খুঁজুন
, ,

এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বৃদ্ধি করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তে এই সময়সীমা পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ এলডিসি বা স্বল্পোন্নত দেশের অবস্থান থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় পেল। আগে নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশের উত্তরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এখন তা পিছিয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের পরবর্তী ধাপগুলো সামাল দেওয়ার প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় রেখেই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পথপরিক্রমায় নানা ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ চালিয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করে আসছে বাংলাদেশ, যা এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে পাওয়া যায়। উত্তরণের পরে এই সুবিধাগুলো আর বহাল থাকবে না। তাই বাড়তি এই তিন বছর সময় পাওয়ার ফলে দেশীয় অর্থনীতিতে বিদ্যমান কাঠামোগত দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের একটি সুযোগ তৈরি হলো। রপ্তানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকার জন্য যে ধরনের নীতি সহায়তা প্রয়োজন, তা এই সময়ের মধ্যে আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

উত্তরণ প্রক্রিয়ার এই বাড়তি সময়কে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে বাণিজ্যের যে সুবিধাগুলো বিদ্যমান রয়েছে, তা ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের আধুনিকায়ন এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের জন্য এই সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতা এবং অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এই অতিরিক্ত সময় বাংলাদেশের জন্য একটি কৌশলগত সুবিধা হিসেবে কাজ করবে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আরও কিছুটা সময় পেল তার রপ্তানিমুখী শিল্পখাতকে ঢেলে সাজানোর জন্য। এলডিসি থেকে উত্তরণের পরবর্তীতে যে নতুন ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, তার জন্য নিজেদের সক্ষমতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের জন্য এই বাড়তি তিন বছর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এখন থেকেই এই বাড়তি সময়কে কীভাবে সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে কাজ শুরু করার তাগিদ দিচ্ছেন নীতিনির্ধারকরা। মূলত প্রস্তুতিকালীন সময়ের এই বর্ধিত মেয়াদ বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল।

ভিয়েতনামের ফু কুক দ্বীপ: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর নির্জনতার খোঁজে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
ভিয়েতনামের ফু কুক দ্বীপ: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর নির্জনতার খোঁজে

ভিয়েতনামের দক্ষিণ উপকূল থেকে কিছুটা দূরে থাইল্যান্ড উপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা এক বিস্ময়কর ভূখণ্ডের নাম ফু কুক। চারপাশের নীল জলরাশির মাঝে যেন এক টুকরো মরূদ্যান হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এই দ্বীপটি। যারা প্রতিদিনের যান্ত্রিক কোলাহল আর ব্যস্ত শহর থেকে মুক্তি পেতে চান, তাদের জন্য এক আদর্শ গন্তব্য হতে পারে এই ফু কুক। ভৌগোলিকভাবে কম্বোডিয়া সীমান্তের সন্নিকটে অবস্থিত এই দ্বীপটি বর্তমানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানকার প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় জীবনযাত্রা পর্যটকদের মনে এক গভীর ছাপ ফেলে।

ফু কুক দ্বীপের মূল আকর্ষণ হলো এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। একদিকে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত সোনালি বালির সৈকত, যা সমুদ্রপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য উপহার। অন্যদিকে, দ্বীপের অভ্যন্তরে রয়েছে ঘন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অরণ্য, যা বহু প্রজাতির গাছপালা এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। এই অরণ্যের ভেতরে হাইকিং বা ট্রেকিংয়ের অভিজ্ঞতা পর্যটকদের প্রকৃতির খুব কাছাকাছি নিয়ে যায়। একদিকে সমুদ্রের গর্জন আর অন্যদিকে বনের নিস্তব্ধতা—এই দুইয়ের মেলবন্ধন দ্বীপটিকে দিয়েছে এক অনন্য রূপ। অনেকেই দিনের বেলা সৈকতে অলস সময় কাটানোর পর বিকেলে বনের গভীরে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন।

দ্বীপটির অর্থনীতির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা। এখানে আসার পর পর্যটকদের চোখ এড়ায় না এখানকার রঙিন মাছ ধরার নৌকাগুলো। সকালের দিকে স্থানীয় জেলেরা সমুদ্রে জাল ফেলে যে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে আনেন, তা দ্বীপের জীবনযাত্রার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। এছাড়া ফু কুক তার গোলমরিচ বাগানের জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এখানকার গোলমরিচ চাষ পদ্ধতি খুবই প্রাচীন এবং পরিবেশবান্ধব, যা পর্যটকদের জন্য একটি বাড়তি পাওয়া। বাগানের ভেতর দিয়ে হাঁটার সময় গোলমরিচের ঘ্রাণ বাতাসে এক অদ্ভুত আমেজ তৈরি করে, যা অন্য কোথাও পাওয়া দুষ্কর।

পর্যটনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ফু কুক দ্বীপে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়েছে। বিলাসবহুল রিসোর্ট থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা—সবই এখন সহজলভ্য। এর ফলে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা এখানে ভিড় করছেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লেও দ্বীপটির অনেক প্রান্ত আজও বেশ নির্জন। যারা একটু নিভৃতে সময় কাটাতে চান, তারা দ্বীপের মূল কেন্দ্র থেকে দূরে কোনো সৈকত খুঁজে নিতে পারেন। সেখানে সমুদ্রের ঢেউয়ের তাল ছাড়া আর কোনো শব্দ আপনার নির্জনতায় ব্যাঘাত ঘটাবে না।

ফু কুক কেবল তার সৌন্দর্যের জন্যই নয়, বরং স্থানীয়দের আতিথেয়তার জন্যও প্রশংসিত। এখানকার মানুষ খুবই সহজ-সরল এবং পর্যটন-বান্ধব। স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়ার জন্য ছোট ছোট রেস্তোরাঁগুলো সেরা জায়গা। সামুদ্রিক মাছের বিভিন্ন পদ এখানে খুবই জনপ্রিয়। তাজা মাছের স্বাদ নিয়ে সমুদ্রের পাড়ে বসে সূর্যাস্ত দেখা এক অন্যরকম অনুভূতি। আকাশ যখন ধীরে ধীরে কমলা থেকে লাল বর্ণ ধারণ করে এবং সূর্যের শেষ আলোয় সমুদ্রের জল চিকচিক করে ওঠে, তখন মনে হবে সময় যেন সেখানে থমকে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে অনেকেই পারিবারিক ছুটি কাটানোর জন্য বা বন্ধুদের সাথে ভ্রমণের জন্য ফু কুককে বেছে নিচ্ছেন। এখানকার শান্ত পরিবেশ এবং নিরাপদ আবহাওয়া পরিবারসহ ভ্রমণের জন্য দারুণ। যারা আলোকচিত্র বা ফটোগ্রাফি করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই দ্বীপটি এক স্বর্গরাজ্য। প্রতিটি মোড়েই যেন ছবির মতো দৃশ্য অপেক্ষা করছে। সকালের মৃদু রোদে সোনালি বালির चमक কিংবা বিকেলের পড়ন্ত আলোয় মাছ ধরার নৌকার সারি—সবই যেন ফ্রেমবন্দি করে রাখার মতো দৃশ্য।

ভিয়েতনামের এই দ্বীপটি ক্রমশ বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। আধুনিকায়ন এবং প্রকৃতির সংরক্ষণের মধ্যে যে ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন, ফু কুকের ক্ষেত্রে তা বেশ প্রশংসনীয়। পর্যটকদের ব্যাপক আনাগোনা সত্ত্বেও এখানকার সৈকতগুলো এবং বনাঞ্চলগুলো এখনো বেশ পরিচ্ছন্ন এবং সুরক্ষিত। পরিবেশ সচেতন পর্যটকদের জন্য এই বিষয়টি ফু কুককে অন্যান্য পর্যটন গন্তব্য থেকে আলাদা করে রেখেছে।

পরিশেষে বলা যায়, ফু কুক কেবল একটি ভ্রমণ গন্তব্য নয়, এটি এমন এক অভিজ্ঞতা যা একজন মানুষের মনকে প্রশান্তি দিতে সক্ষম। নীল জলরাশি, সোনালি বালি আর সবুজের আস্তরণ—প্রকৃতির এই তিন রঙের খেলা দেখতে চাইলে একবার ফু কুক থেকে ঘুরে আসা উচিত। জীবনের ব্যস্ততার মাঝে কিছুটা সময় নিজের জন্য এবং প্রকৃতির জন্য ব্যয় করতে চাইলে ভিয়েতনামের এই নির্জন দ্বীপটিই হতে পারে আপনার পরবর্তী গন্তব্য।

দেশের বাজারে সোনার দাম কমল, স্বস্তি ফিরছে গয়নার ব্যবসায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দেশের বাজারে সোনার দাম কমল, স্বস্তি ফিরছে গয়নার ব্যবসায়

দেশের বাজারে সোনার দাম নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে। মূল্যবান এই ধাতুর দরপতনের ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন সাধারণ ক্রেতারা। নতুন দামে ২২ ক্যারেট সোনার ভরিপ্রতি ১৬৩৩ টাকা কমেছে।

দেশের বাজারে সোনার দাম ফের কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে সোনার দামের অস্থিরতা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকা সোনার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে শুরু করায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দামে ১৬৩৩ টাকা কমানো হয়েছে। গহনা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমায় বেচাকেনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বাজারে সোনার দামের এই পরিবর্তন হুট করে আসেনি। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা গেছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। যদিও গত কয়েক দিনে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা এই সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২২ ক্যারেটের সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মানের সোনার দামও আনুপাতিক হারে কমানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর এসেছে উচ্চমানের বা ২২ ক্যারেটের গহনার ক্ষেত্রে, যা অধিকাংশ গ্রাহকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে।

উল্লেখ্য, সোনার দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে জুয়েলার্স সমিতি সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের পরিস্থিতি বিবেচনা করে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সোনার বাজারে যে উত্তাপ ছিল, তা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় নতুন করে এই দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক ক্রেতা গত কয়েকদিন ধরে সোনার দাম কমার অপেক্ষায় ছিলেন। দাম কমানোর ফলে এখন যারা বিয়ে বা পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়না কেনার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে সেগুলো সংগ্রহ করতে পারবেন।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর সোনার দামের প্রভাব সবসময়ই অনস্বীকার্য। সোনা কেবল একটি মূল্যবান ধাতু নয়, এটি অনেক পরিবারের জন্য আস্থার জায়গা ও বিনিয়োগের মাধ্যম। তাই দামের এমন পরিবর্তন সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। জুয়েলারি মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে, বাজারে সোনার সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই দাম কমানোর এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা আশা করছেন, সামনে বাজার পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল থাকবে।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন জুয়েলারি দোকানে গিয়ে দেখা গেছে, ক্রেতারা নতুন দামের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন। অনেক ব্যবসায়ী জানান, দাম কমার খবর শোনার পর গয়না কেনার আগ্রহ বেড়েছে। গত কয়েক মাসে সোনার দাম অনেকটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল, যার ফলে বিক্রিবাট্টা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল। এখন দামের এই সমন্বয়ের ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায়িক গতি ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বলছে, তারা সবসময় স্বচ্ছতা বজায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়, তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তা সহনীয় পর্যায়ে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সোনার দামের এই হ্রাস সাধারণ মানুষের জন্য এক ধরনের অর্থনৈতিক স্বস্তি বয়ে আনবে। আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে সোনার দামের এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ায় থাকা বাংলাদেশকে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ। এখন ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৯ সাল নাগাদ এই উত্তরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকা বাংলাদেশের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ বাংলাদেশের প্রস্তুতির সুবিধার্থে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশ ২০২৬ সালের নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে বিদ্যমান সকল আন্তর্জাতিক সুবিধা ভোগ করার সুযোগ পাবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কোভিড-১৯ পরবর্তী চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আবেদনের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। সাধারণত এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য দেশগুলোকে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়, যার মধ্যে বাণিজ্য সুবিধা, ঋণ সহায়তা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের অগ্রাধিকার বজায় থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও তাদের উত্তরণ প্রক্রিয়াকে আরও সুসংহত করতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছিল। তিন বছরের এই বর্ধিত সময়কালকে দেশের অর্থনীতিবিদরা অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, কারণ এতে রপ্তানি বাজারে বিদ্যমান বিশেষ সুবিধাগুলো আরও কিছুকাল ধরে রাখা সম্ভব হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন উন্নত দেশে যে শুল্কমুক্ত ও কোটামুক্ত সুবিধা ভোগ করে, এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে তা আর সরাসরি পাওয়া যায় না। যদিও উত্তরণ পরবর্তী সময়ে জিপিএস প্লাস সুবিধার জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে, তবুও তিন বছরের অতিরিক্ত সময় দেশের বেসরকারি খাত এবং রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প এবং অন্যান্য উদীয়মান খাতের জন্য এই সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে হলে পণ্যের বহুমুখীকরণ ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানো প্রয়োজন।

সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সকল শর্ত পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। তবে উত্তরণ প্রক্রিয়া যাতে দেশের অর্থনীতির ওপর কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেজন্য সরকার শুরু থেকেই অত্যন্ত সতর্ক ছিল। জাতিসংঘের এই বাড়তি সময় প্রাপ্তির ফলে টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কাজ করতে পারবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জগুলো আসার কথা ছিল, সেগুলোর মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতেও বাড়তি তিন বছর বেশ সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এলডিসি থেকে উত্তরণ একটি দেশের জন্য কেবল অর্থনৈতিক মাইলফলক নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের সম্মান ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীক। তবে উত্তরণের পরবর্তী সময়ে যেসব বাণিজ্য সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ, তা পূরণের জন্য সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই বাড়তি তিন বছর সময় পাওয়ার ফলে ওই সব আলোচনার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবে এবং কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্য সুবিধাগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারবে।

বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি এবং ভূ-রাজনীতির বর্তমান সমীকরণ বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই ঘোষণার মাধ্যমে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা এবং সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন আগামী ২০২৯ সাল পর্যন্ত সময়কে কাজে লাগিয়ে সরকার ও বেসরকারি খাত কীভাবে নিজেদের প্রস্তুত করে, সেটিই হবে আগামী দিনের মূল চ্যালেঞ্জ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশ এই সুযোগকে পূর্ণরূপে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে নিজেদের রূপান্তরের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

সর্বশেষ
ভিয়েতনামের ফু কুক দ্বীপ: প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আর নির্জনতার খোঁজে দেশের বাজারে সোনার দাম কমল, স্বস্তি ফিরছে গয়নার ব্যবসায় এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ সাবেক বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা তাহসিফের মৃত্যুতে বন্ধু দীপ পিবিআই হেফাজতে শূন্যতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা পূর্ণতার গল্প এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়াল জাতিসংঘ সালমান শাহ-শাবনূরের পর এবার নতুন রূপে সাইমন-মাহির আনন্দ অশ্রু শেরপুরের গারো পাহাড়ে হাজারো পুণ্যার্থীর মোমবাতি প্রজ্জ্বলেনে অনন্য ধর্মীয় উৎসব সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যু: বন্ধু দ্বীপ হেফাজতে বলিউড তারকা জাহ্নবী কাপুরের বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে নতুন আলোচনা
Advertisement