খুঁজুন
, ,

তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে দেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরণের সুখবর নিয়ে এলেন সরকারপ্রধান। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় যুবসমাজের অসামান্য অবদান ও তাদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নতুন করে ৫০০ কোটি টাকার একটি স্টার্টআপ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আজকের তরুণরাই আগামী দিনের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কারিগর। স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের নানামুখী সংকট মোকাবিলায় দেশের যুবসমাজ সবসময়ই সম্মুখভাগে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

রোববার জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তরুণদের এই প্রাণশক্তিকে কাজে লাগানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যেকোনো দেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির পেছনে যুবশক্তির ভূমিকা অপরিসীম। রাষ্ট্র পরিচালনায় তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কর্মস্পৃহাকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মূলত যেসব তরুণ উদ্যোক্তা নতুন কিছু করার স্বপ্ন দেখেন বা প্রযুক্তিগত কোনো সমাধান নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সহজ শর্তে ও স্বল্প সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করবে এই নতুন তহবিল।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, গত কয়েক দশকে দেশ অর্থনৈতিকভাবে যে অবস্থানে পৌঁছেছে, তাতে যুবকদের অংশগ্রহণ ছিল অনস্বীকার্য। বিশ্বায়নের এই যুগে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রসারের মাধ্যমে কেবল কর্মসংস্থান তৈরিই নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা প্রদান করবে।

অনুষ্ঠানে সরকারি নীতি-নির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানিয়েছেন, এই স্টার্টআপ তহবিলটি কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন কোন শর্তাবলি পূরণ করলে উদ্যোক্তারা এই অর্থ সহায়তা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নীতিমালা দ্রুতই প্রকাশ করা হবে। ডিজিটাল ইকোনমির এই যুগে দেশের তরুণরা যেন বিশ্বমানের সেবা ও পণ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের প্রমাণ করতে পারে, সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার ফলে প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপগুলো এক নতুন উদ্দীপনা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য যে, সারা দেশে গত কয়েক বছর ধরে স্টার্টআপ বা নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোগের সংখ্যা বাড়ছে। এই তহবিল সেই গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। যুব দিবসকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ ঘোষণা সাধারণ মানুষের মাঝে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। তরুণ সমাজ এখন এই প্রণোদনা ব্যবহার করে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই উদ্যোগের যথাযথ বাস্তবায়ন তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতিনিধিরা।

কৃষিপণ্যের স্থায়িত্ব বাড়াতে বিনায় উদ্বোধন হলো অত্যাধুনিক গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
কৃষিপণ্যের স্থায়িত্ব বাড়াতে বিনায় উদ্বোধন হলো অত্যাধুনিক গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র

বাংলাদেশের কৃষি খাতের আধুনিকায়নে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করল বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিনা। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে দেশের কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই বিকিরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কৃষিপণ্যের গুণমান ঠিক রেখে দীর্ঘ সময় ধরে তা সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা মূলত অপচয় রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

গামা রশ্মি বিকিরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে মূলত খাদ্যের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রেখে অণুজীব ধ্বংস করা হয়, ফলে সাধারণ তাপমাত্রায় বা সাধারণ পরিবেশে যেসব পণ্য দ্রুত পচে যেত, সেগুলো এখন ১২ মাস পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে। এই উদ্যোগের ফলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল দীর্ঘ মেয়াদে সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে মৌসুমী সবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিনার মহাপরিচালক অনুষ্ঠানে প্রযুক্তিটির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি জানান, এই কেন্দ্রটি বছরে প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ টন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রাখবে। এর মাধ্যমে কৃষিপণ্যের সংগ্রহোত্তর যে অপচয় হয়, তা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগের ফলে বছরে প্রায় ৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার আর্থিক সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এটি কেবল কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে কৃষিপণ্য সংরক্ষণে গামা রশ্মি বিকিরণ একটি পরীক্ষিত ও কার্যকর পদ্ধতি। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক প্রয়োগ শুরু হওয়ায় এখন থেকে দেশীয় কৃষিপণ্যের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। এছাড়া, খাদ্যদ্রব্য থেকে ক্ষতিকারক পোকা ও রোগজীবাণু দূর করার পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী সংরক্ষণ ক্ষমতার কারণে রপ্তানির ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। কৃষিবিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বিনার এই সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভবিষ্যতে আরও অনেক গবেষণামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা সহজতর হবে, যা সরাসরি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিকিরণ কেন্দ্রটি পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার নীতিমালা মেনেই এই পুরো প্রক্রিয়ার পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হলে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, বিনার এই গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র দেশের কৃষি বিপ্লবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জোরারগঞ্জে ড্রাম ট্রাকে সার পাচারের চেষ্টা: ৩০১ বস্তা সারসহ আটক ৮

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
জোরারগঞ্জে ড্রাম ট্রাকে সার পাচারের চেষ্টা: ৩০১ বস্তা সারসহ আটক ৮

চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় এসব সার উদ্ধার করা হয়। অভিযানে জড়িত আট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া সারের পরিমাণ ৩০১ বস্তা এবং এ কাজে ব্যবহৃত দুটি ড্রাম ট্রাকও জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসন অভিযানে নামে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানার অন্তর্গত মুহুরী প্রজেক্ট ৪০ নম্বর গেট এলাকা থেকে ট্রাক দুটি আটক করা হয়। ট্রাকগুলোতে সারগুলো এমনভাবে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল যাতে সহজে নজর না পড়ে। পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় পাচারকারীদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয় এবং অবৈধ এ চালানটি আটক করা সম্ভব হয়।

ঘটনার বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এটি স্পষ্ট যে সারগুলো পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে পাচারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে পুলিশ ওই এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ভোরে সন্দেহজনক দুটি ড্রাম ট্রাক থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ সার উদ্ধার হওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকেই আটজনকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চক্রটি সারগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিল এবং কার নির্দেশে বা কাদের সহায়তায় সীমান্তে পাচারের চেষ্টা করছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য সরকার অনুমোদিত সার অবৈধভাবে দেশের বাইরে পাচার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। কৃষি খাতে ভর্তুকি মূল্যের সার পাচার রোধে প্রশাসন বরাবরই সতর্ক অবস্থানে থাকে। জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান রোধে এবং দেশের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাদের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় সচেতন মহল পুলিশের এ দ্রুত পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের চোরাকারবারি চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে পারলে সীমান্তবর্তী এলাকায় পাচার রোধ সহজ হবে। আপাতত আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

ইরানে হামলা চালালে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ইরানে হামলা চালালে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আসা সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বা নির্বাচনী উত্তাপের রেশ ধরে তেহরানের ওপর কোনো নতুন হামলা চালানো হলে তার কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। বৈঠকে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় উপস্থিত ছিল, যেখানে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবেলায় তেহরান কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মেনে চলবে না। অর্থাৎ, দেশের বাইরেও যেকোনো জায়গায় পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ও নীতি বজায় রাখবে ইরান।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সপ্তাহান্তে তিনি ইরানকে সমূলে ধ্বংস করে ফেলার মতো কঠোর মন্তব্যও করেছিলেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সংকট ও অস্থিরতার মধ্যেই ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো একটি ঐতিহাসিক সুযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত দেশটিতে নতুন সরকার গঠিত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সাম্প্রতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

তেহরানের একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মোজতবা খামেনির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি। এটি ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোজতবা খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এক ভয়াবহ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর মার্চ মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে তাঁর এই সরাসরি বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের বর্তমান প্রশাসন বাইরের চাপের মুখে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠোর করতে চলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য ইরানের দীর্ঘদিনের রণকৌশলেরই ধারাবাহিকতা। যেকোনো ধরনের হুমকির মোকাবেলায় তেহরান সবসময়ই তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের নীতিতে অটল থেকেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডাকে সামনে রেখে ইরানবিরোধী বাগাড়ম্বর বাড়াচ্ছে, তখন মোজতবার এই বার্তা মূলত দেশের ভেতরে এবং বাইরে নিজের কর্তৃত্ব ও দৃঢ় অবস্থান প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির শেষ কোথায় তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আপাতত তেহরান নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সতর্কতায় কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তা শনিবারের বৈঠকে মোজতবা খামেনির কঠোর নির্দেশনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ
কৃষিপণ্যের স্থায়িত্ব বাড়াতে বিনায় উদ্বোধন হলো অত্যাধুনিক গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র জোরারগঞ্জে ড্রাম ট্রাকে সার পাচারের চেষ্টা: ৩০১ বস্তা সারসহ আটক ৮ ইরানে হামলা চালালে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির বিশ্বব্যাংক থেকে আর্থিক খাত সংস্কারের জন্য ৪৫ কোটি ডলার ঋণ তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়নে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দলীয় সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মুক্তির দাবি জানাল জাসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর পরিবারে শঙ্কা, রাতে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন নারী সদস্যরা হ্যালোউইন পার্টিতে শ্রীদেবীর স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন জাহ্নবী কাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাস কোর্সের ১৯ বিষয়ের সিলেবাস আধুনিকায়নের উদ্যোগ ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা জরুরি: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ
Advertisement