ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চাইলেন শ্যালিকাকে বিয়ে করা সেই যুবক
প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নওগাঁর মাসুদ রানা। পেশায় আইনজীবী সহকারী এবং শখের বশে টিকটক ভিডিও নির্মাণ করা এই যুবক তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে ও অনলাইনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে প্রকাশ্যে নিজের ভুল স্বীকার করেছেন তিনি। এসময় কান্নাকাটি ও হাত জোড় করে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে দেখা যায় তাকে।
লাইভ ভিডিওতে মাসুদ রানা স্বীকার করেন যে, আবেগতাড়িত হয়ে বা পরিস্থিতির চাপে না বুঝে তিনি এই ভুল সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন। তার এই কর্মকাণ্ড যে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়, তা এখন বুঝতে পারছেন বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘ আলোচনার পর এবং নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি জানান, শ্যালিকাকে তালাক দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবেন। একইসঙ্গে পরিবার এবং সমালোচনাকারীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিজের অবস্থানে অটল থাকার ঘোষণা দেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মাসুদের এই কর্মকাণ্ড কেবল তার নিজের সংসারে নয়, বরং এলাকার সামাজিক পরিবেশেও উত্তাপ ছড়িয়েছিল। সাধারণত আইন বিষয়ে কাজ করার সুবাদে স্থানীয়দের কাছে তার একটি পরিচিতি ছিল, যা এই ঘটনার পর নেতিবাচক আলোচনায় রূপ নেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভিডিও ছড়ানোর পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছিল। বিশেষ করে দুই বোনকে একই সঙ্গে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি নিয়ে নৈতিক এবং আইনি প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
ফেসবুক লাইভে মাসুদ রানা বলেন, কোনো প্ররোচনা বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে তিনি হয়তো এই পথে পা বাড়িয়েছেন, কিন্তু এখন অনুতপ্ত। তিনি জানান, শ্যালিকাকে তালাক দেওয়ার মাধ্যমে এই জটিলতার অবসান ঘটাতে চান। তবে বিষয়টি কেবল মৌখিক ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে। কারণ আইনিভাবে বিয়ে এবং তালাকের বিষয়টি একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মাসুদ জানিয়েছেন, খুব দ্রুতই আইনিভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।
লাইভ চলাকালীন সময়ে প্রচুর দর্শক তার মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। অনেকের মতে, এই ঘটনাটি সমাজে ভুল বার্তার জন্ম দিয়েছিল। এখন তিনি যে ক্ষমা চেয়েছেন এবং তালাকের ঘোষণা দিয়েছেন, তা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কেউ কেউ। তবে মাসুদের এই নাটকীয় পরিবর্তনের পেছনে অন্য কোনো চাপ আছে কি না, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে। বিশেষ করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহল বা পরিবারের পক্ষ থেকে চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মাসুদ রানার এই সাম্প্রতিক ঘোষণাটি এখন নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তার এই অনুশোচনা কতটা আন্তরিক এবং তিনি সত্যিই শ্যালিকাকে তালাক প্রদান করবেন কি না, তা সময় বলে দেবে। তবে আপাতত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় কিছুটা স্তিমিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সার্বিক দিক বিবেচনা করে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থাকা জরুরি, যা মাসুদ রানার ক্ষেত্রে অনুপস্থিত ছিল।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]