রাশেদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না আসিফ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ

বিএনপির মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়ে রাশেদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। রাশেদের বক্তব্যে দাবি করা হয়েছে, উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের আগের রাতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য আসিফ বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন।

বিষয়টি ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে দুটি দিক—আসিফের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ এবং মনোনয়ন পেতে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি। তবে রাশেদের বক্তব্যের এই অংশকে আসিফ গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর অবস্থান সম্পর্কে এর বাইরে কোনো সরাসরি উদ্ধৃতি বা বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্যটির প্রতিক্রিয়া হিসেবে এর বেশি কিছু তাঁর নামে আরোপ করার সুযোগ নেই।

রাশেদের ভাষ্যে, ঘটনাটি ঘটেছিল আসিফের উপদেষ্টার পদ ছাড়ার আগের রাতে। সময়ের এই উল্লেখটি দাবিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ; কারণ এতে পদত্যাগের সঙ্গে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা—দুই বিষয়কে একই ধারাবাহিকতায় উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এখানে যে তথ্য রয়েছে, তা দিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কারণ কিংবা ওই রাতের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য সম্পর্কে দাবির বাইরে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, আসিফ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়ন চাইতে সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়েছিলেন। অর্থাৎ রাশেদের বক্তব্যে শুধু সাক্ষাতের কথা নয়, সাক্ষাতের উদ্দেশ্য হিসেবেও মনোনয়ন চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এ দাবি নিয়ে আসিফের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা, সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্য কিংবা সাক্ষাতের অন্য কোনো বিবরণ এখানে নেই। সে কারণে দাবিটিকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন না করে রাশেদের বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।

আসিফের পক্ষ থেকে বক্তব্যটিকে গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি জানানো হলেও কেন তিনি এমন অবস্থান নিয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। তিনি দাবিটি অস্বীকার করেছেন কি না, কিংবা এর কোনো অংশের জবাব দিয়েছেন কি না—সেসব বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য নেই। ফলে তাঁর অবস্থানকে বক্তব্যটির প্রতি গুরুত্ব না দেওয়ার মধ্যেই সীমিত রাখা যায়; এর সঙ্গে অন্য কোনো প্রতিক্রিয়া জুড়ে দেওয়া ঠিক হবে না।

রাজনৈতিক অঙ্গনে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা, দলের সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বিষয়কে সামনে আনে। এ ক্ষেত্রেও রাশেদের বক্তব্যে মনোনয়ন চাওয়ার একটি দাবি এসেছে। তবে কোনো দলের মনোনয়ন পাওয়ার আবেদন বা আগ্রহের কথা বলা আর মনোনয়ন নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। এখানে আসিফ মনোনয়ন পেয়েছিলেন, দল তাঁকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কিংবা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছিল—এমন তথ্য নেই।

ঘটনার সময়, স্থান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে বক্তব্যে যা বলা হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত বিবরণ যোগ করার মতো তথ্যও নেই। সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় ঠিক কী আলোচনা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ ছিলেন কি না, অথবা সাক্ষাতের পর কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। তাই ওই রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন কোনো বিবরণ বা উদ্দেশ্য অনুমান করে বলা যাবে না।

এখন পর্যন্ত আলোচনার মূল বিষয় রাশেদের দাবি এবং আসিফের তা গুরুত্ব না দেওয়ার অবস্থান। দাবিটির সত্যতা, সাক্ষাতের বিস্তারিত এবং মনোনয়ন চাওয়ার প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পূর্ণ বক্তব্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হতে পারে। তার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, রাশেদের বক্তব্যে উপদেষ্টার পদত্যাগের আগের রাতে সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে ধানের শীষে নির্বাচনের মনোনয়ন চাওয়ার কথা বলা হয়েছে; আর আসিফ সেই বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন