খুঁজুন
, ,

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্ণে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্ণে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর—নিরাপদ পানির সরবরাহ, স্যানিটেশন সুবিধা ও স্বাস্থ্যকর জীবনের অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চার দশকের দীর্ঘ পথচলা উদযাপন করতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আজকের দিনে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছে। ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীটি শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁয়ের ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) তে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদর্শনীটি ওয়াটারএইডের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অংশ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়। এই মাইলফলকে চিহ্নিত করতে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করা মানুষের জীবনের পরিবর্তনকে আলোকিত করতে ৪০টি আলোকচিত্র বেছে নিয়েছে। প্রতিটি ফ্রেমে একেকটি গল্প, একেকটি মুখের রেখা, এবং একেকটি সাফল্যের চিত্র ফুটে আছে, যা দেখায় কীভাবে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বলেন, “চার দশক আগে যখন আমরা এই দেশে প্রবেশ করি, তখন পানির নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন সেবার অভাবের কারণে অসংখ্য স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিল মানুষ। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, আমাদের কাজের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পেয়েছে, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে উঠেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই আলোকচিত্রগুলো শুধু অতীতের সাফল্য নয়, ভবিষ্যতের জন্য একটি দিকনির্দেশকও বটে।

প্রদর্শনীতে দেখা যায় গ্রামীণ এলাকায় কূপের পাশে হাসিখুশি শিশুরা, শহরের স্লাম এলাকায় নতুন টয়লেট ব্যবহারকারী পরিবার, এবং দূরবর্তী দ্বীপে পানির ট্যাঙ্কে পানি সংগ্রহের দৃশ্য। প্রতিটি ছবির পেছনে রয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, সরকারী কর্মী এবং আন্তর্জাতিক দাতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা, যা এই সাফল্যকে সম্ভব করেছে।

প্রদর্শনীটি শুধুমাত্র ছবি দেখার স্থান নয়; এটি একটি ইন্টারেক্টিভ প্ল্যাটফর্ম যেখানে দর্শকরা ছবির সঙ্গে সংযুক্ত গল্পগুলো পড়তে পারেন, ভিডিও ক্লিপে প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দেখতে পারেন এবং সরাসরি প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশ নিতে পারেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থি ও গবেষকদের জন্য একটি আলাদা সেশন রাখা হয়েছে, যেখানে তারা পানির গুণমান, স্যানিটেশন নীতি এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।

ওয়াটারএইডের স্থানীয় অংশীদার সংস্থা, যেমন গ্রামীণ উন্নয়ন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা উল্লেখ করেন যে, সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত কাজের ফলে দেশের পানির নিরাপত্তা সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে গ্রামীন এলাকায় নিরাপদ পানির প্রবেশের হার ৪৫ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রদর্শনীটি আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত আইএবির গ্যালারিতে চলবে এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দর্শকরা প্রবেশের সময় কোনো ফি দিতে হবে না, তবে দান করতে ইচ্ছুক হলে ওয়াটারএইডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন দান করা যাবে। এছাড়াও, প্রদর্শনী শেষে একটি ছোট সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পানির নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ শুধু অতীতের সাফল্যকে স্মরণই নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষকে নিরাপদ পানির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শিরোনামের এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দেশের পানির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

প্রাপ্তবয়স্কদের বিচার ও পারিবারিক জটিলতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব প্রভা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
   
প্রাপ্তবয়স্কদের বিচার ও পারিবারিক জটিলতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব প্রভা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে নিজের মতামত ও দৈনন্দিন জীবনের নানা মুহূর্ত ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পছন্দ করেন। কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময় সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়েও নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। মূলত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষদের চরিত্র ও আচরণ কীভাবে বিচার করা উচিত এবং পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে তিনি তার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।

প্রভা তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে কেবল তার কর্ম বা পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিচার করা অনুচিত। বরং একজন মানুষের সামগ্রিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং তার ব্যক্তিগত সংগ্রামের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। তার মতে, আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা পারিবারিক ও ব্যক্তিগত নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। প্রতিটি পরিবারেই কিছু না কিছু সমস্যা বা টানাপোড়েন থাকে, যা বাইরের মানুষের পক্ষে সবসময় বোঝা সম্ভব হয় না। এই অন্তরালের জীবন বা সংগ্রামের কথা না জেনেই কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করা বা তাকে বিচার করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

অভিনেত্রী আরও বলেন, মানুষের ভুল হতে পারে এবং সেই ভুলের কারণে তাকে স্থায়ীভাবে চিহ্নিত করে ফেলার প্রবণতা আমাদের সমাজে খুব বেশি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং পরিস্থিতি মোকাবিলার ধরণগুলো আলাদা হতে পারে। প্রভা তার লেখার মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছেন, বিচার করার আগে আমাদের প্রত্যেকেরই একটু সহনশীল ও সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। কারো পারিবারিক জীবনের ছোটখাটো বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা ব্যক্তিগত আলোচনায় মন্তব্য করার আগে সেই মানুষটির জীবনের সংগ্রামের দিকগুলো একবার ভেবে দেখা উচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন তারকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ট্রল বা নেতিবাচক মন্তব্য করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। হয়তো সেই প্রেক্ষাপট থেকেই তিনি এমন বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছেন তার ভক্ত ও অনুসারীরা। অনেকেই তার এই বক্তব্যের প্রশংসা করেছেন এবং বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নেটিজেনদের একাংশ মনে করছেন, পাবলিক ফিগার হিসেবে যেকোনো বিষয়ে নিজের মতামত খোলাখুলি প্রকাশ করা প্রভার সাহসিকতার পরিচয় দেয়। বিশেষ করে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করার গুরুত্ব নিয়েও তিনি সচেতন।

এর আগেও প্রভা বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের জীবনদর্শন সম্পর্কে কথা বলেছেন। তিনি সবসময়ই চেষ্টা করেন তার কাজের বাইরেও দর্শকদের সঙ্গে একটি মানবিক সংযোগ তৈরি করতে। এই ধরণের বার্তাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই ভক্তদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শোবিজের ঘনিষ্ঠরা। প্রাপ্তবয়স্কদের অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সংক্রান্ত তার এই বক্তব্যটি তাই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। সব মিলিয়ে, বিতর্ক এড়িয়ে নিজের স্বচ্ছ জীবনবোধকে সবার সামনে তুলে ধরতে এই অভিনেত্রী বরাবরের মতোই সোচ্চার।

একজন তারকা হিসেবে নিজের জীবনকে কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপন করা যায়, তার একটি ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেন প্রভা। পরিবারের প্রতি তার মমতা ও দায়িত্ববোধের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ারেও তিনি যথেষ্ট মনোযোগী। ভক্তরা তার এই ব্যক্তিগত মতামতের পাশাপাশি তার পরবর্তী কাজের অপেক্ষায় রয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ার এই অস্থির সময়ে তার এমন পরিণত ও চিন্তাশীল বার্তা অনেকের জন্যই শিক্ষণীয় হতে পারে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়, তবুও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ও মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তনের জন্য তিনি প্রায়ই এমন পোস্ট দিয়ে থাকেন।

বিজ্ঞাপনে এআই প্রযুক্তির প্রভাব, গুগলের বাজারমূল্যে বড় ধাক্কা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বিজ্ঞাপনে এআই প্রযুক্তির প্রভাব, গুগলের বাজারমূল্যে বড় ধাক্কা

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উত্থান নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও, দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎসগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এমনই এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টটির বিজ্ঞাপন আয়ের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিক্রির হিড়িক শুরু করেছেন। এর ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে গুগলের সামগ্রিক বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মুছে গেছে, যা প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

গুগলের আয়ের সিংহভাগই আসে বিভিন্ন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন থেকে। কিন্তু বর্তমানে ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আসছে। মানুষ এখন প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনের চেয়ে এআই চ্যাটবট বা এআই-চালিত উত্তরের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের প্রচারণার কৌশলে পরিবর্তন আনছেন। এআই প্রযুক্তি সরাসরি উত্তর প্রদান করায় ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার প্রবণতা কমে যাচ্ছে, যা গুগলের মূল ব্যবসা মডেলে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআইয়ের এই দ্রুত প্রসার গুগলের বিজ্ঞাপনী আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বাজারে এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে গুগল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং তার বিপরীতে আয়ের ভারসাম্যহীনতাকে। কোম্পানিটি নিজেদের এআই প্ল্যাটফর্ম বা জেমিনাই উন্নত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। অথচ এই নতুন প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা বিজ্ঞাপন রাজস্ব এখনো কোম্পানির মূল সার্চ বিজ্ঞাপনের আয়ের ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে গুগলের সার্চ বিজ্ঞাপনের এই রাজত্ব হয়তো আরও সংকুচিত হয়ে আসবে এবং তাতে কোম্পানির সার্বিক মুনাফার ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ তৈরি হবে।

শেয়ার বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারানো কোনো ছোট বিষয় নয়, বরং এটি নির্দেশ করে যে প্রতিষ্ঠানটি একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। গুগল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে যে তারা এআই ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তাদের বিজ্ঞাপনের ধরনেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তবে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন আর্থিক প্রতিবেদনে আসতে কতটা সময় লাগবে, তা নিয়েই সংশয় কাটছে না বাজার বিশ্লেষকদের।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু গুগল নয়, বরং মাইক্রোসফট বা ফেসবুকের মতো অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা। গুগল যদি দ্রুত তাদের বিজ্ঞাপন মডেলকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে, তবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যাবে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে তাদের এই বিশাল অংকের ক্ষতি পুষিয়ে আবারও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি শেয়ারের সূচকগুলোর দিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞেরা, যেখানে গুগলের এই পতন একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কুকুর পোষা ও ইসলাম: প্রচলিত ধারণার বাস্তবতা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
কুকুর পোষা ও ইসলাম: প্রচলিত ধারণার বাস্তবতা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি

আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা বেশ প্রচলিত রয়েছে যে, কুকুর পোষা পাপের কাজ এবং বিড়াল পোষা একটি সুন্নত বা পুণ্যময় আমল। এই বিশ্বাসের কারণে অনেকে কুকুরকে এড়িয়ে চলেন বা ঘৃণার চোখে দেখেন, আবার বিড়ালকে পরম যত্নে বাড়িতে স্থান দেন। কিন্তু এই ধারণাটি ইসলামী আইন বা শরীয়াহর আলোকে কতটা সঠিক, তা যাচাই করা প্রয়োজন। আসলে ইসলামে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বা অযথা ঘৃণা প্রদর্শনের কোনো স্থান নেই।

ইসলামের দৃষ্টিতে কুকুর বা বিড়াল কোনোটিই পাপ বা পুণ্যের মাপকাঠি নয়। বরং ইসলামে প্রতিটি প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিড়ালের বিষয়ে প্রচলিত ধারণার কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিড়াল পছন্দ করতেন এবং সাহাবীদের মধ্যে কেউ কেউ বিড়াল পুষতেন বলে ইতিহাসে বর্ণিত আছে। তবে বিড়াল পোষা ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কোনোটিই নয়। এটি মূলত একটি ব্যক্তিগত পছন্দ বা শখের বিষয়। কেউ যদি বিড়াল পোষেন এবং সেটির সঠিক যত্ন ও খোরপোশের ব্যবস্থা করেন, তবে তিনি সওয়াব পেতে পারেন। কিন্তু এটিকে সরাসরি সুন্নত মনে করা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির ফল।

কুকুরের বিষয়ে আমাদের সমাজে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তার পেছনে বেশ কিছু ভুল ব্যাখ্যা কাজ করে। অনেক মানুষ মনে করেন কুকুর স্পর্শ করা বা কুকুর পালন করা পুরোপুরি হারাম। অথচ ফিকহ শাস্ত্রের বিশদ আলোচনায় দেখা যায়, প্রয়োজনের খাতিরে কুকুর পালনের অনুমতি রয়েছে। যেমন, নিরাপত্তার প্রয়োজনে, কৃষিকাজে বা শিকারের কাজে কুকুর ব্যবহারের বৈধতা ইসলামে রয়েছে। তবে বিনা প্রয়োজনে ঘরের ভেতরে কুকুর রাখা ফেরেশতাদের রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ হতে পারে বলে অনেক আলেম অভিমত দিয়েছেন। তাই বলে কুকুরকে ঘৃণা করা বা তাকে আঘাত করা ইসলামের শিক্ষা নয়।

ইসলামের ইতিহাস ও রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি প্রাণীদের প্রতি দয়ালু ছিলেন। এমনকি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়ে এক নারী জান্নাত লাভ করেছিলেন—এমন ঘটনা হাদীসের কিতাবগুলোতে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। এই ঘটনাটিই প্রমাণ করে যে, কুকুর কোনো ঘৃণিত প্রাণী নয়, বরং আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া প্রদর্শন করা ইসলামের একটি অন্যতম শিক্ষা। তাই কুকুরকে অকারণে ঘৃণা করা বা তাকে কষ্ট দেওয়া ইসলামী মূল্যবোধের পরিপন্থী।

আজকের সময়ে কুকুর ও বিড়াল পোষা মূলত মানুষের জীবনধারা ও শখের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসলাম শখের এই বিষয়গুলোকে নিষিদ্ধ করেনি, তবে তা যেন ধর্মীয় রীতিনীতি বা পবিত্রতা রক্ষার ক্ষেত্রে অন্তরায় না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে। কুকুর বা বিড়াল পোষার ক্ষেত্রে মূল সতর্কতা হলো তাদের যথাযথ খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। ইসলামে অকারণে কোনো প্রাণীকে আটকে রেখে কষ্ট দেওয়া নিষেধ। যদি কেউ প্রাণী পুষতে গিয়ে তার অধিকার ক্ষুণ্ণ করে বা তাকে অভুক্ত রাখে, তবে তা অবশ্যই পাপের কাজ হিসেবে গণ্য হবে।

পরিশেষে বলা যায়, কুকুর পোষা পাপ এবং বিড়াল পোষা সুন্নত—এ ধরনের অতিরঞ্জিত ও ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। ইসলামের শিক্ষা হলো প্রতিটি প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া। বিড়াল বা কুকুর কোনোটিই ধর্মীয় ইবাদতের শর্ত নয়। বরং এগুলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সাথে জড়িত প্রাণী। এদের প্রতি দয়া ও মায়া দেখানো মানবিক গুণ। সমাজ ও ধর্মীয় আলোচনায় এ ধরনের বিষয়গুলোতে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন যাতে মানুষ ভ্রান্ত বিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে অহেতুক কোনো প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন না করে।

সর্বশেষ
প্রাপ্তবয়স্কদের বিচার ও পারিবারিক জটিলতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব প্রভা বিজ্ঞাপনে এআই প্রযুক্তির প্রভাব, গুগলের বাজারমূল্যে বড় ধাক্কা কুকুর পোষা ও ইসলাম: প্রচলিত ধারণার বাস্তবতা ও ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি কক্সবাজারের উখিয়া ইনানীতে গ্যাসের আগুন জ্বলে, পেট্রোবাংলা রিলিফ কূপের পরিকল্পনা জানাল প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্ণে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা: রোববার গঠন হবে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ঢাকায় হ্যালোইন উদযাপন: রঙিন সাজসজ্জা ও নানা অনুষ্ঠান তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কারা, উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা
Advertisement