খুঁজুন
, ,

এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা বাংলাদেশকে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ। এখন ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সাল নাগাদ এই উত্তরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের প্রস্তুতির সুবিধার্থে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বিদ্যমান সকল আন্তর্জাতিক সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পাবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। সাধারণত এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য দেশগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে বাণিজ্য সুবিধা, ঋণ সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রাধিকার বজায় থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও তাদের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছিল। তিন বছরের এই বর্ধিত সময়কালকে দেশের অর্থনীতিবিদরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এতে রপ্তানি বাজারে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধাগুলো আরও কিছুকাল ধরে রাখা সম্ভব হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করে, এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে তা আর সরাসরি পাওয়া যায় না। যদিও উত্তরণ পরবর্তী সময়ে জিপিএস প্লাস সুবিধার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবুও তিন বছরের অতিরিক্ত সময় দেশের বেসরকারি খাত এবং রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প এবং অন্যান্য উদীয়মান খাতের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে উত্তরণ প্রক্রিয়া যাতে দেশের অর্থনীতির ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেজন্য সরকার শুরু থেকেই অত্যন্ত সতর্ক ছিল। জাতিসংঘের এই বাড়তি সময় প্রাপ্তির ফলে টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসার কথা ছিল, সেগুলোর মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতেও বাড়তি তিন বছর বেশ সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি দেশের জন্য কেবল অর্থনৈতিক মাইলফলক নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের সম্মান ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক। তবে উত্তরণের পরবর্তী সময়ে যেসব বাণিজ্য সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ, তা পূরণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই বাড়তি তিন বছর সময় পাওয়ার ফলে ওই সব আলোচনার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধাগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারবে।

বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি এবং ভূ-রাজনীতির বর্তমান সমীকরণ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই ঘোষণার মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন আগামী ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে সরকার ও বেসরকারি খাত কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করে, সেটিই হবে আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সুযোগকে পূর্ণরূপে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে নিজেদের রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম

ফুটবল বিশ্বের চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, একজন খেলোয়াড় যদি নির্দিষ্ট সংখ্যক হলুদ কার্ড দেখেন, তবে পরবর্তী ম্যাচে তার মাঠে নামার ওপর স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। সাধারণত পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখার পর সংশ্লিষ্ট ফুটবলারকে এক ম্যাচের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে হয়। তবে বর্তমান সময়ে ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে এই প্রথাগত নিয়মটি কার্যকর হচ্ছে না। চলতি মৌসুমে ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নামা মেসি পাঁচটি হলুদ কার্ড দেখে ফেলার পরেও তার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। আর এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মেজর লিগ সকারের বা এমএলএসের এক বিশেষ আইন।

এমএলএসের নিয়মনীতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যা পরিচিত গুড বিহেভিয়ার পলিসি বা ভালো আচরণ নীতি নামে। এই নীতিটি মূলত খেলোয়াড়দের মাঠের ভেতরে এবং বাইরের আচরণগত দিকগুলো বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। লিগ কর্তৃপক্ষের এমন নমনীয় বা কৌশলগত নিয়মের কারণেই মেসি এখন শাস্তির আওতামুক্ত থাকতে পারছেন। মূলত, অনেকগুলো হলুদ কার্ড জমলেও যদি খেলোয়াড়ের আচরণগত রেকর্ড ভালো থাকে এবং গুরুতর কোনো অখেলোয়াড়সুলভ কর্মকাণ্ড না থাকে, তবে লিগ কর্তৃপক্ষ এই নীতি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা মকুফ করতে পারে বা শাস্তির ধরনে পরিবর্তন আনতে পারে।

মেজর লিগ সকারের মতো লিগগুলোতে অনেক সময় দীর্ঘ মৌসুমে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও দলের সংহতি বজায় রাখার জন্য বিভিন্ন নিয়মকানুন রাখা হয়। ইউরোপের লিগগুলোর সঙ্গে আমেরিকার এই ফুটবল লিগের নিয়মের কিছুটা পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। মেসির মতো বড় মাপের একজন তারকাকে মাঠে দেখার জন্য দর্শকদের আগ্রহের বিষয়টিও অনেক সময় কর্তৃপক্ষ মাথায় রাখে, তবে তার চেয়ে বড় বিষয় হলো লিগের এই নির্দিষ্ট আইনগত কাঠামো। ইন্টার মায়ামির জার্সি গায়ে মেসি ইতিমধ্যে দলের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছেন। সিনসিনাটির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার উপস্থিতি নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, এই বিশেষ নিয়মের ব্যাখ্যায় তা দূর হয়েছে। ফলে কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই পরবর্তী ম্যাচে দলের আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দিতে পারবেন আর্জেন্টাইন এই অধিনায়ক।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেজর লিগ সকারে এই গুড বিহেভিয়ার পলিসি বা ভালো আচরণ নীতি বেশ আগে থেকেই চালু রয়েছে। এটি মূলত রেফারি ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। যদি কোনো খেলোয়াড় ইচ্ছাকৃতভাবে বা বারবার একই ধরনের ফাউল না করেন, তবে পাঁচটি হলুদ কার্ডের পরেও তাকে সরাসরি এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার বদলে সতর্কবার্তা বা অন্য কোনো বিকল্প শাস্তির মাধ্যমে লিগ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সামাল দিতে পারে। যদিও সাধারণ দর্শকদের জন্য এটি কিছুটা বিস্ময়কর মনে হতে পারে, তবে লিগের নিজস্ব নিয়মাবলি অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ বৈধ একটি প্রক্রিয়া।

এই ঘটনাটি আবারও ফুটবল বিশ্বে লিগ ভেদে নিয়মের ভিন্নতা নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউরোপীয় লিগগুলোর কড়া নিয়মের চেয়ে এমএলএসের এই নিয়ম কিছুটা আলাদা মনে হলেও, এটি লিগ পরিচালনার একটি অংশ। লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই এমএলএসের জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। তাই তার প্রতিটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে সমর্থকদের ব্যাপক আগ্রহ থাকে। এমন পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞার খড়গ থেকে মেসির মুক্তি পাওয়া ইন্টার মায়ামি সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির খবর। তবে ভবিষ্যতে এই নিয়মের কারণে অন্য কোনো বিতর্ক তৈরি হয় কি না, তা নিয়েও ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। আপাতত, সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মেসি মাঠে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তার ভক্তরা তাকে আবারও গোল করতে দেখার প্রত্যাশায় আছেন।

গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন পোশাক শ্রমিক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন পোশাক শ্রমিক

গাজীপুর মহানগরীর নাওজোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় এক পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার ৩০ অক্টোবর সকাল সোয়া ৭টার দিকে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই ওই শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে এবং আরও দুইজন শ্রমিক গুরুতর আহত হন। নিহত শ্রমিকের নাম সাকিব বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলায়। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নাওজোড় এলাকায় একটি নির্মাণাধীন তিনতলা ভবনের নিচতলায় সেপটিক ট্যাংক নির্মাণের কাজ চলছিল। ঘটনার সময় শ্রমিকরা ট্যাংকের ভেতরে কাজ করছিলেন। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই সাকিব নামের ওই শ্রমিক প্রাণ হারান এবং তার সঙ্গে কাজ করা অন্য দুইজন শ্রমিক গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন।

গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর রাজিব হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা গ্যাসের চাপে এই বিস্ফোরণ ঘটে থাকতে পারে। তবে কারিগরি কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা সম্ভব হবে।

এদিকে কর্মস্থলে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের সহকর্মী ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে ভিড় জমিয়েছেন। ঘটনার পর ভবন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই দুর্ঘটনায় অবহেলার কোনো বিষয় আছে কিনা বা যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে নেমেছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আবারও সামনে চলে এসেছে এই দুর্ঘটনার ফলে। এ ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও সতর্কতা অবলম্বন না করায় প্রায়শই এমন প্রাণহানি ঘটে থাকে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি

ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক কৌশল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিফ করেছেন মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত শীর্ষ সামরিক কমান্ডার। এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিগুলোতে মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমানের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ফের উত্তেজনার পারদ চড়ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার মধ্যে নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং এর বিভিন্ন বিকল্প দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্রিফিং প্রদান করেছেন। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইসরায়েলের আকাশসীমায় এবং বিভিন্ন সামরিক বিমানঘাঁটিতে বিদেশি সামরিক বিমানের উপস্থিতি আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, গত কয়েক দিনে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন পরিবহন বিমানগুলোর অস্বাভাবিক আনাগোনা শুরু হয়েছে। সাধারণত সামরিক রসদ বা বিশেষায়িত সরঞ্জাম স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এ ধরনের বিমান ব্যবহার করা হয়। তবে এই তৎপরতার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটন তাদের মিত্র ইসরায়েলের নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমান্ডার পর্যায়ের এই ব্রিফিংয়ের মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে অবহিত করা। ইরান কি ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের প্রতিক্রিয়া কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েই মূলত প্রেসিডেন্টকে অবহিত করা হয়েছে। ইসরায়েলের বিমানঘাঁটিতে দেখা যাওয়া মার্কিন উড়োজাহাজগুলো এই আলোচনারই একটি বাস্তব প্রতিফলন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে থেকেই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সরাসরি সক্রিয়তা এই পরিস্থিতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী এই ঘটনাপ্রবাহে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এখন বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন দেশের সামরিক পর্যবেক্ষকরা ইসরায়েলের আকাশপথে মার্কিন পরিবহন বিমানের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি, তবুও তাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এটি স্পষ্ট যে, ইরানকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না ওয়াশিংটন। সামরিক সক্ষমতা যাচাই এবং মোতায়েনের বিষয়টি এখন মার্কিন বিদেশ ও প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে ইরান ও ইসরায়েলের বৈরিতা মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। এখন এর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক তৎপরতা যোগ হওয়ায় পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। বিশেষ করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক বা সামরিক কোনো নতুন মেরুকরণ হয় কি না, সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।

সর্বশেষ
পাঁচ হলুদ কার্ডেও কেন নিষেধাজ্ঞা নেই মেসির, কী এই বিশেষ নিয়ম গাজীপুরে সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরণে প্রাণ হারালেন পোশাক শ্রমিক ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি ভিয়েতনামের ফু কুক দ্বীপ: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর নির্জনতার খোঁজে দেশের বাজারে সোনার দাম কমল, স্বস্তি ফিরছে গয়নার ব্যবসায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যুতে বন্ধু দীপ পিবিআই হেফাজতে শূন্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পূর্ণতার গল্প এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ সালমান শাহ-শাবনূরের পর এবার নতুন রূপে সাইমন-মাহির আনন্দ অশ্রু
Advertisement