তাহসিফ হত্যা মামলা: বান্ধবী জেরিকার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরি নিহতের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এবার তার বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা নৌপুলিশ। রোববার এই আবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। মামলাটি বর্তমানে গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ি।
এর আগে এই একই হত্যা মামলার ঘটনায় নিহত তাহসিফের পরিচিত ও বন্ধুস্থানীয় হিসেবে পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। দীপের পর এবার মামলার তদন্তে নতুন গতি আনতে ও ঘটনার নেপথ্যে থাকা তথ্য উদঘাটন করতে জেরিকা তাসনিম দিশাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছে পুলিশ।
রোববার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর ফিরোজ উদ্দিন আদালতে হাজির হয়ে রিমান্ডের এই আবেদন দাখিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নিতে এবং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের সম্পৃক্ততা আরও গভীরভাবে যাচাই করার লক্ষ্যে তদন্ত কর্মকর্তা অভিযুক্তের রিমান্ড চেয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় নিহতের পরিবার এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই মামলায় যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনার কাজ চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, জেরিকা তাসনিম দিশাকে রিমান্ডে পাওয়া গেলে মামলার গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্লু পাওয়া যেতে পারে বলে পুলিশ আশাবাদী। তাহসিফের সাথে তার সম্পর্কের ধরণ এবং ঘটনার আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য তাকে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এর আগেও পুলিশ দীপের কাছ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করেছে, সেই তথ্যের সূত্র ধরে এখন জেরিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আদালত সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা রিমান্ড আবেদনের শুনানি খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করবেন। রিমান্ড মঞ্জুর হলে জেরিকা তাসনিম দিশাকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবে নৌপুলিশ।
এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কারা জড়িত থাকতে পারে, কিংবা ঘটনার পেছনের মূল কারণ কী—তা স্পষ্টভাবে বের করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। নৌপুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেই এই মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুরো ঘটনার দিকে নজর রাখছেন স্থানীয়রা এবং নিহতের পরিবার। তারা আশা প্রকাশ করছেন, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীরা দ্রুত আইনের আওতায় আসবে এবং প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে। মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে এখন সবার চোখ।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]