বিজ্ঞাপনে এআই প্রযুক্তির প্রভাব, গুগলের বাজারমূল্যে বড় ধাক্কা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ । ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ

প্রযুক্তি বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উত্থান নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলেও, দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎসগুলোতে এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এমনই এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল। সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্টটির বিজ্ঞাপন আয়ের প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ না হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তাদের শেয়ার বিক্রির হিড়িক শুরু করেছেন। এর ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে গুগলের সামগ্রিক বাজারমূল্য থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মুছে গেছে, যা প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।

গুগলের আয়ের সিংহভাগই আসে বিভিন্ন ডিজিটাল বিজ্ঞাপন থেকে। কিন্তু বর্তমানে ব্যবহারকারীদের তথ্য খোঁজার পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আসছে। মানুষ এখন প্রচলিত সার্চ ইঞ্জিনের চেয়ে এআই চ্যাটবট বা এআই-চালিত উত্তরের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে বিজ্ঞাপনদাতারা তাদের প্রচারণার কৌশলে পরিবর্তন আনছেন। এআই প্রযুক্তি সরাসরি উত্তর প্রদান করায় ব্যবহারকারীদের বিজ্ঞাপনে ক্লিক করার প্রবণতা কমে যাচ্ছে, যা গুগলের মূল ব্যবসা মডেলে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এআইয়ের এই দ্রুত প্রসার গুগলের বিজ্ঞাপনী আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বাজারে এই অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে গুগল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং তার বিপরীতে আয়ের ভারসাম্যহীনতাকে। কোম্পানিটি নিজেদের এআই প্ল্যাটফর্ম বা জেমিনাই উন্নত করতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে। অথচ এই নতুন প্ল্যাটফর্ম থেকে আসা বিজ্ঞাপন রাজস্ব এখনো কোম্পানির মূল সার্চ বিজ্ঞাপনের আয়ের ঘাটতি পূরণ করতে পারছে না। বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে গুগলের সার্চ বিজ্ঞাপনের এই রাজত্ব হয়তো আরও সংকুচিত হয়ে আসবে এবং তাতে কোম্পানির সার্বিক মুনাফার ওপর দীর্ঘমেয়াদী চাপ তৈরি হবে।

শেয়ার বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীরা অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য হারানো কোনো ছোট বিষয় নয়, বরং এটি নির্দেশ করে যে প্রতিষ্ঠানটি একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। গুগল কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানিয়েছে যে তারা এআই ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে নিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তাদের বিজ্ঞাপনের ধরনেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। তবে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন আর্থিক প্রতিবেদনে আসতে কতটা সময় লাগবে, তা নিয়েই সংশয় কাটছে না বাজার বিশ্লেষকদের।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু গুগল নয়, বরং মাইক্রোসফট বা ফেসবুকের মতো অন্যান্য প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্যও এটি একটি সতর্কবার্তা। গুগল যদি দ্রুত তাদের বিজ্ঞাপন মডেলকে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে, তবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকে যাবে। এখন দেখার বিষয়, প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে তাদের এই বিশাল অংকের ক্ষতি পুষিয়ে আবারও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি শেয়ারের সূচকগুলোর দিকে নজর রাখছেন বিশেষজ্ঞেরা, যেখানে গুগলের এই পতন একটি বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন