নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফ ও দীপের শেষ সাত ঘণ্টার রহস্য

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ । ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ

রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হওয়া বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি এবং তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের শেষ মুহূর্তের কর্মকাণ্ড নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে। গত ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টা ৩১ মিনিটে তারা দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে চড়ে উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ সাত ঘণ্টার এই সময়ের মধ্যে তারা কোথায় কোথায় গিয়েছেন এবং কাদের সাথে দেখা করেছেন, তা নিয়ে এখন বিশদ অনুসন্ধান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় তাদের চলাচলের একটি আংশিক চিত্র পাওয়া গেলেও, বড় একটি সময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির বাইরে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তদন্তকারী সূত্র ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত দশটা ১৭ মিনিটে তারা উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে পৌঁছান। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেন বলে জানা গেছে। বার থেকে রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে রেকর্ড হয়েছে। এর ঠিক পর থেকে শুরু হয় দীর্ঘ সময়ের এক অস্পষ্টতা। রাত একটার পর তাদের চলাচলের আর কোনো স্পষ্ট প্রমাণ বা ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে তারা কোথায় অবস্থান করছিলেন, তা এখন গোয়েন্দাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রাথমিক তথ্যমতে, ওই বার থেকে বের হওয়ার পর তারা আর কোনো সিসিটিভি ক্যামেরার আওতাভুক্ত এলাকায় দৃশ্যমান হননি। তাদের মোবাইল ফোনের লোকেশন বা কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য এখনই প্রকাশ করা হয়নি। তবে তারা মাজার বস্তি এলাকা বা আশপাশের কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে গিয়েছিলেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাদের উদ্ধারে কোনো কুলকিনারা না মেলায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা শুধু সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর করছেন না। তাদের শেষ সময়ের পরিচিতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ওই রাতে তাদের যোগাযোগের তালিকা যাচাই করা হচ্ছে। রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালীন তারা কারো সঙ্গে দেখা করেছিলেন কি না বা কার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যেহেতু রাত ১১টা ৫১ মিনিটের পর থেকে তাদের আর কোনো ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়নি, তাই ধরে নেওয়া হচ্ছে যে তারা খুব সম্ভবত অন্য কোনো পথে বা বিকল্প ব্যবস্থায় যাতায়াত করেছিলেন যা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতার বাইরে ছিল।

এদিকে, এই নিখোঁজের ঘটনার সাথে কোনো পূর্ব শত্রুতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তির সর্বশেষ অবস্থানের সূত্র ধরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় তাদের শেষ গন্তব্য শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও, তাদের শেষ সাত ঘণ্টার কর্মকাণ্ডই এই রহস্যময় নিখোঁজের চাবিকাঠি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন