বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে, যা সংসদের আসন্ন অধিবেশনেই পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এবং গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সহজতর করতে এই আইনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের যে বৈশ্বিক সংকট চলছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যেই সৌরবিদ্যুৎ আইনটি অন্যতম একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং সরবরাহের ঘাটতি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে। সরকার চেষ্টা করছে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য, তবে রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে রাখার কাজ চলমান রয়েছে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকরা নিজস্ব ব্যবহারের পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বাড়তি বিদ্যুৎ প্রদানের সুযোগ পাবেন, যা বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনবে। এই উদ্দেশ্যে একটি সুনির্দিষ্ট আইন কাঠামোর অভাব ছিল, যা নতুন আইন পাসের মধ্য দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই আইনটি পাস হলে বাড়ির ছাদে বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা অনেক কমে আসবে। বিদ্যুৎ গ্রাহকরা উৎসাহিত হবেন এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন নতুন বিনিয়োগ তৈরি হবে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে এই খাতটি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। সরকার কেবল বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে না, বরং ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে ক্ষুদ্র আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সংস্কৃতিকেও উৎসাহিত করছে। এটি একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব, অন্যদিকে সাশ্রয়ী।
আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারের যে প্রক্রিয়া চলমান, সেটির অংশ হিসেবেই এই সৌরবিদ্যুৎ আইনকে দেখা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খসড়া আইনে সৌরবিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সহজ করা হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকরা সহজেই উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে পারবেন। সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা। মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি পর্যায়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নিরলসভাবে কাজ চলছে এবং নতুন আইনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হবে। সংসদের আসন্ন অধিবেশন শুরুর আগে আইনের চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে একটি সবুজ ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে সরকার আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ