খুঁজুন
, ,

রাশেদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না আসিফ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
রাশেদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না আসিফ

বিএনপির মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে রাশেদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। রাশেদের বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের আগের রাতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আসিফ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন।

বিষয়টি ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি দিক—আসিফের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ এবং মনোনয়ন পেতে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি। তবে রাশেদের বক্তব্যের এই অংশকে আসিফ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে এর বাইরে কোনো সরাসরি উদ্ধৃতি বা বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্যটির প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর বেশি কিছু তাঁর নামে আরোপ করার সুযোগ নেই।

রাশেদের ভাষ্যে, ঘটনাটি ঘটেছিল আসিফের উপদেষ্টার পদ ছাড়ার আগের রাতে। সময়ের এই উল্লেখটি দাবিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; কারণ এতে পদত্যাগের সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা—দুই বিষয়কে একই ধারাবাহিকতায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এখানে যে তথ্য রয়েছে, তা দিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কারণ কিংবা ওই রাতের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে দাবির বাইরে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, আসিফ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন চাইতে সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়েছিলেন। অর্থাৎ রাশেদের বক্তব্যে শুধু সাক্ষাতের কথা নয়, সাক্ষাতের উদ্দেশ্য হিসেবেও মনোনয়ন চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এ দাবি নিয়ে আসিফের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা, সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য কিংবা সাক্ষাতের অন্য কোনো বিবরণ এখানে নেই। সে কারণে দাবিটিকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করে রাশেদের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

আসিফের পক্ষ থেকে বক্তব্যটিকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি জানানো হলেও কেন তিনি এমন অবস্থান নিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তিনি দাবিটি অস্বীকার করেছেন কি না, কিংবা এর কোনো অংশের জবাব দিয়েছেন কি না—সেসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। ফলে তাঁর অবস্থানকে বক্তব্যটির প্রতি গুরুত্ব না দেওয়ার মধ্যেই সীমিত রাখা যায়; এর সঙ্গে অন্য কোনো প্রতিক্রিয়া জুড়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা, দলের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিষয়কে সামনে আনে। এ ক্ষেত্রেও রাশেদের বক্তব্যে মনোনয়ন চাওয়ার একটি দাবি এসেছে। তবে কোনো দলের মনোনয়ন পাওয়ার আবেদন বা আগ্রহের কথা বলা আর মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। এখানে আসিফ মনোনয়ন পেয়েছিলেন, দল তাঁকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিংবা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল—এমন তথ্য নেই।

ঘটনার সময়, স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে বক্তব্যে যা বলা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত বিবরণ যোগ করার মতো তথ্যও নেই। সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় ঠিক কী আলোচনা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না, অথবা সাক্ষাতের পর কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। তাই ওই রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো বিবরণ বা উদ্দেশ্য অনুমান করে বলা যাবে না।

এখন পর্যন্ত আলোচনার মূল বিষয় রাশেদের দাবি এবং আসিফের তা গুরুত্ব না দেওয়ার অবস্থান। দাবিটির সত্যতা, সাক্ষাতের বিস্তারিত এবং মনোনয়ন চাওয়ার প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণ বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে। তার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, রাশেদের বক্তব্যে উপদেষ্টার পদত্যাগের আগের রাতে সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে ধানের শীষে নির্বাচনের মনোনয়ন চাওয়ার কথা বলা হয়েছে; আর আসিফ সেই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা

মার্চ ২০১৩-এ রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার মধ্যে শেষবারের মতো মুখোমুখি হওয়া এল‑ক্লাসিকো, জোসে মরিনিওর কোচিং ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্মরণীয়। সেই ম্যাচে রিয়াল ২-১ হারে, বার্সেলোনার একমাত্র গোলটি লিওনেল মেসি করেন। তবে সেই দিনের পর থেকে মরিনিওর রিয়াল দল আর বার্সেলোনার মুখোমুখি হয়নি; আজ ২০২৬ সালে তিনি আবার লা লিগার শীর্ষে বার্সেলোনার বিপক্ষে দাঁড়াতে যাচ্ছেন।

মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর দলটি ১১টি মুখ্য খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত ছিল, যাদের প্রত্যেকেরই আজকের দিন পর্যন্ত আলাদা আলাদা পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে দুইজন—একজন গোলকিপার এবং একজন ডিফেন্ডার, যাদের নাম লোপেজ এবং সের্হিও রামোস।

মরিনিও যখন ২০১৩ সালে ইকার ক্যাসিয়াসকে দল থেকে বাদ দিয়ে লোপেজকে গোলকিপার হিসেবে বেছে নেন, তখন তা তীব্র বিতর্কের জন্ম দেয়। লোপেজ তখনও ৪০ বছর অতিক্রম করলেও, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের গুণে মরিনিও তাকে বিশ্বাস করেন। লোপেজের ক্যারিয়ার তখন থেকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। রিয়াল মাদ্রিদে শেষ মৌসুমের পর তিনি স্পেনের রায়ো ভায়েকানোয় এক সিজন কাটিয়ে গ্লাভস জিতেন। অবসরের পরেও তিনি রিয়াল মাদ্রিদে ফিরে আসেন, তবে এবার কাস্তিয়া দলের গোলকিপিং কোচ হিসেবে। মূল দলের গোলকিপিং কোচ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ হলে মরিনিও তাকে অস্থায়ীভাবে মূল দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত করেন, ফলে লোপেজ আবারও মরিনিওর কাছাকাছি কাজ করার সুযোগ পান। আজ লোপেজ মরিনিওর সহকারী হিসেবে কাজ করছেন, যা তার দীর্ঘ ফুটবলের যাত্রার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।

অন্যদিকে, সের্হিও রামোসের গল্পটি তেমনই আকর্ষণীয়। ৪০ বছর বয়সের কাছাকাছি পৌঁছেছে রামোস, তবে তার ফুটবলের প্রতি উত্সাহ এখনও কমেনি। ডিসেম্বর মাসে মেক্সিকোর ক্লাব মন্টেরেতে ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে তিনি কোনো ক্লাবে যুক্ত নন। যদিও তার বুট জোড়া এখনও ত্যাগ করা হয়নি, তবে বর্তমানে তিনি ক্লাবহীন অবস্থায় আছেন। রামোসের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিভিন্ন অনুমান রয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেননি।

লাপস এবং রামোস ছাড়াও, মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর অন্যান্য খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ফুটবলের জগতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন স্বাভাবিক, এবং অনেকেই হয়তো এখন কোচিং, বিশ্লেষণ বা মিডিয়ার কাজ করছেন।

মরিনিওর ফিরে আসা এল‑ক্লাসিকোর প্রস্তুতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের বর্তমান দলটি লা লিগায় ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে, এবং বার্সেলোনা আবারও শীর্ষে ফিরে আসার লক্ষ্যে কাজ করছে। তবে ২০১৩ সালের সেই ম্যাচের স্মৃতি এবং সেই সময়ের খেলোয়াড়দের বর্তমান অবস্থা, বিশেষ করে লোপেজের সহকারী পদ এবং রামোসের ক্লাবহীন অবস্থা, এই ম্যাচকে অতিরিক্ত রঙিন করে তুলছে।

মরিনিও যখন আবারই বার্সেলোনার মুখোমুখি হবেন, তখন তিনি কেবল তার কৌশলগত দক্ষতা নয়, তার অতীতের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতিগুলিকেও পুনরায় পরীক্ষা করবেন। লোপেজের সহায়তায় তিনি কীভাবে দলকে পরিচালনা করবেন, আর রামোসের অনুপস্থিতি কীভাবে রিয়ালের ডিফেন্সকে প্রভাবিত করবে—এগুলোই হবে এই ম্যাচের অন্যতম প্রধান প্রশ্ন।

কসবায় শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে চাপা দেওয়ার চেষ্টা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
   
কসবায় শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে চাপা দেওয়ার চেষ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে জোর করে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে সালিস বসিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে ঘটনার তারিখ, অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়, সালিসে কারা উপস্থিত ছিলেন কিংবা পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটিকে ব্যবসায়ীর দোকানে নিয়ে যাওয়ার পর তার ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। শিশুটির বয়স ১০ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর; তবে অভিযোগের বর্ণনাকে তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাচাই করা জরুরি। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম বা বক্তব্য প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে নেই। তাই তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত নয়—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন নয়।

ঘটনাটি জানার পর পরিবার স্থানীয় সালিসের প্রসঙ্গ তুলেছে। তাদের অভিযোগ, সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা বা আড়াল করার চেষ্টা হয়েছিল। সালিসটি কোথায়, কখন এবং কার উদ্যোগে হয়েছিল, সেখানে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়নি। ফলে সালিসে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা বা কোনো সিদ্ধান্তের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন, বিশেষ করে শিশুর নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে।

শিশুর বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার অভিযোগের ক্ষেত্রে তার পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুটির নাম, বাড়ির ঠিকানা, স্কুল বা এমন কোনো পরিচিতি প্রকাশ করা উচিত নয়, যার মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনার বিবরণ প্রচারের সময় অপ্রয়োজনীয় বা সংবেদনশীল তথ্য এড়িয়ে চলা দরকার। এতে শিশুটির গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিকভাবে তাকে আরও ক্ষতির মুখে পড়া থেকেও সুরক্ষা দেওয়া যায়।

এ ঘটনায় অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবারের বক্তব্য যাচাই—সবই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো স্থানীয় সমঝোতা বা সালিসের অভিযোগ থাকলে সেটিও আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা দরকার। তবে তদন্তের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করে লেখা যায় না; আবার অভিযোগকে উপেক্ষা করাও উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও প্রমাণের ভিত্তিতেই ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আসতে পারে।

প্রাপ্ত বিবরণে শিশুটির শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে কি না, থানায় অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না—এসব তথ্য উল্লেখ নেই। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না, কিংবা তাঁর কোনো বক্তব্য আছে কি না, তাও জানা যায়নি। এসব তথ্য না থাকায় ঘটনার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। তবে শিশুটির সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা এবং অভিযোগটি যথাযথভাবে নথিভুক্ত করা জরুরি।

পরিবারের অভিযোগে স্থানীয় সালিসের বিষয়টি সামনে আসায় এ ধরনের ঘটনায় অনানুষ্ঠানিক মীমাংসার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অভিযোগ গুরুতর হলে তা চাপা দেওয়ার বদলে নিরপেক্ষভাবে যাচাই এবং আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় এগোনো প্রয়োজন। সালিসে কারা অংশ নিয়েছিলেন বা তাঁরা কী বলেছেন, তা নিশ্চিত না হওয়ায় এ পর্যায়ে কারও বিরুদ্ধে আলাদা অভিযোগ তোলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও যাচাইযোগ্য তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

ঘটনার সময় ও স্থান সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য, পরিবারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ জানা গেলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত নিশ্চিতভাবে বলা যায়, কসবার এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ১০ বছর বয়সী শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে পরিবার এবং তারা স্থানীয় সালিসে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার কথাও বলেছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, শিশুর গোপনীয়তা রক্ষা এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯ বছর: বিশ্বরাজনীতি ও ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সেই অধ্যায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
   
অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯ বছর: বিশ্বরাজনীতি ও ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সেই অধ্যায়

মানবসভ্যতার ইতিহাসে কিছু নির্দিষ্ট সময়খণ্ড বা দিন রয়েছে যা কেবল ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টানোর মতো ঘটনা নয়, বরং গোটা বিশ্বের মানচিত্র এবং রাজনৈতিক মতাদর্শকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে। এমনই এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী অধ্যায় ১৯১৭ সালের অক্টোবর বিপ্লব। তৎকালীন রাশিয়ার পেত্রোগ্রাদে বলশেভিকদের ক্ষমতা দখলের সেই ঘটনা কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরীণ রদবদল ছিল না, বরং তা বিশ্বরাজনীতির গতিপথকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান এবং পুঁজিবাদী বিশ্বের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধের যে সূচনা, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল সেই ঐতিহাসিক ১০ দিন বা তার আশেপাশের ঘটনাপ্রবাহে।

১৯১৭ সালের ২৫ অক্টোবর তারিখটি ইতিহাসে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যদিও তৎকালীন জুলিয়ান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এটি ছিল অক্টোবর মাস, বর্তমান গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের হিসেবে এটি নভেম্বরের শুরু। তবে ইতিহাসের পাতায় এটি অক্টোবর বিপ্লব নামেই পরিচিত হয়ে আছে। এই বিপ্লব ছিল রুশ সম্রাট বা জারতন্ত্রের পতন এবং এক নতুন রাজনৈতিক দর্শনের উত্থানের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। ভ্লাদিমির লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিকরা পেত্রোগ্রাদে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটিয়েছিল, তা শোষিত মানুষের স্বপ্নপূরণের স্লোগানকে সামনে রেখে সংঘটিত হয়েছিল। ভূমিহীন কৃষক এবং শ্রমিক শ্রেণির অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া এই বিপ্লব রাশিয়ার সামন্ততান্ত্রিক কাঠামোর ভিত নাড়িয়ে দেয়।

বিপ্লবটি একদিনে বা হঠাৎ করে সংঘটিত হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যসংকট এবং জার নিকোলাসের অদূরদর্শী নেতৃত্বের ফলে রুশ জনমনে যে চরম ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হয়েছিল, তা-ই এই বিপ্লবের অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। পেত্রোগ্রাদের শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল একটি পরিবর্তনের আশায়। বলশেভিকরা সেই ক্ষোভকে সংগঠিত করে ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হয়। এই ক্ষমতা দখলের পর পৃথিবী প্রথমবার প্রত্যক্ষ করে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদনের উপকরণের ওপর ব্যক্তিগত মালিকানার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় মালিকানার ধারণা প্রবর্তন করা হয়।

অক্টোবর বিপ্লবের প্রভাব কেবল রাশিয়ার সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর ফলে বিশ্বজুড়ে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়। পশ্চিমা বিশ্বের পুঁজিবাদী শক্তিগুলো এই নতুন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার উত্থানকে নিজেদের অস্তিত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। অন্যদিকে, এশিয়ার বিভিন্ন উপনিবেশ থেকে মুক্তিকামী অনেক দেশ রাশিয়াকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে দেখতে থাকে। বিংশ শতাব্দীর বেশিরভাগ সময় জুড়ে চলা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন স্নায়ুযুদ্ধের মূল কারণগুলো এই ১৯১৭ সালের ঘটনাপ্রবাহেই নিহিত ছিল।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যখন আমরা সেই উত্তাল সময়ের দিকে ফিরে তাকাই, তখন বুঝতে পারি ইতিহাস কীভাবে পুনরাবৃত্তি হয় এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব কত প্রজন্ম ধরে টিকে থাকতে পারে। অনেকের মতে, অক্টোবর বিপ্লব বিশ্বকে শিখিয়েছিল ক্ষমতার উৎস আসলে জনগণের হাতে। যদিও পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন এবং সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু অক্টোবর বিপ্লব যে সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সমতার ধারণা বিশ্বমঞ্চে নিয়ে এসেছিল, তা আজও রাজনৈতিক আলোচনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।

ঐতিহাসিকদের মতে, ১৯১৭ সালের সেই ঘটনাবহুল দিনগুলো মানবজাতির রাজনৈতিক চেতনাকে এক নতুন স্তরে উন্নীত করেছিল। শ্রেণিহীন সমাজ গঠনের যে তাত্ত্বিক কাঠামো লেনিন ও তাঁর সহযোগীরা সামনে এনেছিলেন, তার বাস্তব রূপায়ন নিয়ে আজও বিতর্ক রয়েছে। কেউ এটাকে আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন মনে করেন, আবার কারো দৃষ্টিতে এটি ছিল অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা। তবে সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে এটি স্বীকার করতেই হয় যে, অক্টোবর বিপ্লব ছাড়া বিংশ শতাব্দীর বিশ্বরাজনীতির রূপরেখা কল্পনা করা অসম্ভব ছিল।

বর্তমান সময়ে বিশ্ব যখন নতুন নতুন ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ইতিহাসের এই অধ্যায়টি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা কীভাবে একটি রাষ্ট্রকে আমূল বদলে দিতে পারে। পেত্রোগ্রাদের সেই রাজপথের স্লোগান আর বলশেভিকদের দৃঢ় পদচারণা হয়তো ইতিহাসের পাতায় ধুলো জমেছে, কিন্তু তার প্রভাব আজও বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী বিতর্কের গভীরে রয়ে গেছে। ১০৯ বছর আগের সেই ঘটনা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ইতিহাসের চাকা সবসময় সাধারণ মানুষের আকঙ্ক্ষার পথ ধরেই এগিয়ে চলে, তা সময় সাপেক্ষে রূপ পাল্টালেও মূল সুরটি অপরিবর্তিত থাকে।

সর্বশেষ
মরিনিওর শেষ এল‑ক্লাসিকোর নায়কদের বর্তমান অবস্থা কসবায় শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে চাপা দেওয়ার চেষ্টা অক্টোবর বিপ্লবের ১০৯ বছর: বিশ্বরাজনীতি ও ইতিহাসের মোড় ঘোরানো সেই অধ্যায় রাশেদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না আসিফ ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন অভিনেতা সুজাত শিমুল রাজউক প্লট বরাদ্দে নজিরবিহীন অনিয়ম, পূর্বাচল ও ঝিলমিলে স্থগিত কার্যক্রম লালমনিরহাটের দুর্গম চরে জ্ঞানের আলো ছড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শাহজালাল রুমি গ্রেফতার ইস্যু: বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে সতর্কতা ফ্লাইট চালুর ঘোষণার পরই রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হুথিদের হুমকি আজকের খেলার সূচি: এল ক্লাসিকোর উত্তেজনা ও ত্রিদেশীয় সিরিজের লড়াই
Advertisement