বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণ পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, যা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। সবশেষ চব্বিশ ঘণ্টার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৯১ জন রোগী। একই সময়ে চিকিৎসারত অবস্থায় দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতামূলক প্রচারণার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, গত এক দিনে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত এই রোগীদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রতিটি হাসপাতালেই আলাদা ইউনিট বা কর্নার চালু রাখা হয়েছে। তবে আক্রান্তের ক্রমবর্ধমান হার চিকিৎসকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ রোগীই জ্বরের তীব্রতা নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। নিয়মিত ওষুধ, তরল খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের সুস্থ করে তোলার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরাও মাঠ পর্যায়ে ডেঙ্গুর উৎসস্থল ধ্বংসের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয়েছে।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় মশা নিধন কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, শুধুমাত্র চিকিৎসাসেবা দিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোর উচিত নিয়মিত মশা নিধনে কীটনাশক স্প্রে করা এবং ড্রেন, ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখার বিষয়ে নিয়মিত তদারকি করা। পাশাপাশি, বৃষ্টির জমে থাকা পানি যাতে মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাসার আঙিনায় বা টবে পানি জমে থেকে সেখানে মশার বংশবিস্তার ঘটে। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকের মধ্যেই অবহেলা লক্ষ্য করা যায়। সাধারণ জ্বর ভেবে অনেকে দেরি করে হাসপাতালে আসেন, যা অনেক সময় প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, জ্বরের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরপরই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে রোগীদের ঝুঁকি বেশি থাকে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের তরফ থেকে বিনামূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষার সুযোগসহ সব ধরনের প্রস্তুতির কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্কুলের আঙিনা বা খেলার মাঠ যেন মশার অভয়ারণ্যে পরিণত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বরিশাল বিভাগের সামগ্রিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, ডেঙ্গু মৌসুম দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বর্ষা বা বৃষ্টির পরবর্তী সময়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। সরকারি সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ ও কিট সরবরাহ নিশ্চিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হটলাইন বা জরুরি সেবার মানদণ্ড বজায় রাখতে কাজ করছেন তারা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ