পূর্বাচলে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুই বন্ধুর প্রাণহানি, চিকিৎসাধীন এক
রাজধানীর অদূরে পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত পূর্বাচল উপ-শহরের ৩০০ ফিট সড়কটি আবারও রক্তে রঞ্জিত হলো। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই বন্ধু, যাদের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাদের পরিবার ও পরিচিত মহলে। দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এই তিন বন্ধু ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হন। দুর্ঘটনাস্থলেই দুইজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় অপর একজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত সংকটজনক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় মোটরসাইকেলে করে তিন বন্ধু পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। কোনো এক পর্যায়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আরোহীরা ছিটকে পড়েন রাস্তায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
সড়ক দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে ঘিরে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ৩০০ ফিট সড়কের প্রশস্ততা বাড়লেও সেখানে যানবাহন চলাচলের শৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক নিয়ম মানার প্রবণতা কমে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অহরহ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি ও চালকদের অসতর্কতা প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। গত কয়েক বছরে এই রুটে এমন অনেক মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকাবাসীকে সবসময় আতঙ্কিত রাখে।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি জব্দ করা সম্ভব হয়েছে কি না এবং চালক পালিয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে এখনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে অনুসন্ধান চলছে। এছাড়া মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহী থাকায় নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, সেটিও একটি উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তাদের পরিবারের সদস্যরা সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। এই দুর্ঘটনার পর সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, যদি ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা না হয় এবং বেপরোয়া গতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে এই ধরনের শোকাবহ ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
আহত অপর আরোহীর বেঁচে থাকার লড়াই চলছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শরীরে আঘাতের ধরন গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রতিটি মুহূর্তই তার জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ঘটনার তদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পূর্বাচলের মতো দ্রুত বর্ধনশীল এলাকায় সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]