খুঁজুন
, ,

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া

নওগাঁর মহাদেবপুরে শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে। নিজের প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই শ্যালিকাকে বিয়ে করার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে ওই ব্যক্তিকে মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশায় একজন আইনজীবীর সহকারী এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিকটকার হিসেবেও পরিচিত।

ঘটনাটি ঘটে গত সোমবার দিবাগত রাতে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ব্যক্তি এলাকায় নানা ধরনের টিকটক ভিডিও তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন আইনজীবীর সহকারী হিসেবে কাজ করলেও ব্যক্তিগত জীবনে তার নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই গুঞ্জন ছিল। তবে সম্প্রতি তিনি যখন নিজের প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে শ্যালিকাকে বিয়ে করেন, তখন বিষয়টি জানাজানি হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এই বিয়েকে সামাজিক ও পারিবারিক রীতির পরিপন্থী বলে মনে করছেন, যা তাদের মধ্যে తీవ్ర প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

সোমবার রাত ১০টার দিকে বিরামগ্রাম এলাকায় উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত ব্যক্তির মুখোমুখি হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তারা ওই ব্যক্তিকে ঘিরে ফেলেন এবং বিয়ের বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এরপর জনরোষের এক পর্যায়ে তার মুখে চুন ও কালি মাখিয়ে দেওয়া হয়। এমন অপমানজনক পরিস্থিতির পর তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ঠিক কী পরিস্থিতিতে এবং কার সম্মতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল, তা নিয়ে এলাকায় নানা মতভেদ রয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নৈতিকতার স্খলন হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ একে আইন ও সমাজের প্রথা ভাঙার অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি পেশাদার টিকটকার হওয়ার কারণে তার প্রতিটি পদক্ষেপ স্থানীয়দের নজর কেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ভিডিও শেয়ার করতেন, যা অনেকের কাছে পরিচিত। তবে শ্যালিকাকে বিয়ের এই ঘটনাটি তার ব্যক্তিগত ইমেজের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। স্থানীয়রা জানান, এই ঘটনার পরপরই তিনি এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বা অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও এ বিষয়ে কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ বা সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।

বর্তমানে মহাদেবপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তবে একজন ব্যক্তি কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন এবং তার প্রথম স্ত্রী কীভাবে এই বিয়ে মেনে নিলেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতুহলের শেষ নেই। বিয়ে বা পারিবারিক এই ধরনের অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনায় সাধারণত সামাজিকভাবে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হয়, এটি তারই একটি বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং আইনগত দিক খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় সচেতন মহলে দাবি উঠছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

খুলনা বটিয়াঘাটায় গুলিবিদ্ধ যুবক, দুজন গুলিবিদকে গুলি করে পালিয়ে গেলেন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
খুলনা বটিয়াঘাটায় গুলিবিদ্ধ যুবক, দুজন গুলিবিদকে গুলি করে পালিয়ে গেলেন

খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় রাতের অন্ধকারে এক ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে বারোটা টার দিকে, বড় কড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে দুই অপরিচিত ব্যক্তি গুলিবিদকে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ ছিলেন ৩৪ বছর বয়সী সোহেল শেখ, যিনি স্থানীয় যুবদল নেতারূপে পরিচিত ছিলেন। গুলি হওয়ার পর তাকে প্রথমে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে আঘাতের তীব্রতা এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ঘটনার সময় গুলিবিদরা সোহেল শেখের হাতে থাকা টাকা ও ব্যাগ নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় এখনো জানা যায়নি, তবে স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী তারা গুলিবিদ্ধের কাছ থেকে নগদ অর্থ চুরি করার উদ্দেশ্যে গুলি চালিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুলিবিদদের গতি ও গোপনীয়তা নিয়ে পুলিশ তদন্তে ত্বরান্বিত হয়েছে।

সোহেল শেখের পরিবার এবং বন্ধুদের মতে, তিনি সম্প্রতি কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন, তবে গুলিবিদদের সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। গুলিবিদ্ধের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলি আঘাতের ফলে তার শিরা ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে, তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা স্থিতিশীল, তবে চিকিৎসা চলমান রয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। গুলিবিদদের গাড়ি, গুলি চালানোর সময়ের সেলফি বা ভিডিও রেকর্ডিং ইত্যাদি কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে আশেপাশের বাসিন্দাদের কাছ থেকে শোনা গলিপথের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গুলিবিদদের সনাক্তকরণে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এই ঘটনার পর খুলনা জেলার নিরাপত্তা সংস্থা স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করেছে এবং রাতে একা গাড়ি চালানো বা অন্ধকারে একা হাঁটা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া, গুলিবিদদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের শাসন বজায় রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

সোহেল শেখের পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন এবং পরিবারের সকলের প্রার্থনা ও সমর্থন তার দ্রুত সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। গুলিবিদদের শিকারের শিকারী হিসেবে সোহেল শেখের এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান আগমন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান আগমন

দেশের বৃহৎ অবকাঠামোগত প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে নিরবচ্ছিন্ন গতিতে। প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের আরও একটি নতুন চালান এসে পৌঁছেছে প্রকল্প এলাকায়। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই জ্বালানি বহনকারী গাড়িগুলো মঙ্গলবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। প্রকল্পটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং এই জ্বালানি সরবরাহ সেই লক্ষ্য অর্জনেরই একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ও নিরাপত্তাবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানিবাহী গাড়িগুলো পৌঁছানোর সময় পুরো এলাকাকে বিশেষ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রকল্পের অভ্যন্তরে এই জ্বালানি সফলভাবে পৌঁছানোর মাধ্যমে দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে এবং পারমাণবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এই জ্বালানি পরিবহন ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে, রাশিয়ার সরবরাহকৃত এই বিশেষায়িত জ্বালানি সোমবার সকালে আকাশপথে বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। বিশেষ ফ্লাইটে করে জ্বালানিগুলো প্রথমে ভারতের দিল্লির রুট হয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে যথাযথ সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বলয় তৈরি করে সড়কপথে পাবনার ঈশ্বরদী অভিমুখে যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মঙ্গলবার সকাল নাগাদ সেই চালান নিরাপদে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছায়। এবারের চালানের পরিমাণ ৪১ টন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগেও এই প্রকল্পের জন্য পারমাণবিক জ্বালানির চালান ধারাবাহিকভাবে আনা হয়েছে, যা প্রকল্পের গতিপ্রকৃতিকে ত্বরান্বিত করেছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পর্যায়ক্রমে এই জ্বালানি আনা হচ্ছে। রাশিয়ার প্রযুক্তি সহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তার বিষয়টিকে। বিশেষ করে তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে যে আন্তর্জাতিক প্রটোকল রয়েছে, তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হয়েছে। জ্বালানিবাহী ট্রাকগুলোর গতিপথ মনিটর করা থেকে শুরু করে গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত ছিল গোয়েন্দা নজরদারিতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এই মেগা প্রকল্প নিয়ে আগ্রহের কোনো কমতি নেই, তারা প্রকল্প এলাকায় জ্বালানির আগমনকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আসা এই ৪১ টন ইউরেনিয়াম এখন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সংরক্ষণ করা হবে। পরবর্তী ধাপে এই জ্বালানি চুল্লিতে স্থাপনের কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় এটি বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। রূপপুর শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং এটি আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এক প্রতীক। সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেও নিয়মিত এই প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তার খাতিরে জ্বালানি পরিবহনের সময় সড়কপথে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছিল। সাধারণ যানবাহনের চলাচল সীমিত রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে বাড়তি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত সফলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী এবং নিরাপত্তারক্ষী বাহিনী দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ধারাবাহিকভাবে জ্বালানি আসার বিষয়টি নিশ্চিত করছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু সম্ভব হবে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি আসার পর এখন পরবর্তী কারিগরি ধাপগুলো সম্পন্ন করা হবে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তদারকির মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। দেশের জ্বালানি খাতে এই পারমাণবিক কেন্দ্র এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রকল্পের সফল সমাপ্তি শুধু দেশের অর্থনীতিতে নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতাকেও জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে। জ্বালানির এই চালান আসা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে আরেকটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার অভিযোগ, জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ
   
মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার অভিযোগ, জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা প্রদানের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সোমবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করে নিজেদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে যে ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য। এ ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সোমবার রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বটতলায় সমবেত হন। তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করেন এবং পরবর্তীতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা কুশপুত্তলিকায় নানা আপত্তিকর স্লোগান লেখা ছিল। বিশেষ করে কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ এবং ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ জাতীয় সম্বোধন লিখে প্রতিবাদ প্রদর্শন করা হয়। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে প্রতিবাদ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা একজন মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দাবি করেন, যারা এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সমাবেশ থেকে বক্তারা জানান, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তির বিরুদ্ধে যে কোনো ধরনের অপতৎপরতা রুখে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়া যারা দাফন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান শিক্ষার্থীরা।

এদিকে ক্যাম্পাসে হঠাৎ করে এমন বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং কুশপুত্তলিকা দাহ করার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই মুক্তিযোদ্ধাকে অসম্মান করার এই প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের এই জাগরণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যায়।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি বা তাদের শেষকৃত্যে নানা ধরনের বাধার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মূলত সেই সকল ঘটনারই একটি সামগ্রিক প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং আগামীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের মতে, স্বাধীন বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ শয্যায় যাওয়ার আগে যদি এমন বাধার সম্মুখীন হতে হয়, তবে তা সমগ্র জাতির জন্যই লজ্জাজনক।

সর্বশেষ
খুলনা বটিয়াঘাটায় গুলিবিদ্ধ যুবক, দুজন গুলিবিদকে গুলি করে পালিয়ে গেলেন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়ামের নতুন চালান আগমন মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার অভিযোগ, জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ দুর্নীতির মামলায় বিসিএস ক্যাডার সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে শ্যালিকাকে বিয়ে, ক্ষোভে টিকটকারের মুখে চুন-কালি দিয়ে এলাকাছাড়া স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি টঙ্গীর মাদ্রাসায় ছাত্রকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ, উত্তাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দীপাবলির আবহে দিল্লির ব্যবসায়ীদের আবেদন, রাহুল গান্ধীর ‘৩০ সেকেন্ডের’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক নতুন ধারার জম্বি সিনেমা: বিনোদন জগতে ভয়ের নতুন মাত্রা হংকংয়ের বাজারে বাংলাদেশি পোশাকের সম্ভাবনা বাড়াতে বিশেষ রোড শো
Advertisement