দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুর জেলায় ঘটে যাওয়া দুটি ভিন্ন ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে প্রবাসী এক দম্পতিকে জিম্মি করে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীরা সেখানে আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, বাসায় অনধিকার প্রবেশ করে ভুক্তভোগী দম্পতির ওপর চড়াও হন অভিযুক্তরা। তারা ভুক্তভোগীদের নানা রকম অপবাদ দিয়ে জিম্মি করে মারধর করেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয় এবং মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রায়পুর বাজারের দেনায়েতপুর এলাকা থেকে রিয়াদ হাসান বয়াতি নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। জানা গেছে, আটককৃত ব্যক্তি স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় এবং রায়পুর পৌর কৃষক দলের সভাপতি পদের একজন প্রার্থী। এছাড়া তিনি অতীতে রায়পুর সরকারি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোরাচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ রাবার জব্দ করেছে পুলিশ। নিয়মিত টহল ও নজরদারির অংশ হিসেবে পুলিশ একটি কাভার্ডভ্যানকে চ্যালেঞ্জ করে থামায়। এরপর ভ্যানটি তল্লাশি করে প্রায় ছয় থেকে সাত টন রাবার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত এই রাবারের বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অবৈধভাবে এই বিপুল পরিমাণ রাবার পাচারের সময় তিনজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জব্দ করা রাবারগুলো এবং আটককৃত ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ উপায়ে রাবার পাচারের কাজ চালিয়ে আসছিল। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের সঙ্গে আর কারা জড়িত রয়েছে, তা বের করার চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের চোরাচালান ও সহিংসতার ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা যেন কোনোভাবেই পার না পায়, সেজন্য কঠোর নজরদারির ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লক্ষ্মীপুরের ঘটনাটি যেখানে ব্যক্তিগত আক্রোশ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দেয়, সেখানে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঘটনাটি সংগঠিত অপরাধের একটি চিত্র তুলে ধরে। উভয় ক্ষেত্রেই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের সক্ষমতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। তবে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় টহল জোরদার এবং অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে নিয়মিত অভিযানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৫ পূর্বাহ্ণ