জামালপুরে চারটি কলেজে এইচএসসিতে শূন্য পাস, হতাশ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা
উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এবারের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। ময়মনসিংহের শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত জামালপুর জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণকারী কোনো শিক্ষার্থীই সাফল্যের মুখ দেখেননি। অর্থাৎ, এই চারটি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ২২ জন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেননি। শনিবার সকালে বোর্ড কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশের পর বিষয়টি জানাজানি হয় এবং স্থানীয় শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর কুমারিয়া নাসুবা হাকিম বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর ছয়জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের কেউই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করতে পারেননি। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও। ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, শুধুমাত্র একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং চারটি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত পাসের হার শূন্য শতাংশ। এই ফলাফলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে।
শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বের সাথে দেখার দাবি রাখে। এর পেছনে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতির সীমাবদ্ধতা, নিয়মিত ক্লাসের অভাব, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষকের সংকট কিংবা শিক্ষার্থীদের যথাযথ প্রস্তুতির ঘাটতি অন্যতম কারণ হতে পারে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন স্তরে শিক্ষার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, এবারের এই ফলাফল সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিল।
জামালপুর জেলার মতো একটি অঞ্চলে চারটি কলেজ থেকে একজনও পাস না করার পেছনে আরও কিছু কারণ থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকের মতে, গ্রাম কিংবা মফস্বল এলাকায় অবস্থিত অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো বিজ্ঞান বা মানবিক শাখার প্রয়োজনীয় ল্যাব ও সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। এছাড়া, গত কয়েক বছরে চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং নানা অস্থিরতার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে যে ছেদ পড়েছে, তার প্রভাবও হয়তো পরীক্ষার ফলে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্নভঙ্গ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন বিপর্যয় শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি তদন্তের দাবি রাখে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, যারা অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের পুনরায় মূল্যায়ন বা পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ রয়েছে। তবে পাসের হারের এই করুণ দশা কাটিয়ে উঠতে ওইসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া না গেলেও, অদূর ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সাথে আলোচনা করে বিশেষ কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে, কেবল পাস-ফেল নয়, বরং শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা পর্যবেক্ষকরা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]