খুঁজুন
, ,

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ

আসন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওইদিন সারাদেশে ব্যাংক বন্ধ থাকবে।

আসন্ন ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ওইদিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ব্যাংক খাতের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে কার্যকর হবে।

সাধারণত সপ্তাহের অন্যান্য কর্মদিবসে ব্যাংক খোলা থাকলেও জাতীয় দিবস বা বিশেষ কোনো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সরকার ব্যাংক ছুটির ঘোষণা দিয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর তারিখটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করায় ব্যাংকিং সেবা স্বাভাবিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই সরকারি ছুটি সারাদেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য হবে। এর ফলে ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের শাখাগুলোতেও কোনো প্রকার লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।

ব্যাংক গ্রাহকদের সুবিধার্থে এই বিষয়টি আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে করে জরুরি আর্থিক লেনদেন, চেক ক্লিয়ারিং বা অনলাইন ব্যাংকিং সংক্রান্ত কাজগুলো ছুটির আগেই সম্পন্ন করে নেওয়া সম্ভব হয়। সাধারণত ব্যাংক বন্ধের আগে গ্রাহকদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে জাতীয় ছুটির দিনে সব ধরণের ব্যাংকিং কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

৭ নভেম্বর দিনটি অতিক্রান্ত হওয়ার পর ৮ নভেম্বর থেকে পুনরায় ব্যাংকিং কার্যক্রম তার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় দেশের ব্যাংকগুলোতে এর পরদিন বা ৮ নভেম্বর থেকে স্বাভাবিক লেনদেন পুনরায় চালু হবে। গ্রাহকদের বিশেষ প্রয়োজনে এটি মাথায় রেখে তাদের পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

দেশের ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম যেহেতু অর্থনীতির সাথে সরাসরি জড়িত, তাই এই ধরনের ছুটির প্রজ্ঞাপন জারির পর ব্যাংকগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সে অনুযায়ী প্রস্তুত রাখে। ছুটির দিনগুলোতে এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অনলাইন ব্যাংকিং সেবা যাতে কোনো প্রকার বিঘ্ন ছাড়াই গ্রাহকরা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সরাসরি কাউন্টার বা শাখাভিত্তিক কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের এই বিশেষ সরকারি ছুটি দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতের কার্যক্রমে একদিনের বিরতি তৈরি করবে। গ্রাহকদের কোনো প্রকার জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করতে হলে ছুটির আগেই তা সম্পন্ন করতে হবে। দেশের সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থায় কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং সরকারি নির্দেশনার সঠিক বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সব ব্যাংক ইতোমধ্যে তাদের গ্রাহকদের এই ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ আজ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ আজ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ছয় হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চার আসামির বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে। আজ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তার রেশ এখনো আইন-আদালতের আঙিনায়। বিশেষ করে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এই মামলায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফসহ মোট চারজন আসামি রয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন এমন একটি ধাপে পৌঁছেছে যেখানে বিচারক রায় ঘোষণার দিন তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারেন। আজ সংশ্লিষ্ট আদালতে এ বিষয়ে শুনানি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইনি সূত্রে জানা গেছে।

২০২৪ সালের ওই সময়ে কুষ্টিয়ায় সংঘটিত ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও নিরীহ মানুষের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সহিংসতায় ছয়জন প্রাণ হারানোর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গকে আসামি করা হয়। মাহবুব-উল আলম হানিফসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা ইতিমধ্যে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করেছেন। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে উভয় পক্ষের শুনানি গ্রহণ করেছেন এবং মামলার নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছেন। এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।

আইনজীবীদের মতে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার প্রক্রিয়া বেশ জটিল এবং স্পর্শকাতর। এই ধরনের মামলায় প্রতিটি সাক্ষ্য ও প্রমাণের গ্রহণযোগ্যতা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাই করা হয়। কুষ্টিয়ার এই মামলায় চারজন আসামির সম্পৃক্ততার বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষ যেসব তথ্য-উপাত্ত হাজির করেছে, তার ওপর ভিত্তি করেই আদালত তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আজ যদি রায়ের জন্য কোনো দিনক্ষণ ধার্য করা হয়, তবে সেটি হবে বিচার প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ধাপ। এর আগে আসামিপক্ষ নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য ও যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন, যা আইনি বিধিমালার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

মামলাটি পরিচালনা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের অভিজ্ঞ আইনজীবীরা, যারা শুরু থেকেই প্রতিটি সেশনে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজেদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করার চেষ্টা করেছেন। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আজ রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণের বিষয়ে আদেশ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত এবং আদালতের কার্যতালিকার ওপর নির্ভর করছে।

সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। আন্দোলনের সময় যারা স্বজন হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দিকে তাকিয়ে আছেন। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা সাজা পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। একই সাথে দেশের চলমান বিচারিক সংস্কার ও কঠোর আইনি ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই এই মামলাটিকে দেখা হচ্ছে।

আইনি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আজ যদি রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হয়, তবে তা দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি বার্তা দেবে যে, জননিরাপত্তা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। মামলার পরবর্তী শুনানি ও আদালতের আদেশের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত বিচারিক রায় ঘোষণা করা হবে। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা আজ দিনের কার্যক্রমের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন।

পশুর নদীতে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় উদ্বেগ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
পশুর নদীতে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় উদ্বেগ

মোংলা বন্দরের পশুর নদীতে ১২০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে ডুবে গেছে এম ভি ফুলবাড়ী নামের একটি কার্গো জাহাজ। একটি ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।

মোংলা বন্দরের অদূরে পশুর নদের জলসীমায় একটি বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ অন্য একটি ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষের পর নদীর তলদেশে ডুবে গেছে। এ ঘটনায় বিপুল পরিমাণ কয়লা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাথমিক প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এম ভি ফুলবাড়ী নামের কার্গো জাহাজটি প্রায় ১২০০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। নদীর নির্দিষ্ট চ্যানেল দিয়ে যাওয়ার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বড় ট্যাংকারের সঙ্গে এর ধাক্কা লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ বলছে, সংঘর্ষটি এতটাই প্রবল ছিল যে কার্গো জাহাজের তলা ফেটে যায় এবং দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করে। নাবিকেরা জাহাজটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই জাহাজটি নদীতে ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পরপরই মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষসহ কোস্ট গার্ড ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা শুরুর প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। তবে নদীতে পানির স্রোত ও গভীরতা উদ্ধার কাজের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কার্গো জাহাজটিতে থাকা নাবিক ও ক্রু সদস্যদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিশ্চিত করতে এখনো অভিযান চলছে। তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে ও দুর্ঘটনা কবলিত জাহাজের সঠিক অবস্থান শনাক্ত করতে কাজ শুরু করা হয়েছে।

পশুর নদী মোংলা বন্দরের প্রধান নৌ-পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জাহাজডুবির এই ঘটনায় নদের চ্যানেলে অন্য কোনো নৌযান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন বন্দরের কর্মকর্তারা। সাধারণত এ ধরনের দুর্ঘটনার পর নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং বড় জাহাজ চলাচলের পথ সুগম রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। যদি ডুবে যাওয়া জাহাজটি প্রধান চ্যানেলের ভেতরে অবস্থান করে, তবে বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবেশবাদীরা পশুর নদীতে বারবার জাহাজডুবির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে কয়লা বা রাসায়নিক পদার্থবাহী জাহাজ ডুবে গেলে নদীর জীববৈচিত্র্য ও পানির গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সুন্দরবনের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এই নদীটির গুরুত্ব অপরিসীম। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডুবে যাওয়া জাহাজের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে কয়লাসহ জাহাজটি উদ্ধারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ট্যাংকারের সংশ্লিষ্টতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। সব মিলিয়ে মোংলা বন্দর এলাকায় এখন উদ্ধার তৎপরতা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার বিষয়টিই অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবার ও অভিনয়ের ধারা: কেন সবার পথ সমান হয়নি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবার ও অভিনয়ের ধারা: কেন সবার পথ সমান হয়নি

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যরা অনেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরিবারের সবার আগ্রহ সমান ছিল না। সিনেমা পাড়ার পরিচিত মুখ হয়েও কেন তার সব সন্তান ক্যামেরার সামনে সমানভাবে সক্রিয় নন, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বরাবরই আগ্রহ রয়েছে।

বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নায়করাজ রাজ্জাক একটি অবিচ্ছেদ্য নাম। কয়েক দশকের অভিনয় জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একটি সুশৃঙ্খল পরিবারের অভিভাবক। রাজ্জাকের পরিবার মানেই যেন চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে এক গভীর সম্পর্কের মেলবন্ধন। তবে এই পরিবারের সবার পথ যে অভিনয়েই চলতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। তার দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাট দীর্ঘদিন ধরে রূপালি পর্দার সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। বাপ্পারাজ এবং সম্রাট দুজনেই বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। কিন্তু রাজ্জাকের পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিনয়ের জগতে নিয়মিত না দেখা যাওয়ায় ভক্তদের মধ্যে কৌতূহল থাকাটা অস্বাভাবিক নয়।

একটি পরিবারের সবাই যে একই পেশায় আগ্রহী হবেন না, সেটিই স্বাভাবিক। অভিনয়ের জাদুকর নায়করাজের সন্তানদের ক্ষেত্রেও এমনটাই ঘটেছে। বিনোদন জগতের চাকচিক্য, শুটিংয়ের ধকল এবং প্রচারের আলোর নিচে থাকা অনেকের কাছেই হয়তো খুব একটা স্বস্তিদায়ক মনে হয়নি। রাজ্জাকের সন্তানদের মধ্যে অনেকেই ব্যক্তিগত জীবনে অভিনয়ের চেয়ে নিজস্ব পেশা বা সৃজনশীলতার অন্য কোনো ক্ষেত্রকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এটি মূলত ব্যক্তিগত রুচি এবং পছন্দের বিষয়। বিশেষ করে যখন পরিবারের প্রধান একজন কিংবদন্তি অভিনেতা হন, তখন পরবর্তী প্রজন্মের ওপর প্রত্যাশার চাপও থাকে অনেক বেশি। এই চাপ এড়িয়ে অনেকে নিজেদের ক্যারিয়ার নতুনভাবে সাজাতে পছন্দ করেন।

নায়করাজ রাজ্জাক নিজেও তার সন্তানদের ক্যারিয়ারের ব্যাপারে অত্যন্ত উদার ছিলেন। তিনি বরাবরই চেয়েছেন তার সন্তানরা যেন তাদের নিজেদের ভালো লাগার কাজগুলো করে সফল হয়। তিনি কখনো কাউকে অভিনয়ের জগতে আসতে বাধ্য করেননি। বাপ্পারাজ ও সম্রাট অভিনয়ের মাধ্যমে বাবার ঐতিহ্য ধরে রাখলেও, অন্য যারা ক্যামেরার আড়ালে থেকে নিজেদের জীবন সাজিয়েছেন, তারা মূলত নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছেন। চলচ্চিত্রের জগত যতটা রোমাঞ্চকর, ততটাই চ্যালেঞ্জিং। এখানে টিকে থাকার লড়াই এবং নিয়মিত অভিনয়ের ব্যস্ততা যে সবার ধাতে সয় না, তা রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যদের জীবন দেখলেই বোঝা যায়।

বাপ্পারাজ বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ করে পার্শ্বচরিত্রে এবং চরিত্রে অভিনয়ে নিজের একটি আলাদা দর্শক তৈরি করেছেন। সম্রাটও নির্মাণ এবং অভিনয়ের বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করেছেন। অথচ একই ছাদের নিচে বেড়ে ওঠা অন্যান্য সদস্যদের ভিন্ন পথ বেছে নেওয়াটা মূলত তাদের ব্যক্তিগত স্বকীয়তারই বহিঃপ্রকাশ। একজন মানুষের সফলতার মাপকাঠি যে কেবল বড় পর্দার অভিনয়ই হতে হবে, এমন কোনো বদ্ধমূল ধারণা নায়করাজের পরিবারে ছিল না। পরিবারের পরিবেশ সবসময়ই সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দিয়েছে, তবে তা অভিনয়ের মাধ্যমেই হতে হবে এমন কোনো অলিখিত নিয়ম সেখানে ছিল না।

বর্তমানে বিনোদন জগতের প্রেক্ষাপট অনেকটাই বদলেছে। নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অভিনয় এখন একটি পেশার চেয়েও বেশি কিছু, আবার অনেকের কাছে এটি কেবল শখের জায়গা। নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবারের ক্ষেত্রেও এই চিত্রটি ভিন্ন নয়। যারা অভিনয়ের মূল ধারায় আসেননি, তারা হয়তো অন্য কোনো কর্মক্ষেত্র বেছে নিয়েছেন যা তাদের জীবনের লক্ষ্য এবং স্বপ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দিনশেষে একজন মানুষের পরিচয় তার কর্মেই, সেটি অভিনয় হোক কিংবা অন্য কোনো পেশা। কিংবদন্তি রাজ্জাকের সন্তান হিসেবে পরিচিতি পাওয়া যেমন গৌরবের, তেমনি নিজস্ব পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়াটাও সমান মর্যাদার। নায়করাজের পরিবার এই সত্যটিই বরাবর তুলে ধরেছে যে, শিল্পের কোনো নির্দিষ্ট সীমানা নেই এবং প্রত্যেককে নিজ নিজ পথ খুঁজে নিতে স্বাধীনতা দেওয়াই হলো প্রকৃত অভিভাবকত্ব।

সর্বশেষ
কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যা: মাহবুব-উল আলম হানিফসহ চারজনের বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ আজ পশুর নদীতে কয়লাবোঝাই জাহাজডুবির ঘটনায় উদ্বেগ নায়করাজ রাজ্জাকের পরিবার ও অভিনয়ের ধারা: কেন সবার পথ সমান হয়নি পশ্চিমবঙ্গে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় পুলিশের গুলিতে নিহত অভিযুক্ত তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী তকমা থেকে মুক্তি চান প্রাথমিক শিক্ষকরা কার্ড অপারেশনস অফিসার পদে নিয়োগ দিচ্ছে স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির বক্তব্যে এমআরইউ’র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ৭ নভেম্বর ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ শরতের ভোরে শিউলির সুবাসে এক স্নিগ্ধ সকাল আইন পেশায় তালিকাভুক্তির বয়সসীমা নির্ধারণ করলো বার কাউন্সিল
Advertisement