খুঁজুন
, ,

ঢাকায় হ্যালোইন উদযাপন: রঙিন সাজসজ্জা ও নানা অনুষ্ঠান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
ঢাকায় হ্যালোইন উদযাপন: রঙিন সাজসজ্জা ও নানা অনুষ্ঠান

হ্যালোইন, যদিও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কোনো উৎসব নয়, তবু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বায়ন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং আন্তর্জাতিক বিনোদন সংস্কৃতির প্রভাবে রাজধানী ঢাকায় এর উপস্থিতি দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভৌতিক সাজসজ্জা, মুখোশ, কস্টিউম পার্টি এবং হরর সিনেমার পরিবেশনা নিয়ে হ্যালোইন উদযাপনের আগ্রহ বাড়ছে, যা এখন নগর জীবনের একটি স্বতন্ত্র বিনোদনমূলক দিক হয়ে উঠেছে।

শহরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এই দিনটিকে বিশেষভাবে সাজিয়ে তুলেছে। গুলশানের বড় শপিং মলগুলোতে ভয়ানক থিমের ডেকোরেশন, আলোকসজ্জা এবং হরর-সিনেমার বিশেষ স্ক্রিনিং অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে ধানমন্ডির ক্যাফে ও রেস্টুরেন্টগুলোতে কস্টিউম পার্টি ও ফটো বুথ স্থাপন করা হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ভ্যাম্পায়ার, জোকার, জাদুকরী ইত্যাদি ভৌতিক চরিত্রে সজ্জিত হয়ে ছবি তোলার সুযোগ পান।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিও হ্যালোইনের উদযাপনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ক্লাব ও ছাত্র সংগঠনগুলো ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে হরর থিমের নাটক, মেকআপ ও কস্টিউম প্রতিযোগিতা এবং ভৌতিক ঘর (হান্টেড হাউস) তৈরি করে। এই ধরনের উদ্যোগগুলো তরুণদের সৃজনশীলতা ও দলগত কাজের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে, পাশাপাশি হ্যালোইনের প্রতি তাদের আগ্রহকে আরও উজ্জীবিত করে।

শহরের বিভিন্ন পার্ক ও পাবলিক স্পেসেও হ্যালোইনের থিমে আলোকসজ্জা ও সাজসজ্জা দেখা যায়। রাতের বেলা রঙিন আলো, জালবদ্ধ কঙ্কাল ও ভয়ঙ্কর মুখোশের সাজসজ্জা পথচারীদের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে। কিছু স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই সুযোগে বিশেষ ছাড় ও প্রচারমূলক অফার প্রদান করে, যা গ্রাহকদের আকৃষ্ট করে এবং হ্যালোইনের বাণিজ্যিক দিককে সমৃদ্ধ করে।

সামাজিক মিডিয়ার ভূমিকা এই উদযাপনে অপরিসীম। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মাধ্যমে তরুণরা তাদের কস্টিউম, সাজসজ্জা ও পার্টির মুহূর্ত শেয়ার করে, যা অন্যদেরও অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করে। হ্যাশট্যাগ #DhakaHalloween এবং #Halloween2026 ব্যবহার করে পোস্ট করা ছবিগুলো দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়, ফলে হ্যালোইনের জনপ্রিয়তা আরও ত্বরান্বিত হয়।

হ্যালোইনের এই উত্সবমুখর পরিবেশে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্থানীয় পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও সতর্কতা অবলম্বন করে। বড় মলে ও জনসমাগমস্থলে নিরাপত্তা গার্ডের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়, যাতে কোনো অপ্রয়োজনীয় ঘটনা ঘটতে না পারে। একই সঙ্গে, হ্যালোইনের থিমে সাজানো খাবার ও পানীয়ের মান নিশ্চিত করার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগও তদারকি করে।

সামগ্রিকভাবে, ঢাকায় হ্যালোইনের উদযাপন এখন একটি বহুমুখী সাংস্কৃতিক ও বিনোদনমূলক ইভেন্টে রূপান্তরিত হয়েছে। এটি শুধু ভৌতিক সাজসজ্জা ও কস্টিউমের মজা নয়, বরং সামাজিক সংযোগ, সৃজনশীল প্রকাশ এবং বাণিজ্যিক সুযোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্তর্জাতিক উৎসবের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিশ্রণ আরও বিস্তৃত হতে পারে, যা শহরের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করবে।

কক্সবাজারের উখিয়া ইনানীতে গ্যাসের আগুন জ্বলে, পেট্রোবাংলা রিলিফ কূপের পরিকল্পনা জানাল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৭ পূর্বাহ্ণ
   
কক্সবাজারের উখিয়া ইনানীতে গ্যাসের আগুন জ্বলে, পেট্রোবাংলা রিলিফ কূপের পরিকল্পনা জানাল

কক্সবাজার জেলার উখিয়া ইনানী গ্রামে গত সপ্তাহে শুরু হওয়া গভীর নলকূপ খননের কাজের সময় মাটির নিচ থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস বেরিয়ে এসে জ্বলে ওঠে। গ্যাসের অপ্রত্যাশিত নির্গমন এবং তাৎক্ষণিক দাহের ফলে কূপের আশেপাশে একটি অগ্নি শিখা গড়ে উঠে, যা চার দিন ধারাবাহিকভাবে জ্বলতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মীরা প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ছিলেন, তবে কোনো প্রাণহানি বা বড় আঘাতের খবর এখনো জানানো হয়নি।

অগ্নি শিখা প্রথমে ছোট আকারের হলেও, গ্যাসের ধারাবাহিক সরবরাহের কারণে তা দ্রুতই বিস্তৃত হয়। স্থানীয় প্রশাসন সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা পাঠায় এবং গ্যাসের উৎস সনাক্ত করার জন্য বিশেষজ্ঞ দল গঠন করে। গ্যাসের উৎস নির্ণয়ের পর, নিরাপত্তা সংস্থা গ্যাসের চাপ ও প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য সাময়িকভাবে কূপের কাজ বন্ধ করে দেয়।

এই ঘটনার পর, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্স (বাংলাদেশ পার্টনারশিপস এক্সপ্লোরেশন) উভয়ই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। দুই সংস্থা একত্রে গ্যাসের সঠিক গঠন, চাপ এবং সম্ভাব্য বিস্ফোরণ ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বিশ্লেষণ চালায়। পর্যবেক্ষণকালে গ্যাসের প্রবাহের হার ও দহন প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিভিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পেট্রোবাংলা ১৫ দিন পর্যবেক্ষণের পর রিলিফ কূপ (relief well) খননের পরিকল্পনা জানায়। রিলিফ কূপ হল এমন একটি অতিরিক্ত কূপ, যা মূল কূপে গ্যাসের অতিরিক্ত চাপ কমাতে এবং অগ্নি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। রিলিফ কূপের মাধ্যমে গ্যাসকে নিরাপদে বের করে আনা এবং মূল কূপের কাজ পুনরায় শুরু করার পূর্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পেট্রোবাংলা এই রিলিফ কূপের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও মানবসম্পদ প্রস্তুত করেছে এবং কাজের সূচনা শীঘ্রই করা হবে বলে জানায়।

বাপেক্সের প্রতিনিধিও উল্লেখ করেন যে, গ্যাসের দাহের মূল কারণ সম্ভবত কূপের ড্রিলিং প্রক্রিয়ায় গ্যাসের সঠিক সিলিং না হওয়া। তারা ভবিষ্যতে এমন ধরনের দুর্ঘটনা রোধের জন্য ড্রিলিং প্রক্রিয়ার মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করবে এবং নিয়মিত নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ চালু করবে। এছাড়া, স্থানীয় জনগণকে নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদান এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সক্ষম করার জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানায়। তারা অগ্নি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য ফায়ার ব্রিগেড ও মেডিকেল টিমকে স্থায়ীভাবে উপস্থিত রাখবে এবং গ্যাসের সম্ভাব্য লিকের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাবে। এছাড়া, কূপের আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত স্থানান্তর নিশ্চিত করতে অস্থায়ী শেল্টার স্থাপন করা হবে।

এই ঘটনার ফলে কক্সবাজারের গ্যাস শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং কঠোর নিয়মাবলীর প্রয়োজনীয়তা আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন যে, প্রাকৃতিক গ্যাসের ড্রিলিং কাজের সময় সঠিক সিলিং, চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা না থাকলে এমন অপ্রত্যাশিত দাহের ঝুঁকি বাড়ে। ভবিষ্যতে গ্যাসের নিরাপদ উত্তোলন ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত মানদণ্ডের পাশাপাশি নিয়মিত অডিট ও তদারকি প্রয়োজন।

গ্যাসের অগ্নি শিখা এখনো সম্পূর্ণভাবে নিভে যায়নি, তবে রিলিফ কূপের কাজ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আশা করা হচ্ছে। পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের সমন্বিত প্রচেষ্টা, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা এবং জনগণের সহযোগিতায় এই দুর্ঘটনা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে উভয় সংস্থা আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৬ পূর্বাহ্ণ
   
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত জাপান সফর বাংলাদেশের জন্য এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। গত ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সফর শেষে দেশে ফেরার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এর ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, জাপানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার যে জোরালো প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, তা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। বিশেষ করে ছয়শো ত্রিশ কোটি ডলারের বিপুল বিনিয়োগের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পায়নে বড় ধরনের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে জানান, শুধু সরকারি পর্যায়েই নয়, জাপানি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও বাংলাদেশে পুঁজি বিনিয়োগের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দেশ জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। এই সফরে বিনিয়োগের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন ক্ষেত্রগুলো নিয়েও জাপানি পক্ষ থেকে বেশ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। জাপানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনশক্তিকে কীভাবে দক্ষ করে বিশ্বমানের করে গড়ে তোলা যায়, তা নিয়েও দুই দেশের নীতিনির্ধারকরা একমত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিলে তা বাংলাদেশের শিল্পখাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। জাপানি বিনিয়োগ মূলত ম্যানুফ্যাকচারিং, তথ্যপ্রযুক্তি এবং লজিস্টিক খাতের মতো উচ্চ প্রবৃদ্ধিশীল শিল্পে আসার সম্ভাবনা প্রবল। জাপানিদের কাজের শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সংস্কৃতি বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। এছাড়া মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক যে আলোচনার কথা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, তা বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য জাপানের শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ কিংবা সেখানে উন্নত প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পথকে আরও প্রশস্ত করবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর কেবল অর্থনৈতিক বিনিয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককেও এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। জাপানের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকগুলোতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। সব মিলিয়ে চার দিনের এই সফরের ফলাফল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির এক বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।

বর্তমানে সরকারিভাবে এই বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলোকে কার্যকর এবং ত্বরান্বিত করার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ইতিমধ্যেই জাপানি বিনিয়োগকারীদের চাহিদা এবং বাংলাদেশের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছে। বিনিয়োগের এই ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে তা বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন মূলত সময়ের অপেক্ষা, কীভাবে এই প্রতিশ্রুত বিনিয়োগ বাস্তবে রূপ নেয় এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে।

ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্ণে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্ণে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর—নিরাপদ পানির সরবরাহ, স্যানিটেশন সুবিধা ও স্বাস্থ্যকর জীবনের অভ্যাস গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চার দশকের দীর্ঘ পথচলা উদযাপন করতে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ আজকের দিনে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেছে। ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শিরোনামের এই প্রদর্শনীটি শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁয়ের ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ (আইএবি) তে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রদর্শনীটি ওয়াটারএইডের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অংশ হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়। এই মাইলফলকে চিহ্নিত করতে সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করা মানুষের জীবনের পরিবর্তনকে আলোকিত করতে ৪০টি আলোকচিত্র বেছে নিয়েছে। প্রতিটি ফ্রেমে একেকটি গল্প, একেকটি মুখের রেখা, এবং একেকটি সাফল্যের চিত্র ফুটে আছে, যা দেখায় কীভাবে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি বলেন, “চার দশক আগে যখন আমরা এই দেশে প্রবেশ করি, তখন পানির নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন সেবার অভাবের কারণে অসংখ্য স্বাস্থ্য সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিল মানুষ। আজ আমরা গর্বের সঙ্গে বলতে পারি যে, আমাদের কাজের ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পেয়েছে, স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটেছে এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে উঠেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই আলোকচিত্রগুলো শুধু অতীতের সাফল্য নয়, ভবিষ্যতের জন্য একটি দিকনির্দেশকও বটে।

প্রদর্শনীতে দেখা যায় গ্রামীণ এলাকায় কূপের পাশে হাসিখুশি শিশুরা, শহরের স্লাম এলাকায় নতুন টয়লেট ব্যবহারকারী পরিবার, এবং দূরবর্তী দ্বীপে পানির ট্যাঙ্কে পানি সংগ্রহের দৃশ্য। প্রতিটি ছবির পেছনে রয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক, সরকারী কর্মী এবং আন্তর্জাতিক দাতাদের সমন্বিত প্রচেষ্টা, যা এই সাফল্যকে সম্ভব করেছে।

প্রদর্শনীটি শুধুমাত্র ছবি দেখার স্থান নয়; এটি একটি ইন্টারেক্টিভ প্ল্যাটফর্ম যেখানে দর্শকরা ছবির সঙ্গে সংযুক্ত গল্পগুলো পড়তে পারেন, ভিডিও ক্লিপে প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দেখতে পারেন এবং সরাসরি প্রশ্নোত্তর সেশনে অংশ নিতে পারেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থি ও গবেষকদের জন্য একটি আলাদা সেশন রাখা হয়েছে, যেখানে তারা পানির গুণমান, স্যানিটেশন নীতি এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।

ওয়াটারএইডের স্থানীয় অংশীদার সংস্থা, যেমন গ্রামীণ উন্নয়ন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা উল্লেখ করেন যে, সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত কাজের ফলে দেশের পানির নিরাপত্তা সূচক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। বিশেষ করে ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সময়ে গ্রামীন এলাকায় নিরাপদ পানির প্রবেশের হার ৪৫ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রদর্শনীটি আগামী দুই সপ্তাহ পর্যন্ত আইএবির গ্যালারিতে চলবে এবং সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দর্শকরা প্রবেশের সময় কোনো ফি দিতে হবে না, তবে দান করতে ইচ্ছুক হলে ওয়াটারএইডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন দান করা যাবে। এছাড়াও, প্রদর্শনী শেষে একটি ছোট সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পানির নিরাপত্তা ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ শুধু অতীতের সাফল্যকে স্মরণই নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও বেশি মানুষকে নিরাপদ পানির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ শিরোনামের এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দেশের পানির নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

সর্বশেষ
কক্সবাজারের উখিয়া ইনানীতে গ্যাসের আগুন জ্বলে, পেট্রোবাংলা রিলিফ কূপের পরিকল্পনা জানাল প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর: ৬৩০ কোটি ডলার বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ৪০ বছর পূর্ণে ‘সুখ ফুটেছে মুখের রেখায়’ আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন শ্রমমন্ত্রী ঘোষণা: রোববার গঠন হবে তৈরি পোশাক শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ড জাতীয় চার্চ পরিষদের ৭৫ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন ঢাকায় হ্যালোইন উদযাপন: রঙিন সাজসজ্জা ও নানা অনুষ্ঠান তাহসিফের মৃত্যু: ধাওয়া দেওয়া ব্যক্তিরা কারা, উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা লন্ডনে কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে খুঁজছে ব্রিটিশ পুলিশ ইনানীর ভূগর্ভে গ্যাসের সঙ্গে তেলের অস্তিত্ব, আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লাগতে পারে ১৫ দিন রাজধানীর গুলশানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ধারালো চাকুসহ গ্রেফতার ১
Advertisement