খুঁজুন
, ,

মৌলভীবাজারে অনলাইন অ্যাপে ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, যুবক আটক

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারে অনলাইন অ্যাপে ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, যুবক আটক

মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকায় একটি চারতলা ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে ওই ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, ওই নারী এবং এক যুবক অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে আসবাবপত্রসহ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত না হতে পারলেও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওই নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় ওই যুবকের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকায় অবস্থিত আরজু ভিলা নামক একটি বহুতল ভবনে এই ঘটনা ঘটে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অস্থায়ীভিত্তিতে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মৃত নারীর পরিচয় উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শুরু করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফ্ল্যাট থেকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কোনো আলামত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ আশা করছে।

এ ঘটনায় আটককৃত যুবকের সাথে নিহত নারীর সম্পর্ক কী ছিল, বা তারা কতদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন, সেই বিষয়গুলো পুলিশের তদন্তের প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ভাড়ার প্রক্রিয়াটির কোনো আইনি ফাঁকফোকর আছে কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছে। সাধারণত অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে, এই ঘটনার পর সেই আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসী জানান, ভবনের ফ্ল্যাটে এমন অস্বাভাবিক ঘটনার খবর শুনে তারা বেশ আতঙ্কিত। অপরিচিত কেউ যাতে সহজে এমন ভাড়ার সুযোগ নিয়ে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সেজন্য ভবনের মালিক ও কেয়ারটেকারদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। নারীর পরিচয় শনাক্তের জন্য আশেপাশের থানা এবং নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আছে কি না, সে বিষয়েও যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ফ্ল্যাট মালিকের সাথে তাদের চুক্তির নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটর করছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই তদন্তের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করা হবে এবং সে অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের খাতিরে এখন এর চেয়ে বেশি তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল আফগানিস্তান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল আফগানিস্তান

ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে পাত্তাই দিল না আফগানিস্তান। দাপুটে পারফরম্যান্সে ৯৩ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই শিরোপা নিশ্চিত করল রশিদ খানরা। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল দলটি।

ক্রিকেট বিশ্বে নিজেদের উত্তরণের গল্পটা আরও একবার রঙিন করে তুলল আফগানিস্তান। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে একপেশে লড়াইয়ে উড়িয়ে দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলা আফগানরা এই ফাইনালেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়েকে কোনো সুযোগই দেয়নি তারা। ৭ উইকেট আর ৯৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছেড়েছে আফগানিস্তান। এই জয়ের ফলে পুরো সিরিজে কোনো ম্যাচ না হেরেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করল দলটি।

ম্যাচের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ। জিম্বাবুয়ে দলের ব্যাটাররা আফগান স্পিনার ও পেসারদের সমন্বিত আক্রমণের বিপরীতে খুব একটা প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। মাঠে নামা প্রতিটি আফগান বোলারই দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। ফলে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় জিম্বাবুয়ে। তাদের ব্যাটারদের ক্রিজে টিকে থাকাটাই যেন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বড় কোনো দলীয় স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয় তারা।

জিম্বাবুয়ের দেওয়া লক্ষ্য খুব বড় না হওয়ায় আফগানিস্তানের ব্যাটাররা বেশ নিশ্চিন্তে ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়েছেন। ওপেনিং থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার—সবাই দায়িত্বশীল ব্যাটিং উপহার দিয়েছেন। ক্রিজে থিতু হওয়ার জন্য সময় নেওয়া এবং বাজে বলকে বাউন্ডারিতে পাঠানোই ছিল তাদের মূল কৌশল। বড় কোনো লক্ষ্য তাড়ায় যে ধরনের মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজন, আফগানিস্তান তা শতভাগ দেখাতে সক্ষম হয়েছে। দলের সেরা ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার বদলে ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। ফলে খুব সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা।

ফাইনালে আফগানিস্তানের এই দাপুটে জয় তাদের আত্মবিশ্বাসকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। বিশেষ করে বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে যেভাবে তারা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে, তা যেকোনো দলের জন্যই শিক্ষণীয়। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে শেষ ম্যাচেও একই ছন্দ ধরে রাখাটা সহজ কাজ নয়, তবে আফগানিস্তান সেটিই করে দেখিয়েছে। সিরিজজুড়ে তাদের ফিল্ডিং ছিল দেখার মতো। অনেকগুলো কঠিন ক্যাচ গ্লাভস বন্দী করা কিংবা রান আউটের সুযোগ তৈরি করে নেওয়া—সবক্ষেত্রেই তারা ছিল তীক্ষ্ণ।

এদিকে, জিম্বাবুয়ে তাদের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে বোলিংয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। আফগান ব্যাটারদের উইকেটের চারপাশে সাবলীল পদচারণা তাদের বোলারদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। উইকেট শিকারের জন্য যে ধরনের আক্রমণাত্মক মানসিকতা প্রয়োজন ছিল, তা জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণে কিছুটা হলেও ঘাটতি ছিল। বল হাতে উইকেট পেতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের বোলারদের। ফলে আফগানিস্তান খুব সহজেই জয় তুলে নেয়।

ম্যাচ জয়ের পর স্টেডিয়ামে উপস্থিত আফগান সমর্থকদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। সিরিজের সেরা দল হিসেবেই যে তারা শিরোপা জিতেছে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। পুরো ওয়ানডে টুর্নামেন্টে প্রতিটি বিভাগেই তারা প্রতিপক্ষদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে ছিল। এই জয় আফগানিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটি বড় অর্জন। আগামী দিনে বড় কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে এই ধরনের সিরিজ জয় তাদের মনোবল বৃদ্ধিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেও ছিল আফগান খেলোয়াড়দের জয়জয়কার। ব্যক্তিগত নৈপুণ্য কিংবা দলীয় সাফল্য—সবখানেই তারা ছিল উজ্জ্বল। অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠ ছাড়া আফগানিস্তানের জন্য অবশ্যই একটি গর্বের মুহূর্ত। এই সাফল্যের রেশ ধরে রেখে আগামী সিরিজগুলোতেও তারা একই পারফরম্যান্স ধরে রাখার সংকল্প করেছে। জিম্বাবুয়ের জন্য অবশ্য এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী হয়ে ফেরার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেল। তবে দিনশেষে এটি ছিল আফগানিস্তানের ক্রিকেটীয় সক্ষমতা এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের এক অনন্য প্রদর্শনী।

রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রবীণের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রবীণের মৃত্যু

রাজধানীর ব্যস্ততম ৩০০ ফিট সড়কে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় অজ্ঞাতপরিচয় এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অপর এক তরুণ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক হিসেবে পরিচিত ৩০০ ফিট এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এক ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারীদের ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ নিহত হন। এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইমরান নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবকও গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটার পরপরই আশপাশের প্রত্যক্ষদর্শীরা ছুটে এসে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৬০ বছর। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত ব্যক্তি রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগামী প্রাইভেট কারটি তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। একই সময়ে কারের ধাক্কায় ইমরান নামের ওই যুবকও ছিটকে পড়ে আহত হন। আহত ইমরানকে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থাও বেশ আশঙ্কাজনক। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি জব্দ করেছে, তবে দুর্ঘটনার পরপরই চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কটি বর্তমানে নতুন নতুন আবাসিক এলাকা ও যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রশস্ত রাস্তা হওয়ায় প্রায়ই এখানে যানবাহনের গতি থাকে অনিয়ন্ত্রিত। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরেই এই সড়কে যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং পথচারী পারাপারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন। আজকের এই দুর্ঘটনাটি আবারও এই সড়কে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এল। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত এই সড়কে পর্যাপ্ত আলোকস্বল্পতা ও ট্রাফিক ব্যবস্থার অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।

পুলিশ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সংশ্লিষ্ট মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। নিহতের পরিচয় পাওয়া গেলে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে। এদিকে পালিয়ে যাওয়া চালককে শনাক্ত এবং তাকে আইনের আওতায় আনতে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। জব্দ করা প্রাইভেট কারের মালিকানাসহ রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার পর ওই সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে যান চলাচল পুনরায় সচল করে। পথচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এবং চালকদের দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা কমাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরণের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘাতক চালককে দ্রুত খুঁজে বের করে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে দুর্ঘটনার মূল কারণ জানা যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।

ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামগামী ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ
   
ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামগামী ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে গত প্রায় দুই সপ্তাহে ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী। আকস্মিক এই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় প্রবাসীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে চলাচলকারী ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় আকাশপথের যাতায়াতে এক নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর থেকে শুরু করে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মোট ২১ হাজার ৯৩৩ জন যাত্রী। গন্তব্যে পৌঁছানোর অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা এখন দিন গুনছেন কখন তারা তাদের কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৬৬টি ছিল সরাসরি গন্তব্যে যাওয়ার ফ্লাইট। বাকি ৭৫টি ফ্লাইট ছিল ট্রানজিট বা কানেক্টিং ফ্লাইট। এত বিশাল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিলের ফলে নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রী এবং জরুরি কাজে সৌদি আরবগামী প্রবাসীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, ফ্লাইট বাতিলের বিষয়টি আগেভাগে জানানো না হওয়ায় তারা বিমানবন্দর এলাকায় গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। কেউ কেউ আবার টিকিট পুনর্নির্ধারণের সুযোগ না পেয়ে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় পার করে ফেলার শঙ্কায় রয়েছেন।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ করে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। যেসব যাত্রী আগে থেকেই টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন, তাদের এখন নতুন করে টিকিট পাওয়ার জন্য এয়ারলাইন্স অফিসগুলোতে ভিড় করতে হচ্ছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত আসন না থাকায় অধিকাংশ যাত্রীই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। কোনো কোনো এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ কারিগরি বা অপারেশনাল জটিলতার কথা জানালেও সুনির্দিষ্ট কোনো সমাধান দিতে পারছে না বলে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে।

এই ফ্লাইট বাতিলের ঘটনায় শুধু প্রবাসীরাই নন, বরং দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সৌদি আরবে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক কর্মী কাজ করেন, যাদের যাতায়াতের একটি বড় অংশ ঢাকা-রিয়াদ-দাম্মাম রুটের ওপর নির্ভরশীল। এভাবে একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হতে থাকলে কর্মস্থলে সময়মতো পৌঁছাতে না পারা শ্রমিকদের চাকরির চুক্তিতে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অনেকেই জানিয়েছেন, জরুরি প্রয়োজনে তারা দেশে এসেছিলেন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে ছুটি শেষে পুনরায় কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু এয়ারলাইন্সগুলোর অব্যবস্থাপনা এবং ফ্লাইট বাতিলের খবরের ফলে তাদের পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিমানবন্দরের লবিতে অথবা টিকিট অফিসের সামনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো সুরাহা পাচ্ছেন না তারা। অনেকে আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, কারণ পুরনো টিকিট বাতিল করে নতুন টিকিট কাটতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে অথবা হোটেলের খরচ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর পক্ষ থেকে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজের কাজ খুব একটা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন এত স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ১৪১টি ফ্লাইট বাতিল হলো, তার কারণ নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সাধারণ যাত্রীরা মনে করছেন, এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। পর্যাপ্ত সক্ষমতা না থাকলে কেন এত টিকিট বিক্রি করা হলো, সেই প্রশ্নও এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এখন এয়ারলাইন্সগুলোকে তাদের শিডিউল পুনর্বিন্যাস করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় হাজার হাজার প্রবাসীর কর্মজীবন হুমকির মুখে পড়বে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে এবং বাতিল হওয়া ফ্লাইটের যাত্রীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরবর্তী ফ্লাইটে জায়গা দেওয়ার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। তবে যাত্রীদের দাবি, যত দ্রুত সম্ভব নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হলে এই ভোগান্তি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে।

সর্বশেষ
জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতল আফগানিস্তান রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কে প্রাইভেট কারের ধাক্কায় প্রবীণের মৃত্যু ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামগামী ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩ প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য: কারাগারে যুবক মৌলভীবাজারে অনলাইন অ্যাপে ভাড়া করা ফ্ল্যাট থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, যুবক আটক পূজার বিশেষ সময়সীমা শেষ, পূর্বের নিয়মেই ফিরলো দোকানপাট খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি: কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন রাজধানীর খিলক্ষেতে প্রাইভেটকারচাপায় পথচারী নিহত কক্সবাজারে ভারুয়াখালী খালের সেতুর সংযোগ সড়কে ১.৮৯৪৭ একর জমি অধিগ্রহণের অনুমোদন
Advertisement