এক ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হলে ইলন মাস্ক কী করতে পারতেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বের ধনকুবেরদের তালিকায় ইলন মাস্ক নিয়মিত শিরোনামে থাকেন। তাঁর প্রযুক্তিবান্ধব উদ্ভাবন এবং মহাকাশ গবেষণার নেশা তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি কখনো ইলন মাস্কের নিট সম্পদ এক ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকে, তবে সেই অভাবনীয় পরিমাণ অর্থ দিয়ে তিনি কী কী করতে পারবেন? সাধারণ মানুষের কল্পনার বাইরে থাকা এই বিশাল অংকের টাকা বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে সক্ষম।

এক ট্রিলিয়ন ডলার হলো ১০ লক্ষ কোটি ডলার। বর্তমান বিশ্বের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে বিশ্বের বড় বড় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। প্রথমত, ক্ষুধার সমস্যা সমাধানে এই অর্থের বিশাল ভূমিকা থাকতে পারে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের বড় একটি অংশের মানুষের সুষম খাদ্যের অভাব রয়েছে। মাস্ক চাইলে তাঁর সম্পদের একটি বড় অংশ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী কৃষিব্যবস্থা ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন, যা কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় এই অর্থ দিয়ে আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ দূষণ এক বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। মাস্কের আগ্রহ যেহেতু নবায়নযোগ্য শক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জি নিয়ে, তাই এক ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে তিনি সারা পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র, বায়ুবিদ্যুৎ বা উন্নত মানের ব্যাটারি প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে পারেন। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমে আসবে এবং পরিবেশ রক্ষা পাবে।

তৃতীয়ত, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। সারা বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে উন্নত মানের আধুনিক হাসপাতাল তৈরি এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যয় করা যেতে পারে। ক্যান্সার বা দুরারোগ্য ব্যাধির গবেষণায় এক ট্রিলিয়ন ডলার ঢেলে দিলে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে।

চতুর্থত, মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে ইলন মাস্কের যে আকাঙ্ক্ষা, তা এই অর্থে পূর্ণতা পেতে পারে। মঙ্গল গ্রহে মানববসতি স্থাপনের যে স্বপ্ন তিনি দেখেন, তাতে এক ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তাকে অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিতে পারে। মহাকাশ স্টেশনে নতুন প্রজন্মের রকেট পাঠানো, আন্তঃগ্রহ যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি এবং মানুষের জন্য বিকল্প আবাসস্থল তৈরির পরিকল্পনা এই বাজেটে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত হয়ে উঠবে।

সবশেষে, এই বিশাল অর্থ কেবল ব্যক্তিগত খামখেয়ালিতে ব্যয় না করে যদি মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তবে তা পৃথিবীর ইতিহাসে ইলন মাস্ককে অমর করে রাখবে। যদিও সম্পদ থাকলেই তা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, তবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের মতো বিশাল পরিমাণ মূলধন সঠিক খাতে বিনিয়োগ করতে পারলে তা বর্তমান পৃথিবীর আর্থ-সামাজিক কাঠামোকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিতে পারে। মাস্কের মতো দূরদর্শী চিন্তার একজন মানুষের হাতে এই পরিমাণ অর্থ থাকলে তা প্রযুক্তি এবং মানবতা—উভয় ক্ষেত্রেই অভাবনীয় গতি আনতে সক্ষম। বর্তমান সময়ে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার মাঝে এমন বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে বাধ্য।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন