খুঁজুন
, ,

বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকি: অচল বাংলাদেশ ব্যাংক ও ভূমি সেবা পোর্টাল

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
বৈশ্বিক সাইবার ঝুঁকি: অচল বাংলাদেশ ব্যাংক ও ভূমি সেবা পোর্টাল

বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঝুঁকির আঁচ সরাসরি লেগেছে বাংলাদেশেও। ডিজিটাল নিরাপত্তার খাতিরে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সাইবার হামলা ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ কিছু সেবার ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের অনলাইন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ওপর সাইবার আক্রমণের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সেই সতর্কবার্তার অংশ হিসেবেই বাংলাদেশ সরকার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ডিজিটাল অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পোর্টাল ও ওয়েবসাইট তদারকির আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে আর্থিক খাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল বাংলাদেশ ব্যাংক নয়, এর পাশাপাশি ভূমি সেবা পোর্টালের কার্যক্রমও আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। অনলাইনভিত্তিক ভূমি সেবার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিকরা ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেন। এই ওয়েবসাইটগুলো বন্ধ রাখার মূল কারণ হলো কোনো ম্যালওয়্যার বা হ্যাকারদের অনুপ্রবেশ ঠেকানো। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ওয়েবসাইটগুলো পুনরায় চালু করা হবে কি না বা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে কারিগরি দলগুলো সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞগণ মনে করছেন, ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়টি এখন জাতীয় নিরাপত্তার সমতুল্য। যেকোনো ছোট ত্রুটি থেকেও বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে। তাই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা একটি যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ। বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার ঝুঁকি চরমে, তখন এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা ছাড়া কর্তৃপক্ষের হাতে খুব একটা বিকল্প থাকে না।

এদিকে, ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাধারণ গ্রাহক ও সেবা প্রত্যাশীরা কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে যারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে নিয়মিত দাপ্তরিক বা আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তারা এখন সরাসরি বিকল্প পদ্ধতিতে কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করছেন। তবে জরুরি অবস্থায় সরকারি সেবার এই ডিজিটাল বিঘ্ন স্বাভাবিকভাবেই মানুষের দৈনন্দিন কাজে কিছুটা ধীরগতি এনেছে।

সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং সাইবার সিকিউরিটি সংশ্লিষ্টরা এখন পুরো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রতিনিয়ত নিরাপত্তা প্রটোকল আপডেট করছে। সাধারণ মানুষকেও এই সময়ে অনলাইন লেনদেন বা ডিজিটাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলোতে প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই সাইবার অস্থিরতা কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা, তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা, তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে

শরৎ শেষ হওয়ার এই সময়ে বায়ুদূষণের শীর্ষে থাকা শহরগুলোর তালিকায় আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা। আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকা রয়েছে পঞ্চম অবস্থানে।

শীতের আগমনি বার্তার আগেই রাজধানী ঢাকার বাতাসের গুণগত মান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আজ বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে, যা নগরবাসীর জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। মূলত নির্মাণ কাজ, যানবহনের ধোঁয়া এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে ঢাকার বাতাস প্রতিনিয়ত বিষাক্ত হয়ে উঠছে। বাতাসের মান পরিমাপকারী বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূচকে আজ ঢাকার স্কোর বাতাসের মানকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে নির্দেশ করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে ঢাকার বাতাসের মান খারাপ হতে শুরু করে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বাতাসের মান অস্বাস্থ্যকর হওয়ার কারণে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের জন্য বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যদিও শহরজুড়ে উন্নয়নমূলক কাজের ধীরগতি এবং পর্যাপ্ত জল ছিটানোর ব্যবস্থা না থাকায় বাতাসের ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। আজ রাজধানীর পরিবেশগত পরিস্থিতির এমন অবস্থায় নগরবাসীর মধ্যে জনস্বাস্থ্য নিয়ে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

দীর্ঘ ছুটির আমেজ কাটিয়ে নগরজীবনে কর্মব্যস্ততা ফিরেছে আজ। শারদীয় দুর্গোৎসবের সরকারি ছুটি শেষ হওয়ায় আজ সকাল থেকেই রাস্তায় মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। এক দিকে কর্মব্যস্ত মানুষের ছোটাছুটি, অন্যদিকে বায়ুদূষণের এই অস্বস্তিকর পরিবেশ নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ঢাকার পরিবেশবিদদের মতে, অবিলম্বে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে আসন্ন শীতে বায়ুদূষণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বায়ুর গুণগত মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা।

এদিকে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় মতিঝিল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৭৮ জনকে আটক করার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন বিশেষ অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সব মিলিয়ে কর্মব্যস্ত সপ্তাহের শুরুতে রাজধানী ঢাকা যেমন একদিকে বায়ুদূষণের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি, তেমনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ঢাকাবাসীর প্রত্যাশা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে পরিবেশগত সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে।

ঢাকার অদূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে পাগলার পুল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
ঢাকার অদূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে পাগলার পুল

নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় অবস্থিত পাগলার পুল ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ৩৬০ বছর আগে নির্মিত এই ঐতিহাসিক সেতুটি মোগল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। সময়ের পরিক্রমায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর জৌলুস অনেকখানি ম্লান হয়ে গেলেও, আজও এটি মোগল আমলের গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা জানান দেয়। ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত এই সেতুটি স্থানীয়দের কাছে একসময় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যা বর্তমানে একটি ঐতিহাসিক ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।

ইতিহাসবিদদের মতে, মোগল সুবাদার মীর জুমলার শাসনামলে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই সময় আরাকানি জলদস্যু ও মগদের আক্রমণ প্রতিহত করা এবং ঢাকা ও তার আশপাশের অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষে মীর জুমলা বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। পাগলার পুল নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক যাতায়াত সহজতর করা এবং এই অঞ্চলের ওপর দিয়ে শত্রুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা। সেতুটির কৌশলগত অবস্থান মোগলদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যা সে সময়ের রণকৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো।

দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেতুটির কয়েকটি স্তম্ভ এখনো মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, যা তৎকালীন নির্মাণশৈলীর দক্ষতা ও স্থায়িত্বের প্রমাণ দেয়। তবে ইট-সুড়কির গাঁথুনিতে তৈরি এই সেতুটি এখন অযত্ন আর অবহেলার শিকার। প্রতিনিয়ত প্রকৃতির প্রতিকূলতা ও যথাযথ সংস্কারের অভাব এর অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, আগে এটি দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল থাকলেও বর্তমানে সেতুটি পুরোপুরি ব্যবহার অনুপযোগী। এর ভগ্নদশা সত্ত্বেও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসে ইতিহাসের এই অংশটুকু দেখার জন্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীন এই স্থাপনাগুলো আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক। পাগলার পুল কেবল একটি সেতু নয়, বরং এটি মোগল আমলের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির এক জীবন্ত দলিল। ঐতিহ্যের এই অংশটিকে টিকিয়ে রাখা এখন সময়ের দাবি। যদি যথাযথ প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা এবং সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে এই ধ্বংসাবশেষ থেকে আরও অনেক অজানা ইতিহাস উন্মোচিত হতে পারে। পাশাপাশি, পর্যটন আকর্ষণ হিসেবেও এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমান সময়ে নগরায়ণ ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের ভিড়ে পাগলার পুলের মতো অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শনই হারিয়ে যাচ্ছে। এই ধ্বংসাবশেষটি রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া না হলে হয়তো অদূর ভবিষ্যতে এটি কেবলই একটি নাম হিসেবে ইতিহাসে টিকে থাকবে। স্থাপত্যশৈলী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এগিয়ে আসে, তবেই হয়তো এই অমূল্য স্মৃতিচিহ্নটি নতুন প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

ইতিহাসপ্রেমী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পাগলার পুলের আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে একে একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক। এতে করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আমাদের গৌরবান্বিত ইতিহাসের কথাগুলো পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই সেতুটির ভগ্নদশা কাটিয়ে ওঠার অপেক্ষায় এখন এলাকাবাসী ও দেশের ইতিহাসপ্রিয় মানুষ।

ব্রণ ফাটানোর ভিডিওতে কেন অদ্ভুত প্রশান্তি পান দর্শক?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ অপরাহ্ণ
   
ব্রণ ফাটানোর ভিডিওতে কেন অদ্ভুত প্রশান্তি পান দর্শক?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোতে আজকাল অদ্ভুত সব বিষয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্রণ ফাটানোর ভিডিও। নিজের মুখে একটি ব্রণ হলে যেখানে আমরা বিরক্তিবোধ করি, সেখানে অন্যের ব্ল্যাকহেডস বা ব্রণ বের হয়ে আসার দৃশ্য দেখে অনেকেরই মনে হয় যেন এক অদ্ভুত শান্তি পেলেন। কেউ হয়তো শিউরে উঠে ভিডিওটি এড়িয়ে যাচ্ছেন, আবার কেউ শেষ না দেখা পর্যন্ত কিছুতেই স্ক্রল করতে পারছেন না। এই ভিডিওগুলোর এমন সম্মোহনী ক্ষমতার নেপথ্যে মূলত লুকিয়ে আছে কিছু মনস্তাত্ত্বিক বিষয় এবং মস্তিষ্কের নিজস্ব কিছু প্রতিক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের ভিডিওগুলো দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্ক এক বিশেষ ধরনের তৃপ্তি বা সন্তুষ্টি লাভ করে। এটিকে অনেকটা এএসএমআর বা অটোনোমাস সেন্সরি মেরিডিয়ান রেসপন্স-এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। এএসএমআর হলো এমন এক অনুভূতি যেখানে মৃদু কোনো শব্দ, যেমন কাগজের খসখস শব্দ, নখের হালকা টোকা কিংবা ফিসফিস করে কথা বলা শুনলে শরীরে এক ধরণের শিহরণ বা প্রশান্তি অনুভূত হয়। ব্রণ ফাটানোর ভিডিওগুলোতে দৃশ্যমান কর্মকাণ্ড এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছোটখাটো শব্দগুলো অনেক দর্শকের মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণ ঘটাতে সহায়তা করে। ডোপামিন হলো আমাদের মস্তিষ্কের সেই রাসায়নিক উপাদান, যা আমাদের আনন্দ ও পুরস্কারের অনুভূতি দেয়। কোনো একটি জটিল সমস্যার সমাধান হয়েছে দেখলে মস্তিষ্ক যে ধরণের স্বস্তি অনুভব করে, ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কার হওয়ার দৃশ্যটিকেও ঠিক সেইভাবেই গ্রহণ করে অবচেতন মন।

গবেষকরা মনে করেন, এই ধরণের কাজের মাধ্যমে আমরা এক ধরনের ‘নিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলা’ দেখতে পাই। বাস্তব জীবনে আমরা যখন ব্রণ খুঁটি বা ফাটানোর চেষ্টা করি, তখন অনেক সময় ত্বকের ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু ডিজিটাল স্ক্রিনে অন্যের এই প্রক্রিয়াটি দেখার সময় আমাদের সেই ঝুঁকি থাকে না। ফলে, নিরাপদ দূরত্বে বসে থেকেও আমরা একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতিকে সমাধান হতে দেখছি—এই বিষয়টি আমাদের মনের মধ্যে এক ধরনের প্রশান্তি বা রিদমিক স্যাটিসফ্যাকশন তৈরি করে। এছাড়া, মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি হলো কোনো কিছু পরিষ্কার বা গুছিয়ে রাখা। ব্রণ ফাটানোর মাধ্যমে ত্বক থেকে ময়লা দূর হওয়াকে মস্তিষ্ক একটি ‘ক্লিনজিং’ বা পরিচ্ছন্নতা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ধরে নেয়, যা আমাদের অবচেতনভাবে ভালো লাগার অনুভূতি দেয়।

অনেকে একে কৌতূহল বা কৌতূহলী মানসিকতার সাথেও তুলনা করেন। মানুষের স্বভাবজাত অভ্যাস হলো অজানাকে জানা এবং ভিন্নধর্মী দৃশ্য দেখার প্রতি আগ্রহী হওয়া। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে গ্রোস-আউট ফ্যাক্টর বলা হয়, যা এমন কিছু দৃশ্য যা আমাদের গা গুলিয়ে দেয়, আবার একই সাথে তা থেকে চোখ সরাতেও বাধা দেয়। ব্রণের ভেতরে জমা থাকা সেবাম বা ময়লা বের হয়ে আসার দৃশ্যটি অনেকের কাছে কিছুটা ঘেন্নার হলেও, তা শেষ হওয়া পর্যন্ত দেখার ধৈর্য অনেকেরই থাকে। এই দ্বন্দ্বমূলক মানসিক অবস্থাই মূলত এই ধরণের ভিডিওগুলোর ব্যাপক জনপ্রিয়তার পেছনে কাজ করে।

সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমও এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একবার কেউ যদি এই ধরণের ভিডিওতে ক্লিক করেন, তবে প্ল্যাটফর্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বারবার একই ধরণের বিষয়বস্তু সামনে নিয়ে আসে। ফলে দর্শকরা আরও বেশি করে এই ভিডিওগুলো দেখার সুযোগ পান এবং একসময় এটি এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হয়। তবে বিশেষজ্ঞগণ সতর্ক করেন যে, স্ক্রিনে দেখে ভালো লাগলেও বাস্তবে নিজের মুখে ব্রণ ফাটানো ক্ষতিকর হতে পারে। এতে ত্বকে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে এবং স্থায়ী দাগ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ডিজিটাল বিনোদনের এই উৎসটিকে কেবল একটি কৌতুহলের জায়গা হিসেবে দেখাই শ্রেয়। সব মিলিয়ে বলা যায়, ব্রণ ফাটানোর ভিডিওগুলোর জনপ্রিয়তা কোনো অদ্ভুত পাগলামি নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের আনন্দ খোঁজার একটি সরল কিন্তু বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। মানুষ যখন অন্যের অস্বস্তিকে সমাধান হতে দেখে, তখন নিজেদের জীবনের ছোটখাটো চাপের মাঝে তারা কিছুটা সাময়িক মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে।

সর্বশেষ
বায়ুদূষণের কবলে রাজধানী ঢাকা, তালিকায় পঞ্চম অবস্থানে ঢাকার অদূরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে পাগলার পুল ব্রণ ফাটানোর ভিডিওতে কেন অদ্ভুত প্রশান্তি পান দর্শক? আজ আন্তর্জাতিক শিল্পী দিবস: সৃজনশীলতাকে সম্মান জানানোর দিন নোয়াখালীতে চায়ের দোকানে বৃদ্ধকে গুলি, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যুব ওয়ানডেতে বিতর্কিত ১১ ওভারের বোলিং, আফগান বোর্ডের কাছে বিসিবির অভিযোগ ঋতুস্রাবের কঠিন সময়ে বিজয়ের যত্ন ও পাশে থাকা নিয়ে মুখ খুললেন রাশমিকা হাসি-ঠাট্টার বাইরে শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্কের বাঁধন উদযাপনের দিন ইরানের ওপর যে কোনো সময় সামরিক হামলার ইঙ্গিত ট্রাম্পের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি
Advertisement