লালমনিরহাটের দুর্গম চরে জ্ঞানের আলো ছড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
প্রান্তিক ও নদীভাঙন কবলিত চরাঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে ও তাদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে লালমনিরহাটের হরিণচড়া মাঝের চরে স্থাপিত হলো নতুন একটি লাইব্রেরি। রংপুর বন্ধুসভার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরির নামকরণ করা হয়েছে ‘আলোর লাইব্রেরি’। দীর্ঘদিন ধরে যারা দুর্গম এলাকার শিশুদের নিয়ে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কাজ করে আসছেন, তাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে এই নতুন সংযোজনটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করেছে। মূলত শিশুদের মাঝে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা এবং তাদের সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দীর্ঘ এক বছর ধরে রংপুর বন্ধুসভার উদ্যোগে হরিণচড়া মাঝের চরে ‘আলোর পাঠশালা’ নামের একটি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দুর্গম এই জনপদে সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বল্পতা এবং নিয়মিত পড়াশোনার সুযোগের অভাব পূরণ করতে এই পাঠশালাটি কাজ করে যাচ্ছে। পাঠশালার কার্যক্রমের এক বছর পূর্তি এবং প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী—এই দুটি বিশেষ উপলক্ষকে সামনে রেখেই নতুন এই লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, লাইব্রেরিটি চরাঞ্চলের শিশুদের জন্য বাইরের পৃথিবী সম্পর্কে জানার একটি বড় জানালা হয়ে উঠবে।
সদ্য যাত্রা শুরু করা এই লাইব্রেরিটিতে এখন পর্যন্ত ২০০টি বই সংরক্ষিত রয়েছে। গল্প, ছড়া, সাধারণ জ্ঞান ও পাঠ্যবইয়ের সমন্বয়ে বইয়ের সংগ্রহটি সাজানো হয়েছে, যাতে শিশুরা তাদের বয়স ও পছন্দ অনুযায়ী বই নির্বাচন করতে পারে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূজার দীর্ঘ ছুটির পর শিশুদের উপস্থিতিতে লাইব্রেরির কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হবে। সেই সময়ের মধ্যেই বইয়ের সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে চরের সব বয়সী শিশুই তাদের পছন্দমতো বই পড়ার সুযোগ পায়।
স্থানীয় অভিভাবকদের মতে, চরাঞ্চলে লাইব্রেরির মতো একটি স্থাপনা শিশুদের পড়ার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। এর আগে অনেক শিশুই বইয়ের সান্নিধ্য পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন লাইব্রেরির মাধ্যমে তাদের সেই অভাব পূরণ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রংপুর বন্ধুসভার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। ভবিষ্যতে শুধু বই পড়াই নয়, এই লাইব্রেরিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করারও ইচ্ছা রয়েছে আয়োজকদের।
রংপুর বন্ধুসভার সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্গম এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় নিয়ে আসার এই প্রচেষ্টা দীর্ঘমেয়াদী। তারা স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে এই লাইব্রেরিকে একটি পূর্ণাঙ্গ পাঠাগারে রূপান্তর করতে চান। চরের শিশুদের মাঝে বই পড়ার যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, তা অব্যাহত থাকলে এই লাইব্রেরিটি অদূর ভবিষ্যতে এলাকার শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]