাজটি করা হচ্ছে। কোনো প্রকার জটিলতা ছাড়াই যেন চালকরা এই কিউআর কোড সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

পরিশেষে, রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে স্মার্ট ও নিরাপদ করার যে লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে, এই ডিজিটাল উদ্যোগ তাকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দেবে। অটোরিকশার পাশাপাশি অন্যান্য গণপরিবহনেও যদি পর্যায়ক্রমে এমন ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব হয়ে উঠবে বলেই বিশেষজ্ঞ মহল মনে করছেন। আপাতত এই কিউআর কোড ব্যবস্থা কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় নগরবাসী।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন