খুঁজুন
, ,

হাটহাজারীতে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
হাটহাজারীতে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবস্থিত সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে শিশুদের খোঁজখবর নিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং শিশুদের জীবনযাত্রার মান যাচাই করেন এবং শিশুদের হাতে তৈরি উপহার গ্রহণ করেন।

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবস্থিত সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। আজ সকালে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে পৌঁছালে সেখানকার কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে স্বাগত জানানো হয়। মূলত সুবিধাবঞ্চিত এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা শিশুদের জীবনমান উন্নয়ন ও তাদের আবাসন ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যেই মন্ত্রীর এই সফর।

পরিদর্শনকালে সমাজকল্যাণমন্ত্রী কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং শিশুদের সাথে সরাসরি কথা বলেন। তিনি কেন্দ্রের আবাসিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার পরিবেশ এবং দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা ও বিনোদনের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। মন্ত্রী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোতে যারা আশ্রয় নিয়েছে, তারা যেন কোনোভাবেই অবহেলার শিকার না হয় এবং তাদের বেড়ে ওঠার জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

পরিদর্শনের এক পর্যায়ে সেখানে থাকা শিশুদের সাথে মন্ত্রী কিছুটা সময় অতিবাহিত করেন। এই সময়ে শিশুরা তাদের সৃজনশীল প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পায়। শিশুরা নিজেদের হাতে তৈরি পুঁতির শোপিস এবং তাজমহলের একটি শিল্পকর্ম মন্ত্রীকে উপহার হিসেবে প্রদান করে। এমন সুন্দর আয়োজনে মন্ত্রী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং শিশুদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সৃজনশীল কাজগুলো শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের কাজ থেকে শিশুরা যেন উৎসাহ পায়, সেদিকে নজর রাখতে তিনি তত্ত্বাবধায়কদের আহ্বান জানান।

মন্ত্রী আরও বলেন যে, সরকার শিশু অধিকার সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে যেসব শিশু পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বা বিভিন্ন কারণে সরকারি সহায়তায় এই কেন্দ্রে আশ্রয় পেয়েছে, তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তাই পুনর্বাসন কেন্দ্রে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

পরিদর্শন শেষে সমাজকল্যাণমন্ত্রী কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে এক সংক্ষিপ্ত বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তিনি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা, তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না বলে তিনি সতর্ক বার্তা দেন এবং শিশুদের সর্বোচ্চ সেবাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, হাটহাজারী সরকারি শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রটি দীর্ঘ সময় ধরে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। মন্ত্রীর আজকের এই সফর কেন্দ্রটির কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন উদ্দীপনা জোগাবে বলে আশা করছেন স্থানীয় সংশ্লিষ্টরা। আগামী দিনগুলোতে শিশুদের মানসম্মত জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সরকার আরও বেশি সহায়তা প্রদান করবে বলেও মন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা নিশ্চিত করেছেন।

নেত্রকোনায় শতবর্ষী ধর্মপল্লীর চুরি যাওয়া ঘণ্টা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
নেত্রকোনায় শতবর্ষী ধর্মপল্লীর চুরি যাওয়া ঘণ্টা উদ্ধার

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় শতবর্ষী রানীখং সাধু যোসেফের খ্রিষ্টীয় ধর্মপল্লী থেকে খোয়া যাওয়া ৪০ কেজি ওজনের ঘণ্টাটি উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রানীখং সাধু যোসেফের খ্রিষ্টীয় ধর্মপল্লী থেকে চুরি হয়ে যাওয়া ৪০ কেজি ওজনের সেই মূল্যবান ঘণ্টাটি শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনাটি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং এলাকাবাসীর মধ্যে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। প্রায় শতবর্ষী এই ধর্মপল্লীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে সেই হারিয়ে যাওয়া ঘণ্টাটি পুলিশের হস্তগত হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে কোনো এক রাতে দুষ্কৃতিকারীরা কৌশলে ধর্মপল্লীর ভেতরে প্রবেশ করে। কোনো এক ফাঁকে তারা বিশালাকার এই ঘণ্টাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে ঘণ্টাটি যথাস্থানে দেখতে না পেয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত দুর্গাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। প্রায় ৪০ কেজি ওজনের একটি ধাতব ঘণ্টা কীভাবে সরানো হলো এবং সেটি কারাই বা নিয়ে গেল, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে শতাব্দীপ্রাচীন এই গির্জাটির ধর্মীয় ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এই ঘণ্টার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি হারিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ মাঠে নামে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয় এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। অবশেষে পুলিশি তৎপরতায় উদ্ধার করা হয় সেই ঘণ্টাটি। যদিও এ ঘটনায় ঠিক কতজন জড়িত বা তারা কীভাবে এটি সরিয়েছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ ধরনের ঐতিহাসিক নিদর্শনের চুরি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধার হওয়া ঘণ্টাটি এখন আইনি হেফাজতে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা আবার গির্জা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনগণ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দুর্গাপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তারা স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন যে, ধর্মীয় উপাসনালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের অপরাধ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। অতীতেও এই এলাকায় বড় ধরনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেনি, তাই এবারকার এই চুরির ঘটনা সবাইকে বেশ অবাক করেছে।

রানীখং সাধু যোসেফের খ্রিষ্টীয় ধর্মপল্লীটি কেবল একটি প্রার্থনার স্থান নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে প্রতিবছর অনেক মানুষ নানা ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে আসেন। ঘণ্টাটি উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা স্বস্তি জানিয়েছেন এবং পুলিশের এই দ্রুত তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বর্তমানে গির্জা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ঘণ্টাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় সব আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করার পর তা পুনরায় গির্জায় স্থাপন করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পারমাণবিক রণতরির পথে চীন: ২০২৭ সালেই সাগরে ভাসার সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
পারমাণবিক রণতরির পথে চীন: ২০২৭ সালেই সাগরে ভাসার সম্ভাবনা

বিশ্বের সামরিক পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে চীন। বিশেষ করে সমুদ্রসীমায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে বেইজিং নিয়মিত বিরতিতে নতুন নতুন যুদ্ধজাহাজ নৌবহরে যুক্ত করছে। এরই ধারাবাহিকতায় চীনের চতুর্থ বিমানবাহী রণতরি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পাওয়া স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বিশালাকার এই রণতরিটি সম্ভবত ২০২৭ সালের মধ্যেই পানিতে নামানো হতে পারে। এটি চীনের জন্য একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে কারণ এটি দেশটির প্রথম পারমাণবিক শক্তিচালিত রণতরি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামরিক পর্যবেক্ষক ও গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই নতুন রণতরিটি বেইজিংয়ের চলমান নৌ-উন্নয়ন প্রকল্পের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত কয়েক বছর ধরেই চীন তাদের নৌবাহিনীকে আধুনিকীকরণ করতে বিশাল বিনিয়োগ করেছে। নিজ উপকূলের সীমানা ছাড়িয়ে দূরবর্তী সাগরেও নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে তারা। পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের সুবিধা হলো, এই রণতরি দীর্ঘ সময় জ্বালানি সংকটে না পড়েই সমুদ্রে অবস্থান করতে পারবে। ফলে এটি বিশ্বজুড়ে চীনা সামরিক উপস্থিতির নতুন অধ্যায় তৈরি করবে।

স্যাটেলাইট থেকে সংগৃহীত ছবিগুলোতে জাহাজটির কাঠামোর বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা গেছে। সাধারণত বিমানবাহী রণতরি নির্মাণের কাজ বেশ দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া হয়। তবে চীনের জাহাজ নির্মাণ কারখানায় যেভাবে দ্রুতগতিতে এই কাজ এগিয়ে চলছে, তা আন্তর্জাতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী বছর নাগাদ জাহাজটির মূল কাঠামো তৈরির কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হতে পারে এবং এরপরই এটি সাগরে ভাসানোর জন্য প্রস্তুত করা হবে।

চীন বরাবরই তাদের সামরিক উন্নয়নের বিষয়টি সরাসরি প্রকাশ করে না। তবে মার্কিনসহ বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা নিয়মিতভাবে স্যাটেলাইট তথ্যের মাধ্যমে বেইজিংয়ের সামরিক সক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে থাকেন। তাদের মতে, পিপলস লিবারেশন আর্মির নৌবাহিনী এখন কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়, বরং দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জনেই মনোযোগী। এই নতুন রণতরিটি সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি বড় সংযোজন।

বর্তমানে চীন যেসব রণতরি ব্যবহার করছে, সেগুলোর সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। নতুন এই রণতরিটি পারমাণবিক প্রযুক্তির হওয়ায় এর গতি, স্থায়ীত্ব এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা আগের জাহাজগুলোর চেয়ে অনেক গুণ বেশি হবে। এর ফলে চীন তাদের সামরিক কৌশল আরও নমনীয়ভাবে সাজাতে পারবে। বিশেষ করে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখা বা আধিপত্য ধরে রাখতে এই রণতরি চীনের জন্য তুরুপের তাস হতে পারে।

যদিও চীন সরকারের পক্ষ থেকে এই রণতরি সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। ২০২৭ সালে যদি সত্যি এটি পানিতে নামানো হয়, তবে এটি কেবল চীনের নৌবাহিনীর শক্তি বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়বে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বেইজিং এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে তাদের থামানো কঠিন। আগামী কয়েক বছর তাই দক্ষিণ চীন সাগরসহ পুরো অঞ্চলটির ওপরই সামরিক পর্যবেক্ষকদের কড়া নজর থাকবে।

কূটনৈতিক তৎপরতায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়ল তিন বছর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
কূটনৈতিক তৎপরতায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়ল তিন বছর

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং সরকারের সুপরিকল্পিত উদ্যোগের এক বড় সাফল্য হিসেবে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিমূলক সময়সীমা বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সরকারের কঠোর পরিশ্রম এবং নিবিড় যোগাযোগের ফলেই এই বাড়তি সময় পাওয়া গেছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রথমে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতির গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সময়সীমা বৃদ্ধির জন্য সরকার জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিল। সেই প্রচেষ্টার ফলেই এখন এই প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সাল পর্যন্ত নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও তিন বছর বাড়তি সময় পেল, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের পথে এই সময়সীমা বৃদ্ধিকে সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই উত্তরণের পর বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিশেষ সুবিধা হারাবে। তাই প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া মানে হলো দেশের শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক এবং অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরও বাড়তি সুযোগ তৈরি হওয়া।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সরকারের সুচিন্তিত কর্মযজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কার্যকর আলোচনার ফলেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। এটি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়ার পথে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। দেশের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বাড়তি এই তিন বছরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া হবে, যাতে এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জগুলো বাংলাদেশ সফলভাবে মোকাবেলা করতে পারে।

উল্লেখ্য যে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণ বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট অর্থনীতির জন্য একটি গর্বের বিষয় হলেও, উত্তরণ পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, তা সামলানো বড় একটি কাজ। সরকারের এই কূটনৈতিক সাফল্য সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে। অর্থনীতিবিদরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং মনে করছেন যে, বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের চলমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ
নেত্রকোনায় শতবর্ষী ধর্মপল্লীর চুরি যাওয়া ঘণ্টা উদ্ধার পারমাণবিক রণতরির পথে চীন: ২০২৭ সালেই সাগরে ভাসার সম্ভাবনা কূটনৈতিক তৎপরতায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় বাড়ল তিন বছর ঠাকুরগাঁওয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই সন্তানের জননীর আত্মহত্যা হাটহাজারীতে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী মাথায় আঘাতের কারণে দ্বিতীয় টেস্টে মুমিনুল হকের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত ব্যাটিং বিপর্যয়ে ধুঁকছে বাংলাদেশ: মিরাজকে হারিয়ে বিপাকে টাইগাররা হেফাজতে ইসলামের তত্ত্বাবধানে নতুন রাজনৈতিক জোট গঠন করল সাত ইসলামি দল রাজধানীর রমনায় ককটেল বিস্ফোরণ: গ্রেফতার দুই আসামির তথ্যে আরও বিস্ফোরক উদ্ধার ভ্রমণকালে হঠাৎ ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে যা করা জরুরি
Advertisement