সৌদি আরবের রিয়াদে একটি শিল্প কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর নিহত দুই বাংলাদেশি কর্মীর মৃতদেহ ইদের ছুটিতে দেশে পৌঁছেছে। শামীম হোসেন এবং সাব্বির আহমেদ, যাঁরা দুজনই রিয়াদে কাজ করতেন, তাদের দেহ ৮২ দিন পর কফিনে সযত্নে ফেরত আনা হয়েছে।
শামীম হোসেনের পরিবার জানায়, তিনি রিয়াদের একটি গৃহস্থালী পণ্যের কারখানায় কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডে তিনি এবং কয়েকজন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছিলেন। শামীমের পরিবার ইদে তার সঙ্গে মেয়েকে কোলে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, তবে দুঃখজনকভাবে সেই স্বপ্নটি বাস্তবায়িত হয়নি। একই সময়ে, সাব্বির আহমেদের পরিবারও একই রকম শোকের মুখোমুখি হয়েছে; তিনি একই কারখানার আরেকজন কর্মী ছিলেন এবং একই ঘটনার শিকার হয়েছেন।
মৃতদেহের পুনরুদ্ধার ও রপ্তানির প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ ছিল। দুজনের দেহ ৮২ দিন পর, অর্থাৎ প্রায় তিন মাসের বেশি সময়ের পর, বাংলাদেশে পৌঁছেছে। কফিনে সযত্নে রাখা দেহগুলোকে রোজার ইদের প্রথম দিনেই ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা হয়। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে এই দুঃখজনক মুহূর্তটি ভাগাভাগি করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এই ঘটনা আবারও একবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। রিয়াদে কাজ করা বহু বাংলাদেশি শ্রমিকের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই দুঃখজনক ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে। শ্রমিক অধিকার সংস্থা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
দুজনের পরিবার এখন শোকাহত, তবে তারা শামীম ও সাব্বিরের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে চায়। শামীমের মা বলেন, “আমার ছেলে ইদে ফিরে এসে আমাদের সঙ্গে থাকতে চেয়েছিল, কিন্তু ভাগ্য অন্য রকম লিখে দিয়েছে। আমরা তার স্মৃতিকে স্নেহের সঙ্গে স্মরণ করব।” সাব্বিরের পরিবারের একজন সদস্যও একই রকম অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
এই দুজনের মৃত্যুর পর, বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে, রিয়াদে কাজ করা অন্যান্য বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কাজের শর্তাবলী নিশ্চিত করা এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থার উন্নতি করা জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়েছেন।
ইদের ছুটিতে ফিরে আসা প্রত্যাশা করা এই দুই প্রবাসীর কফিনবন্দি ফিরে আসা, দেশের মানুষের হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। তাদের স্মৃতি ও ত্যাগকে সন্মান জানিয়ে, প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রত্যেকের দায়িত্ব।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৬ অপরাহ্ণ