খুঁজুন
, ,

ইদে দেশে ফেরার স্বপ্ন ভেঙে কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলেন দুই প্রবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
ইদে দেশে ফেরার স্বপ্ন ভেঙে কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলেন দুই প্রবাসী

সৌদি আরবের রিয়াদে একটি শিল্প কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর নিহত দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃতদেহ ইদের ছুটিতে দেশে পৌঁছেছে। শামীম হোসেন এবং সাব্বির আহমেদ, যাঁরা দুজনই রিয়াদে কাজ করতেন, তাদের দেহ ৮২ দিন পর কফিনে সযত্নে ফেরত আনা হয়েছে।

শামীম হোসেনের পরিবার জানায়, তিনি রিয়াদের একটি গৃহস্থালী পণ্যের কারখানায় কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডে তিনি এবং কয়েকজন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। শামীমের পরিবার ইদে তার সঙ্গে মেয়েকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, তবে দুঃখজনকভাবে সেই স্বপ্নটি বাস্তবায়িত হয়নি। একই সময়ে, সাব্বির আহমেদের পরিবারও একই রকম শোকের মুখোমুখি হয়েছে; তিনি একই কারখানার আরেকজন কর্মী ছিলেন এবং একই ঘটনার শিকার হয়েছেন।

মৃতদেহের পুনরুদ্ধার ও রপ্তানির প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। দুজনের দেহ ৮২ দিন পর, অর্থাৎ প্রায় তিন মাসের বেশি সময়ের পর, বাংলাদেশে পৌঁছেছে। কফিনে সযত্নে রাখা দেহগুলোকে রোজার ইদের প্রথম দিনেই ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা হয়। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে এই দুঃখজনক মুহূর্তটি ভাগাভাগি করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এই ঘটনা আবারও একবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রিয়াদে কাজ করা বহু বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই দুঃখজনক ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। শ্রমিক অধিকার সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

দুজনের পরিবার এখন শোকাহত, তবে তারা শামীম ও সাব্বিরের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে চায়। শামীমের মা বলেন, “আমার ছেলে ইদে ফিরে এসে আমাদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য অন্য রকম লিখে দিয়েছে। আমরা তার স্মৃতিকে স্নেহের সঙ্গে স্মরণ করব।” সাব্বিরের পরিবারের একজন সদস্যও একই রকম অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।

এই দুজনের মৃত্যুর পর, বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে, রিয়াদে কাজ করা অন্যান্য বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কাজের শর্তাবলী নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থার উন্নতি করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন।

ইদের ছুটিতে ফিরে আসা প্রত্যাশা করা এই দুই প্রবাসীর কফিনবন্দি ফিরে আসা, দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। তাদের স্মৃতি ও ত্যাগকে সন্মান জানিয়ে, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব।

স্কুল ত্যাগ করে কারখানায় কাজ করা ঝোউ চুনফেই, চীনের শীর্ষ ধনী নারী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
   
স্কুল ত্যাগ করে কারখানায় কাজ করা ঝোউ চুনফেই, চীনের শীর্ষ ধনী নারী

ঝোউ চুনফেই, ৫৬ বছর বয়সী চীনা নারী, আজকের দিনে চীনের সর্বোচ্চ সম্পদশালী নারী হিসেবে পরিচিত। তার সাফল্যের গল্পটি একদমই সহজ নয়; তিনি যখন কিশোর বয়সে স্কুল ত্যাগ করে একটি গ্লাস ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেন, তখন তার দৈনিক মজুরি মাত্র ১.২০ ডলার ছিল।

ঝোউয়ের পরিবার আর্থিক সংকটে ছিল, ফলে তাকে শিক্ষার বদলে কাজের দরকার পড়ে। ফ্যাক্টরিতে কাজের সময় তিনি গ্লাস উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ শিখে নেন এবং শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াতে মনোযোগ দেন। এই অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে তার উদ্যোক্তা যাত্রার ভিত্তি হয়ে ওঠে।

১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে, ঝোউ চুনফেই নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে লেন্স টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করেন। কোম্পানিটি মূলত স্মার্টফোন, ট্যাবলেট এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের জন্য উচ্চমানের গ্লাস স্ক্রিন উৎপাদনে বিশেষজ্ঞ। তার নেতৃত্বে লেন্স টেকনোলজি দ্রুতই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করে এবং গ্লাস শিল্পে একটি বিশাল নাম হয়ে ওঠে।

কোম্পানির দ্রুত বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ফলে ঝোউয়ের সম্পদে বিশাল বৃদ্ধি দেখা যায়। ২০২৬ সালে প্রকাশিত হুরুন রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না তালিকায় তিনি ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান (প্রায় ১,৪২০ কোটি পাউন্ড) সম্পদের সঙ্গে শীর্ষে স্থান পেয়েছেন। এই তালিকাটি চীনের সর্বোচ্চ সম্পদশালী নারীদের র‌্যাঙ্কিং করে এবং ঝোউয়ের নাম সেখানে প্রথম স্থানে দেখা যায়।

ঝোউ চুনফেইয়ের সাফল্য কেবল তার ব্যক্তিগত সম্পদেই সীমাবদ্ধ নয়; তিনি চীনের গ্লাস শিল্পে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছেন এবং বহু তরুণ উদ্যোক্তাকে অনুপ্রাণিত করেছেন। তার কোম্পানি এখন গ্লাস উৎপাদনে স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক সিস্টেম, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি এবং উচ্চমানের পণ্য গুণগত মানের জন্য পরিচিত।

ঝোউয়ের গল্পটি সামাজিক-অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি প্রমাণ করেছেন যে কঠোর পরিশ্রম, দৃঢ় সংকল্প এবং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, কোনো সামাজিক পটভূমি থেকে উঠে গ্লোবাল বিজনেসের শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব। তার সাফল্য নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দেখায় যে লিঙ্গভিত্তিক বাধা সত্ত্বেও নারী ব্যবসায়িক জগতে সমানভাবে সফল হতে পারে।

আজ ঝোউ চুনফেই লেন্স টেকনোলজির সিইও হিসেবে সক্রিয়ভাবে কোম্পানির কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করেন এবং নতুন প্রযুক্তি গবেষণায় বিনিয়োগ চালিয়ে যান। তিনি সামাজিক দায়িত্বের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন দাতব্য প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেন, বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা করার জন্য।

ঝোউয়ের যাত্রা একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ যে, কঠিন আর্থিক পরিস্থিতি এবং সীমিত শিক্ষার সুযোগের মধ্যেও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে কেউ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করতে পারে। তার সাফল্য চীনের অর্থনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি নারীকে উদ্যোক্তা পথে অগ্রসর হতে উৎসাহিত করবে।

সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই পাস হবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আইন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই পাস হবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আইন

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সহজতর করতে এই আইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের যে বৈশ্বিক সংকট চলছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যেই সৌরবিদ্যুৎ আইনটি অন্যতম একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরবরাহের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। সরকার চেষ্টা করছে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য, তবে রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার কাজ চলমান রয়েছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজস্ব ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ প্রদানের সুযোগ পাবেন, যা বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। এই উদ্দেশ্যে একটি সুনির্দিষ্ট আইন কাঠামোর অভাব ছিল, যা নতুন আইন পাসের মধ্য দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই আইনটি পাস হলে বাড়ির ছাদে বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা অনেক কমে আসবে। বিদ্যুৎ গ্রাহকরা উৎসাহিত হবেন এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন নতুন বিনিয়োগ তৈরি হবে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে এই খাতটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। সরকার কেবল বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে না, বরং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সংস্কৃতিকেও উৎসাহিত করছে। এটি একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে সাশ্রয়ী।

আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারের যে প্রক্রিয়া চলমান, সেটির অংশ হিসেবেই এই সৌরবিদ্যুৎ আইনকে দেখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইনে সৌরবিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সহজ করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা সহজেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা। মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নিরলসভাবে কাজ চলছে এবং নতুন আইনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে। সংসদের আসন্ন অধিবেশন শুরুর আগে আইনের চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে একটি সবুজ ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে সরকার আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফ ও দীপের শেষ সাত ঘণ্টার রহস্য

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফ ও দীপের শেষ সাত ঘণ্টার রহস্য

রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি এবং তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের শেষ মুহূর্তের কর্মকাণ্ড নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা ৩১ মিনিটে তারা দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে চড়ে উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এই সময়ের মধ্যে তারা কোথায় কোথায় গিয়েছেন এবং কাদের সাথে দেখা করেছেন, তা নিয়ে এখন বিশদ অনুসন্ধান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় তাদের চলাচলের একটি আংশিক চিত্র পাওয়া গেলেও, বড় একটি সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারী সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত দশটা ১৭ মিনিটে তারা উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে পৌঁছান। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। বার থেকে রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে রেকর্ড হয়েছে। এর ঠিক পর থেকে শুরু হয় দীর্ঘ সময়ের এক অস্পষ্টতা। রাত একটার পর তাদের চলাচলের আর কোনো স্পষ্ট প্রমাণ বা ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তারা কোথায় অবস্থান করছিলেন, তা এখন গোয়েন্দাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যমতে, ওই বার থেকে বের হওয়ার পর তারা আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত এলাকায় দৃশ্যমান হননি। তাদের মোবাইল ফোনের লোকেশন বা কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা মাজার বস্তি এলাকা বা আশপাশের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে গিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাদের উদ্ধারে কোনো কুলকিনারা না মেলায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা শুধু সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর করছেন না। তাদের শেষ সময়ের পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ওই রাতে তাদের যোগাযোগের তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালীন তারা কারো সঙ্গে দেখা করেছিলেন কি না বা কার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু রাত ১১টা ৫১ মিনিটের পর থেকে তাদের আর কোনো ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি, তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে যে তারা খুব সম্ভবত অন্য কোনো পথে বা বিকল্প ব্যবস্থায় যাতায়াত করেছিলেন যা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে ছিল।

এদিকে, এই নিখোঁজের ঘটনার সাথে কোনো পূর্ব শত্রুতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তির সর্বশেষ অবস্থানের সূত্র ধরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাদের শেষ গন্তব্য শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও, তাদের শেষ সাত ঘণ্টার কর্মকাণ্ডই এই রহস্যময় নিখোঁজের চাবিকাঠি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
স্কুল ত্যাগ করে কারখানায় কাজ করা ঝোউ চুনফেই, চীনের শীর্ষ ধনী নারী সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই পাস হবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ আইন নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফ ও দীপের শেষ সাত ঘণ্টার রহস্য উচ্চশিক্ষায় ভর্তিতে আসন সংকট হবে না: আশ্বস্ত করলেন শিক্ষামন্ত্রী রাজধানীর উত্তরায় তাহসিফ সাউরির নতুন সিসিটিভি ফুটেজ রাজপথে সক্রিয় বিরোধী জোট: বিভাগীয় পর্যায়ে লং মার্চ কর্মসূচিতে উত্তপ্ত রাজনীতি মুমতাহিনা টয়া ও বন্ধুরা লালাখালে আনন্দময় ভ্রমণ, ৮টি ছবি প্রকাশ ইদে দেশে ফেরার স্বপ্ন ভেঙে কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলেন দুই প্রবাসী সিরিয়া মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগদানের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাইবার অপরাধের পথ বেছে নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া
Advertisement