খুঁজুন
, ,

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে হ্যান্ডবলে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল ডি অলিভেইরা নুনেসকে নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। আসন্ন নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো ফলের প্রত্যাশায় এই বিদেশি বিশেষজ্ঞের অধীনে বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরু হচ্ছে।

বাংলাদেশের হ্যান্ডবল অঙ্গনে নতুন হাওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের খেলার মান উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের কৌশলী করে তোলার লক্ষ্যে এবার বিদেশি কোচের ওপর আস্থা রেখেছে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশন। পর্তুগালের অভিজ্ঞ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল ডি অলিভেইরা নুনেস দায়িত্ব বুঝে নিতে ঢাকায় পা রাখছেন। মূলত আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সকে আরও ধারালো ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া জাতীয় দলের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্পটি চলবে টানা ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই দীর্ঘ সময়ে খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি, খেলার নতুন কৌশল রপ্ত করা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হবে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই পর্তুগিজ কোচকে দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ফেডারেশন চাইছে নারী হ্যান্ডবল দলের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং মহাদেশীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ভালো ফলাফল করতে।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খেলার ধরনে আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ফেডারেশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফার্নান্দো মিগুয়েল এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হ্যান্ডবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন, যার ফলে তার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে বলে মনে করছে হ্যান্ডবল সংশ্লিষ্টরা। এই ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের হ্যান্ডবল খেলার বর্তমান মানদণ্ড যাচাই করবেন এবং খেলোয়াড়দের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা সংশোধনের জন্য নিবিড় কাজ করবেন।

আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী দলের সদস্যদের জন্য এই প্রশিক্ষণ সেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আধুনিক হ্যান্ডবলের যে কৌশলগত পরিবর্তনগুলো বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে, সেগুলো বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের আয়ত্তে আনার জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। ফেডারেশনের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এই ক্যাম্পের সফলতা কেবল একটি টুর্নামেন্টের ওপর নির্ভর করছে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যেই এই পর্তুগিজ কোচের শরণাপন্ন হওয়া।

প্রশিক্ষণ ক্যাম্প শুরুর আগে খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতির ওপরও বেশ কিছু সেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ফার্নান্দো মিগুয়েল দলের সাথে যোগ দেওয়ার পর থেকে মূলত আধুনিক হ্যান্ডবল টেকনিক ও গেম প্ল্যানিংয়ের ওপর বেশি নজর দেবেন। বিশেষ করে আক্রমণ ও রক্ষণভাগের সমন্বয় সাধনে তিনি কাজ করবেন। ফেডারেশন আশা করছে, বিদেশি এই কোচের অধীনে নিয়মিত অনুশীলনের ফলে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের হ্যান্ডবল দল আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

সব মিলিয়ে আসন্ন এশিয়ান নারী হ্যান্ডবল চ্যাম্পিয়নশিপকে কেন্দ্র করে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের এই উদ্যোগটি বেশ প্রশংসিত হচ্ছে। পর্তুগিজ এই প্রশিক্ষকের অধীনে কঠোর অনুশীলনের পর খেলোয়াড়রা কতটা উন্নতি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সার্বিক সফলতার ওপর ভিত্তি করেই আগামী দিনের কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুর টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ বড় সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। জন ক্যাম্পবেল ও কাভেম হজের ব্যাটে ভর করে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছে সফরকারীরা।

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্ট ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনটি ক্যারিবীয়দের জন্য মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। দিনের শুরুর দিকে ব্যাটাররা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে খেললেও বৃষ্টির বিরতি তাদের ছন্দপতন ঘটায়। এই বিরতির পরপরই পরপর তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারী দলটি। তবে ম্যাচের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বড় জুটির ওপরই ভরসা রাখছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিবির।

ম্যাচের শুরুর অংশে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা যেভাবে উইকেট ধরে রেখে খেলার পরিকল্পনা করেছিলেন, তা বেশ ইতিবাচক মনে হচ্ছিল। বিশেষ করে জন ক্যাম্পবেল ও কাভেম হজের ব্যাটিং দৃঢ়তা ওয়েস্ট ইন্ডিজের সমর্থকদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছিল। তাদের দুজনেই ক্রিজে থিতু হওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। এই জুটি দলকে বড় স্কোরের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অপরিহার্য ছিল। কিন্তু প্রকৃতির বাগড়ায় বৃষ্টির কারণে খেলা সাময়িক বন্ধ হওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টে যায়। বৃষ্টির পর পিচের আচরণ এবং বোলারদের অতিরিক্ত সতর্কতা ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়, যার ফলশ্রুতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্রুত তিনটি উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায়।

মিরপুরের এই উইকেট সাধারণত স্পিনারদের জন্য সহায়ক হয়। ক্যারিবীয় ব্যাটাররা সেই চ্যালেঞ্জটি মাথায় রেখেই তাদের ইনিংস সাজাচ্ছিলেন। কাভেম হজ এবং ক্যাম্পবেলের ব্যাটিংয়ে আমরা একটি সুশৃঙ্খল রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক কৌশলের সমন্বয় দেখতে পেয়েছিলাম। তারা সিঙ্গেল এবং ডাবলসের মাধ্যমে স্কোরবোর্ড সচল রেখেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ব্যাটিং অর্ডারে ধস নামাটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য কিছুটা অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে এখনো ম্যাচের অনেকটা সময় বাকি থাকায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে বড় সংগ্রহের জন্য সেট ব্যাটারদের লম্বা সময় ক্রিজে থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ম্যানেজমেন্টও এমনটাই প্রত্যাশা করছে যে, মিডল অর্ডার এবং লোয়ার অর্ডার ব্যাটাররা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাটারের ওপর নির্ভর না করে দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। যদি কোনো একটি বড় জুটি গড়ে ওঠে, তবে তা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান লক্ষ্য এখন স্কোরবোর্ডকে যতটা সম্ভব সমৃদ্ধ করা। বোলারদের জন্য স্বস্তিদায়ক একটি পুঁজি গড়ার জন্য ব্যাটসম্যানদের ধৈর্যশীল খেলার বিকল্প নেই। মিরপুরের কন্ডিশন বিবেচনায় রান তোলা খুব একটা সহজ নয়, তাই প্রতিপক্ষের বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়াটাই হবে ক্যারিবীয়দের মূল কৌশল। ক্রিকেট ভক্তরা এখন তাকিয়ে আছেন পরবর্তী সেশনে ব্যাটাররা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেন এবং বড় কোনো জুটি গড়তে পারেন কি না তার দিকে।

জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি

জাপানি একটি নাটকের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের অভিযোগ, জাপানি সংস্কৃতি ও বিনোদন শিল্পের আড়ালে সচেতনভাবে চীনবিরোধী মনোভাব উসকে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশটির দাবি, সাংস্কৃতিক উপাদানের মাধ্যমে চীনকে নেতিবাচক ও অপশক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে, যা কূটনৈতিক সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

বেইজিংয়ে আয়োজিত নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কুও চিয়া খুন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, জাপানের সাম্প্রতিক একটি নাটকের ঘটনাপ্রবাহ এবং চরিত্র চিত্রায়ণ চীনকে হেয় করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রয়াস। মুখপাত্রের ভাষ্যমতে, গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প ব্যবহার করে কোনো রাষ্ট্রকে কলঙ্কিত করা আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার ও সুস্থ সংস্কৃতির পরিপন্থী। কুও চিয়া খুন জানান, নির্দিষ্ট এই নাটকটিতে চীনা চরিত্রগুলোকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা কেবল কাল্পনিক নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাপানি কোম্পানি সানরিও তাদের ব্যবসায়িক কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। চীনা দর্শকদের মধ্যে এই নাটকটি নিয়ে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হওয়ায় এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সানরিও কোম্পানি নাটকটির সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে। মূলত চীনে নিজেদের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতেই জাপানি প্রতিষ্ঠানটি এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রে বরাবরই কিছু স্পর্শকাতর বিষয় থাকে। তবে যখন কোনো বিনোদনমূলক নাটক বা সিরিজ কোনো বিশেষ দেশের ভাবমূর্তিকে আঘাত করে, তখন তা দ্রুত কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনার জন্ম দেয়। জাপান ও চীনের মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দীর্ঘদিনের। এই প্রেক্ষাপটে বিনোদন জগতেও দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার সংকট প্রকট হয়ে উঠছে।

বেইজিংয়ের এই কড়া বার্তার পর জাপানি বিনোদন শিল্পের ওপর কি ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জাপানি কোম্পানি চীনা বাজারে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে, তারা এখন আরও সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করবে। সানরিও কোম্পানির এই দ্রুত পিছু হটা সেই সতর্কতারই ইঙ্গিত বহন করে। চীন বরাবরই তাদের জাতীয় ভাবমূর্তির বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কিংবা বিদেশি গণমাধ্যমে নিজেদের দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি বা চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য বা চিত্রায়ণকে তারা উসকানিমূলক হিসেবে দেখে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সরকার বা শিল্পমহলের পক্ষ থেকে আরও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন অনলাইন ফোরামে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বেইজিংয়ের এই অবস্থানের পর জাপানি প্রযোজনা সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে চীন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু নিয়ে আরও বেশি সচেতন ও সতর্ক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে যে বিনোদন মাধ্যমগুলো কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই ঘটনাটি তারই একটি জ্বলন্ত উদাহরণ। আপাতত জাপানি নাটকের এই বিতর্কিত বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

ভুল তথ্যের মায়াজাল কাটাতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনতার বার্তা দিলেন ডা. জাহেদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
ভুল তথ্যের মায়াজাল কাটাতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনতার বার্তা দিলেন ডা. জাহেদ

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতিনিয়ত ছড়িয়ে পড়ছে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য। এই অনলাইনের যুগে তথ্যপ্রবাহের অবাধ স্বাধীনতার কারণে সাধারণ মানুষ প্রায়শই ভুল তথ্যের ফাঁদে পা দিচ্ছেন। এই সমস্যাটি বিশেষ করে বয়স্ক নাগরিকদের ক্ষেত্রে বেশ প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি মনে করেন, বয়স্করা অনেক সময় প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেন না, যার ফলে তারা ভুল তথ্যের প্রভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।

বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. জাহেদ উর রহমান। ‘একবিংশ শতাব্দীর তরুণদের জন্য মিডিয়া ও ইনফরমেশন লিটারেসি স্কিলস’ শীর্ষক এই আয়োজনে তিনি বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, ভুল তথ্যের কুফল থেকে সমাজের একটি বড় অংশকে রক্ষা করার জন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বয়স্ক আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতজনদের অনলাইনে কোনো তথ্য পেলে সেটি যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তরুণদের গাইড বা সহায়তা করা উচিত। প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ হওয়ায় তরুণরাই পারে তাদের অভিভাবক ও বয়োজ্যেষ্ঠদের সঠিক তথ্যের উৎস চিনিয়ে দিতে এবং গুজব থেকে দূরে রাখতে।

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, তথ্যের সঠিকতা যাচাই করার দক্ষতা বা মিডিয়া লিটারেসি এখন সময়ের বড় প্রয়োজন। শুধু তরুণদের নিজেদের শিক্ষিত করলেই চলবে না, তাদের অর্জিত জ্ঞান পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে হবে। বয়স্করা যেহেতু অনেক সময় হুজুগে বা আবেগের বশবর্তী হয়ে তথ্য শেয়ার করেন, তাই তাদের সচেতন করার দায়িত্ব পরিবারের তরুণ সদস্যদেরই নিতে হবে। এটি কেবল একটি সামাজিক দায়িত্বই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্যও জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সেমিনারে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভুয়া খবর বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করা বা সঠিক তথ্য তুলে ধরার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রযুক্তির এই বিশাল জগতকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আমাদের সজাগ থাকতে হবে যাতে আমরা বিভ্রান্ত না হই এবং অন্যদেরও বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে পারি।

অনুষ্ঠানটি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মধ্যে মিডিয়া লিটারেসি বা সংবাদ সচেতনতা বৃদ্ধি করা। আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল বিশ্বে তরুণরা যেভাবে তথ্যের উৎস খুঁজে বের করতে পারে, প্রবীণদের সেই সক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রে সীমিত। এই ব্যবধান কমিয়ে আনার জন্য তরুণদের মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন উপদেষ্টা। সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা গেলে সমাজে বিশৃঙ্খলা কমবে এবং মানুষ নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকারের পক্ষ থেকেও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে, তবে ব্যক্তি পর্যায় থেকে সচেতনতা তৈরি না হলে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান সম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই একটি শিক্ষিত ও সচেতন জাতি গঠন করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন আয়োজনের প্রশংসা করেন।

সর্বশেষ
মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাপানি নাটকের বিষয়বস্তু নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া আপত্তি ভুল তথ্যের মায়াজাল কাটাতে তরুণ প্রজন্মকে সচেতনতার বার্তা দিলেন ডা. জাহেদ নদীর স্রোত আর অভাবের লড়াই জয় করে জাতীয় ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়ন লিকা কমনওয়েলথ কাবাডিতে আধিপত্য বিস্তার করে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ রাজধানীর ধলপুরে এসআরবির অভিযানে তরুণের মৃত্যু, স্বাধীন তদন্তের দাবি জানাল এইচআরএসএস ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে আহত যুবদলকর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু বাংলাদেশ হ্যান্ডবল দলের দায়িত্ব নিলেন পর্তুগিজ কোচ ফার্নান্দো মিগুয়েল কুষ্টিয়ায় চিকিৎসা সংকটে জনজীবন, জরুরি বিভাগসহ বন্ধ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ
Advertisement