সাভারের হেমায়েতপুরে শ্রমিক বিক্ষোভের জের ধরে একটি পোশাক কারখানায় নজিরবিহীন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। উত্তাল পরিস্থিতিতে কারখানাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে এবং এক পর্যায়ে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মারধরের শিকার হতে হয়। ঘটনার সূত্রপাত হয় রবিবার দুপুরে, যখন কারখানার সামনে জড়ো হওয়া একদল বিক্ষোভকারী শ্রমিক সহিংস হয়ে ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারখানাটির সামনে শ্রমিকদের জমায়েত ও বিশৃঙ্খলা হঠাৎ করেই রূপ নেয় বড় ধরনের তাণ্ডবে। তারা কারখানার মূল ফটক ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।
কারখানার ভেতরের নিরাপত্তা কর্মীদের চোখের সামনেই একদল বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি ভেতরে প্রবেশ করে এবং আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করতে থাকে। ঘটনার সময় শ্রমিকদের একটি বড় অংশকে মারমুখী অবস্থানে দেখা গেছে। কারখানায় কর্মরত অবস্থায় থাকা সাধারণ কর্মীরা ভয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় সেখানে উপস্থিত স্থানীয় এক সংবাদকর্মী ভিডিও ধারণ করতে গেলে তিনি হামলার শিকার হন। বিক্ষুব্ধরা ওই সাংবাদিককে ঘিরে ফেলে এবং তার ওপর চড়াও হয়। এতে তিনি গুরুতর লাঞ্ছনার শিকার হন বলে জানা গেছে।
কারখানার ভেতরে তাণ্ডব চালানোর পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা কারখানা সংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এর ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। মহাসড়ক অবরোধের ফলে ঘরমুখো মানুষসহ সাধারণ পথচারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন। সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল চরমে। দীর্ঘক্ষণ মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার সময়কার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যে যেভাবে পেরেছে কারখানাটির ভেতরে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই হেনস্তা বা মারধর করা হয়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ভাঙচুরের বড় অংশ সম্পন্ন হয়ে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে বেশ বেগ পেতে হয়।
কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি দাওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটিতে যে অস্থিরতা চলছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই হামলায়। আহত সাংবাদিককে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনা পরবর্তী সময়ে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি পুনরায় তৈরি না হয়। তবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত হলেও পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং কারখানার কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৫ অপরাহ্ণ