খুঁজুন
, ,

কসবায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মীমাংসার চেষ্টা, স্থানীয় বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
কসবায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মীমাংসার চেষ্টা, স্থানীয় বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দশ বছর বয়সি শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার পর স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক করে অভিযুক্তকে ক্ষমা করিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দশ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার পর বিচার পাওয়ার বদলে উল্টো ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের হলেও ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তৎপরতা চালানো হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী জানিয়েছেন। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে কয়েক দফা বৈঠক করে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করার গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এ ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে কসবায় ওই শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ঘটনার আকস্মিকতায় ও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে প্রথমদিকে অসহায় পরিবারটি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন প্রভাবশালীরা। স্থানীয় এক বিএনপি নেতা এই মীমাংসা প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই নেতার উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক করে অভিযুক্তকে ক্ষমা চেয়ে পার পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। তবে পরিবারটি সেই চাপে নতি স্বীকার না করে আইনের আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যানুসারে, ঘটনার সত্যতা নিয়ে তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত ব্যক্তি গা ঢাকা দিয়েছিল, তবে পুলিশ তাকে ধরতে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সবসময়ই এমন ন্যক্কারজনক অপরাধের পরও সালিশি বৈঠকের নামে অপরাধীদের বাঁচানোর অপচেষ্টা করে থাকে, যা আইনের শাসনের পথে বড় বাধা।

ধর্ষণ একটি অমার্জনীয় অপরাধ এবং এ ধরণের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ বা মীমাংসার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন আইন ও মানবাধিকার কর্মীরা। তারা বলছেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। প্রভাব খাটিয়ে অপরাধীদের রক্ষা করার এই সংস্কৃতি সমাজে অপরাধ প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ভুক্তভোগী পরিবার যেন কোনো প্রকার হুমকি বা চাপের মুখে না পড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্থানীয় রাজনীতি এবং সামাজিক অস্থিরতা নিয়ে নানা মহলে উদ্বেগ থাকলেও, এমন অপরাধের ঘটনায় প্রভাবশালী নেতাদের হস্তক্ষেপ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সামনেও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মামলা যেহেতু হয়েছে, তাই নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রভাবই অপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সাথে জড়িত ও এর পেছনে মদদদাতাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বড় না হয়ে অপরাধটিই যেন মূল বিবেচ্য হয়, সেই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী। আইন অনুযায়ী এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।

চারদিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
চারদিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাকির বিশেষ আমন্ত্রণে চারদিনের এক সরকারি সফরে বর্তমানে টোকিওতে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি টোকিও বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা.সহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল। মূলত জাপানি নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময়ের জন্য এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

টোকিও পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জাপানি সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সেদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা। বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রীকে সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার নির্ধারিত আবাসস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের সরকার প্রধানদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

জাপান দীর্ঘকাল ধরেই বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেলসহ যোগাযোগ খাতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে জাপানের ভূমিকা অগ্রগণ্য। এবারের সফরে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং নতুন নতুন খাতে অংশীদারিত্বের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নানা সংকট নিরসনে উভয় দেশ কীভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

সফরকালে জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক করার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে তিনি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। জাপান থেকে আরও বেশি বিনিয়োগ আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী দেখা করতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য যে, চারদিনের এই সফর শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তার এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে যে ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করছেন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দুই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের এই বৈঠক ও আলোচনার ফলাফল ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষ দিনে প্রার্থীদের প্রচারণা ও সমাবেশ

মোঃ আসলাম পারভেজ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
   
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষ দিনে প্রার্থীদের প্রচারণা ও সমাবেশ

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে প্রচার-প্রচারণার শেষ দিনে নির্বাচনী এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রার্থী ও তাঁদের অনুসারীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর হয়ে ওঠে নির্বাচনী পরিবেশ। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে তাঁরা নানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে সক্রিয় ছিলেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ভূল্লী কুমারপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিএনপির উদ্যোগে একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভূল্লী এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় ভোটাররা অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির নেতা মোয়াজ্জেম আলাল হোসেন। বক্তব্যে তিনি স্বাধীনতার পর জাসদের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমির ও সেক্রেটারির রাজনৈতিক অতীত নিয়েও কথা বলেন তিনি।

সমাবেশে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন তাঁর বাবা ও বড় ভাইয়ের জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী তৎপরতা লক্ষ করা যায়।

অন্যদিকে, উপনির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যান। শেষ দিনের প্রচার-প্রচারণায় প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন এবং সমর্থন প্রত্যাশা করেন।

আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের শেষ মুহূর্তের তৎপরতা এখন নির্বাচনী এলাকার আলোচনার অন্যতম বিষয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম: মালয়েশিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
   
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম: মালয়েশিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক

মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ঐতিহাসিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তিনি প্রবাসীদের দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেন এবং জাতীয় সংকটকালে তাদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধনে প্রবাসীরা যেভাবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তা দেশের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরকালে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা বলেন। তিনি মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোকপাত করেন।

মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীরা কেবল দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ডই নন, বরং দেশের যেকোনো সংকটে তারা বরাবরই সচেতন ও সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার সেই অভূতপূর্ব আন্দোলনে প্রবাসীদের নৈতিক সমর্থন এবং সরব উপস্থিতি দেশের ভেতরে ও বাইরে এক অভিন্ন চেতনা তৈরি করেছিল। তিনি বলেন, প্রবাসীরা সুদূর প্রবাসে থেকেও দেশের প্রতিটি মুহূর্তের খবরাখবর রেখেছেন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাদের সাধ্যমতো অবদান রাখার চেষ্টা করেছেন। দেশের ক্রান্তিলগ্নে প্রবাসীদের এই আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের মানসিকতাকে তিনি সাধুবাদ জানান।

সফরকালে মাওলানা মামুনুল হক মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাধারণ প্রবাসীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও কষ্টের কথা শোনেন এবং দেশের উন্নয়নে তাদের আরও বড় ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে যে বড় ভূমিকা পালন করছে, তা তার বক্তব্যে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখন নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় লড়াই করছিল, তখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও সংহতি প্রকাশ করেছেন, যা একটি বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে প্রেরণা জুগিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসীরাও তাদের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কর্মক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। মাওলানা মামুনুল হক তাদের আশ্বস্ত করেন যে, নতুন বাংলাদেশে প্রবাসীদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের কষ্টার্জিত অর্থ কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়নেই নয়, বরং দেশের কল্যাণে ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও শক্তি জোগায়। দেশের সংকটময় মুহূর্তে প্রবাসীদের এই সক্রিয়তা প্রমাণ করেছে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও প্রবাসীরা দেশের প্রতি কতটা দায়বদ্ধ।

এই সফর ও মতবিনিময় সভায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির বাইরেও প্রবাসীদের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, বিদেশের মাটিতে থেকে নিজেদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধারণ করে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীরা যেন সব সময় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজেদের কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সচেষ্ট থাকেন, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি। পরিশেষে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি সবার জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করেন। এই সংহতি ও ঐক্যই দেশের ভবিষ্যতের জন্য কল্যাণকর হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

সর্বশেষ
চারদিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে শেষ দিনে প্রার্থীদের প্রচারণা ও সমাবেশ কসবায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মীমাংসার চেষ্টা, স্থানীয় বিএনপি নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম: মালয়েশিয়ায় মাওলানা মামুনুল হক ঘরের মাঠে জয়ের ধারায় লিভারপুল: ব্রাইটনের বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয় স্বাধীনতার পর জাসদের লোকেরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গলা কেটে হত্যা করত, জামায়াতের আমির-সেক্রেটারিও জাসদ থেকে এসেছেন—মোয়াজ্জেম আলাল হোসেন ক্যাঙ্গারু কোর্ট নিয়ে ফেসবুক পোস্ট: দুই আইনজীবীর মামলার শুনানি আজ রাজধানীতে বিশেষ অভিযানে ৬৬২ জন আটক: মিরপুরে তৎপরতা বেশি আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদনের শেষ তারিখ ৫ নভেম্বর
Advertisement