ইরানে হামলা চালালে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি মোজতবা খামেনির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনি প্রথমবারের মতো দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আসা সামরিক হুমকির প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বা নির্বাচনী উত্তাপের রেশ ধরে তেহরানের ওপর কোনো নতুন হামলা চালানো হলে তার কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। বৈঠকে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় উপস্থিত ছিল, যেখানে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন মোকাবেলায় তেহরান কোনো ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা মেনে চলবে না। অর্থাৎ, দেশের বাইরেও যেকোনো জায়গায় পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা ও নীতি বজায় রাখবে ইরান।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত সপ্তাহান্তে তিনি ইরানকে সমূলে ধ্বংস করে ফেলার মতো কঠোর মন্তব্যও করেছিলেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সংকট ও অস্থিরতার মধ্যেই ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো একটি ঐতিহাসিক সুযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। গত ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত দেশটিতে নতুন সরকার গঠিত হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ইরানকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সাম্প্রতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।

তেহরানের একটি সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মোজতবা খামেনির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আবদোল্লাহি, সেনাপ্রধান আমির হাতামি এবং ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোরের কমান্ডার আহমাদ ওয়াহিদি। এটি ছিল সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোজতবা খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে এক ভয়াবহ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। সেই একই হামলায় মোজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর মার্চ মাসে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে সামরিক শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে তাঁর এই সরাসরি বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের বর্তমান প্রশাসন বাইরের চাপের মুখে নিজেদের কৌশলগত অবস্থান আরও কঠোর করতে চলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবা খামেনির এই বক্তব্য ইরানের দীর্ঘদিনের রণকৌশলেরই ধারাবাহিকতা। যেকোনো ধরনের হুমকির মোকাবেলায় তেহরান সবসময়ই তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের নীতিতে অটল থেকেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির সমীকরণে যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডাকে সামনে রেখে ইরানবিরোধী বাগাড়ম্বর বাড়াচ্ছে, তখন মোজতবার এই বার্তা মূলত দেশের ভেতরে এবং বাইরে নিজের কর্তৃত্ব ও দৃঢ় অবস্থান প্রতিষ্ঠার একটি কৌশল। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির শেষ কোথায় তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। আপাতত তেহরান নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সতর্কতায় কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় তা শনিবারের বৈঠকে মোজতবা খামেনির কঠোর নির্দেশনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন