নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী রানীখং সাধু যোসেফের খ্রিষ্টীয় ধর্মপল্লী থেকে চুরি হয়ে যাওয়া ৪০ কেজি ওজনের সেই মূল্যবান ঘণ্টাটি শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এই ঘটনাটি স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং এলাকাবাসীর মধ্যে বেশ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। প্রায় শতবর্ষী এই ধর্মপল্লীর নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুলিশ প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে সেই হারিয়ে যাওয়া ঘণ্টাটি পুলিশের হস্তগত হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে কোনো এক রাতে দুষ্কৃতিকারীরা কৌশলে ধর্মপল্লীর ভেতরে প্রবেশ করে। কোনো এক ফাঁকে তারা বিশালাকার এই ঘণ্টাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। সকালে ঘণ্টাটি যথাস্থানে দেখতে না পেয়ে গির্জা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা বিষয়টি দ্রুত দুর্গাপুর থানা পুলিশকে অবহিত করেন। প্রায় ৪০ কেজি ওজনের একটি ধাতব ঘণ্টা কীভাবে সরানো হলো এবং সেটি কারাই বা নিয়ে গেল, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে শতাব্দীপ্রাচীন এই গির্জাটির ধর্মীয় ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এই ঘণ্টার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি হারিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ মাঠে নামে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয় এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। অবশেষে পুলিশি তৎপরতায় উদ্ধার করা হয় সেই ঘণ্টাটি। যদিও এ ঘটনায় ঠিক কতজন জড়িত বা তারা কীভাবে এটি সরিয়েছিল সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এ ধরনের ঐতিহাসিক নিদর্শনের চুরি কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধার হওয়া ঘণ্টাটি এখন আইনি হেফাজতে রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তা আবার গির্জা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনগণ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দুর্গাপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করা হচ্ছে এবং শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তারা স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেছেন যে, ধর্মীয় উপাসনালয়ের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এ ধরনের অপরাধ রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। অতীতেও এই এলাকায় বড় ধরনের কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটেনি, তাই এবারকার এই চুরির ঘটনা সবাইকে বেশ অবাক করেছে।
রানীখং সাধু যোসেফের খ্রিষ্টীয় ধর্মপল্লীটি কেবল একটি প্রার্থনার স্থান নয়, বরং এটি ওই অঞ্চলের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে প্রতিবছর অনেক মানুষ নানা ধর্মীয় উৎসবে অংশ নিতে আসেন। ঘণ্টাটি উদ্ধার হওয়ায় স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা স্বস্তি জানিয়েছেন এবং পুলিশের এই দ্রুত তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বর্তমানে গির্জা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে স্থানীয়দেরও সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ঘণ্টাটি নিয়ে প্রয়োজনীয় সব আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করার পর তা পুনরায় গির্জায় স্থাপন করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ । ৪:১৪ অপরাহ্ণ