টেস্ট দলে সৌম্য সরকারের অনুপস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা, তৃতীয় ওপেনার কেন নেই?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৪ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণার পর থেকেই আলোচনা ও সমালোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ওপেনার সৌম্য সরকার। আসন্ন টেস্ট সিরিজের জন্য ঘোষিত দল থেকে সৌম্যকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে ফর্মে না থাকা সৌম্য সরকার কি তবে তার প্রভাব টেস্ট দলেও পড়তে দেখলেন? ভক্ত ও বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ওয়ানডে ফরম্যাটে টানা ব্যর্থতার দায়ভারই সম্ভবত তাকে টেস্ট দল থেকে ছিটকে দিয়েছে। তবে নির্বাচক প্যানেলের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওয়ানডেতে খারাপ পারফরম্যান্সের সাথে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার কোনো প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই। অর্থাৎ, কেবল ওয়ানডের ব্যর্থতার কারণে টেস্ট দল থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়নি। নির্বাচকদের এমন মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে, তবে ঠিক কী কারণে তাকে বাদ দেওয়া হলো? ক্রিকেট মহলে এখন বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের টেস্ট দলে কেন কোনো তৃতীয় ওপেনার রাখা হলো না। সাধারণত দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ওপেনারদের ইনজুরি বা বিশেষ কোনো প্রয়োজনে একজন ব্যাকআপ ওপেনার দলে থাকা আবশ্যক। কিন্তু সাম্প্রতিক দল নির্বাচনে সেই প্রথাগত কাঠামোর বাইরে গিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট নতুন কোনো কৌশল অবলম্বন করেছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্ট ক্রিকেটে ওপেনারদের জন্য টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। সৌম্য সরকার অতীতে বেশ কয়েকবার নিজের সামর্থ্যের পরিচয় দিলেও, ধারাবাহিকতার অভাব তাকে বারবার ভোগাচ্ছে। দলের প্রয়োজনে অনেক সময় তাকে বিভিন্ন পজিশনে ব্যাট করতে দেখা গেলেও, ওপেনিংয়ে তিনি দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দিতে পারেননি। তবে তৃতীয় কোনো ওপেনার না রাখায় দল কতটা ঝুঁকিতে থাকবে, তা নিয়েও চিন্তিত ক্রিকেটবোদ্ধারা। যদি টেস্ট চলাকালীন কোনো ওপেনার ইনজুরিতে পড়েন, তবে সেক্ষেত্রে বিকল্প পরিকল্পনা কী হবে, তার কোনো স্পষ্ট আভাস পাওয়া যায়নি।

হাবিবুল বাশারের বক্তব্য অনুযায়ী, দল গঠনের প্রক্রিয়াটি কেবল বর্তমান ফরম বা পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে না; বরং পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হয় বা বাদ দেওয়া হয়। সৌম্য সরকারের ক্ষেত্রেও বিষয়টি হয়তো সাময়িক বিরতি, নাকি পাকাপাকি বাদ দেওয়া, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। টেস্ট ফরম্যাটের জন্য ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতি ওয়ানডের চেয়ে আলাদা। সম্ভবত নির্বাচকরা এই মুহূর্তে অন্য কোনো ক্রিকেটারকে সৌম্যর চেয়ে বেশি উপযুক্ত মনে করছেন বা দলের ভারসাম্য রক্ষায় নতুন কোনো কম্বিনেশন নিয়ে কাজ করছেন।

বাংলাদেশের টেস্ট স্কোয়াডে এখন ওপেনিং জুটির ওপরই সব ভরসা। নতুন এই দল গঠনের মাধ্যমে নির্বাচকরা কি তরুণদের সুযোগ করে দিতে চাচ্ছেন, নাকি পুরনোদের ওপরই আস্থা রাখছেন, তা মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে। তবে তৃতীয় ওপেনারের অভাব পূরণ না করায় টিম ম্যানেজমেন্টকে হয়তো ভবিষ্যতে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হতে পারে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন আসন্ন সিরিজের দিকে। সৌম্যর অনুপস্থিতিতে অন্য ওপেনাররা নিজেদের কতটা মেলে ধরতে পারেন এবং নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই। টেস্ট ক্রিকেটে বরাবরের মতো বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করাটাই এখন সময়ের দাবি।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন