মৌলভীবাজার শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকায় একটি চারতলা ভবনের ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার বিকেলে ওই ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, ওই নারী এবং এক যুবক অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে আসবাবপত্রসহ ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত না হতে পারলেও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। ওই নারীর পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় ওই যুবকের সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত তার বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শহরের উত্তর কলিমাবাদ এলাকায় অবস্থিত আরজু ভিলা নামক একটি বহুতল ভবনে এই ঘটনা ঘটে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অস্থায়ীভিত্তিতে ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। মৃত নারীর পরিচয় উদঘাটনে পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শুরু করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ জানিয়েছে, ওই ফ্ল্যাট থেকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির কোনো আলামত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে পুলিশ আশা করছে।
এ ঘটনায় আটককৃত যুবকের সাথে নিহত নারীর সম্পর্ক কী ছিল, বা তারা কতদিন ধরে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন, সেই বিষয়গুলো পুলিশের তদন্তের প্রধান অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ফ্ল্যাট ভাড়ার প্রক্রিয়াটির কোনো আইনি ফাঁকফোকর আছে কি না, তা নিয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েছে। সাধারণত অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়া নেওয়া ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে, এই ঘটনার পর সেই আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই মুহূর্তে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসী জানান, ভবনের ফ্ল্যাটে এমন অস্বাভাবিক ঘটনার খবর শুনে তারা বেশ আতঙ্কিত। অপরিচিত কেউ যাতে সহজে এমন ভাড়ার সুযোগ নিয়ে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করতে না পারে, সেজন্য ভবনের মালিক ও কেয়ারটেকারদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
মৌলভীবাজার মডেল থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। নারীর পরিচয় শনাক্তের জন্য আশেপাশের থানা এবং নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আছে কি না, সে বিষয়েও যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন অ্যাপের মাধ্যমে ফ্ল্যাট মালিকের সাথে তাদের চুক্তির নথিপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটর করছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া মাত্রই তদন্তের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করা হবে এবং সে অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের খাতিরে এখন এর চেয়ে বেশি তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ । ১২:১৪ অপরাহ্ণ