খুঁজুন
, ,

মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর মোংলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বন্দরটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং পণ্য খালাস প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সেবাপ্রদান নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বৃহস্পতিবার খুলনা সফরের অংশ হিসেবে মোংলা বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।

খুলনার দাকোপ উপজেলা হয়ে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি নৌঘাঁটি, বন্দর এলাকা এবং মোংলায় প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখেন। সরকারি এই উচ্চপদস্থ সফর ঘিরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয়। মূলত মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং বিদ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখাই ছিল এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বানৌজা মোংলায় অবতরণ করেন। এরপর তিনি বন্দর এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলের দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন এবং বন্দর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মোংলা বন্দরের ভৌগোলিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্যে এই বন্দরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্দরকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার পাশাপাশি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সেবার মান বাড়াতে হবে। বিশেষ করে আমদানিকৃত পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকলে তা অবিলম্বে নিরসনের জন্য কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু হলে বন্দরের ওপর যে বাড়তি চাপ পড়বে, তা সামাল দেওয়ার জন্য এখনই প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।

সফরকালে বন্দরের আধুনিকায়ন, বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বন্দর এলাকায় কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দর দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য যে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক এজেন্ডা। এর আগে একাধিকবার এই বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি সফর ও পরিদর্শন বন্দরের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বন্দর এলাকায় তার এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় জনমনেও উৎসাহ দেখা গেছে। পুরো কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মোংলা ত্যাগ করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে বন্দরের প্রতিটি কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

শনিবার ডিআরইউতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ
   
শনিবার ডিআরইউতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’

সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিজিটাল সাংবাদিকতায় জ্ঞান বিনিময় এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে আগামীকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’। মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষক হিসেবে থাকছেন অমৃতা মালঙ্গী, হেড অব অনলাইন, দৈনিক কালবেলা; অমিত হাসান রবিন, হেড অব মাল্টিমিডিয়া, দৈনিক যুগান্তর; মাসুম খান, সম্পাদক, টাইমস টুডে ও নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম অ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়া; এবং তৌসিফ আকবর, বুম বাংলাদেশ।

দিনব্যাপী কর্মশালায় থাকছে পরিবর্তনশীল সাংবাদিকতা, মোবাইল জার্নালিজম (মোজো), মাল্টিমিডিয়া স্টোরিটেলিং, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, ডেস্ক রিপোর্টিং, নিউজ প্রেজেন্টেশন, সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, ফ্যাক্ট-চেকিং, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে থাকছে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম, এমআরইউ বুক কর্নার, কুইজ প্রতিযোগিতা, মধ্যাহ্নভোজ, চা-কফির আয়োজন এবং পুরস্কার ও স্বীকৃতি প্রদানসহ সমাপনী অনুষ্ঠান। এ আয়োজনে মেডিকেল পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে ইনসাফ বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহরিয়ার নাঈম, সাবেক মাল্টিমিডিয়া প্রধান, দৈনিক যায়যায়দিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করবেন মিসবাহ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং চিফ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার, দৈনিক নিরপেক্ষ।

আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন মাইনুল হাসান সোহেল, উপদেষ্টা, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি; বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক ইনকিলাব এবং সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। এ ছাড়া সংগঠনের উপদেষ্টা শফিউর রহমান শফিকসহ কার্যনির্বাহী কমিটি ও সাধারণ সদস্যরা অনুষ্ঠানে যুক্ত থাকবেন।

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি (এমআরইউ) ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে বর্তমান সভাপতি শাহরিয়ার নাঈমের সমন্বয়ে একঝাঁক তরুণ সংবাদকর্মীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনটি মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, কল্যাণ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’ সাংবাদিকদের প্রযুক্তিনির্ভর কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্য যাচাইয়ের চর্চা জোরদার এবং পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যসচেতনতা ও পারস্পরিক পেশাগত যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে এ আয়োজন।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মহাসড়কের পাশে ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মহাসড়কের পাশে ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলো স্থানীয় বাসিন্দারা। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে একটি ঝোপের ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে ওই স্থানে ফেলে রেখে গেছে কেউ।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় কয়েকজন পথচারী মহাসড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে নবজাতকটির কান্নার শব্দ শুনতে পান। প্রথমে তারা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, উৎস সন্ধানে গিয়ে ঝোপের ভেতর একটি কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকটিকে দেখতে পান। শিশুটির করুণ কান্না শুনে মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় শিশুটি জীবিত ছিল এবং তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নবজাতকটির শরীর অনেকটা দুর্বল হলেও সে আপাতত আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জন্মের ঠিক কতক্ষণ পর তাকে ফেলে রাখা হয়েছিল বা কে বা কারা এর পেছনে জড়িত, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়কের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় দিনের বেলায় বা সন্ধ্যার শুরুতে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশুটিকে ফেলে রাখার বিষয়টি পরিকল্পিত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের পর থেকে তাকে যথাযথ সুরক্ষায় রাখা হয়েছে। এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বা স্থানীয় কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। শিশুটি সুস্থ হওয়ার পর প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন। নবজাতকটির ভবিষ্যৎ এবং তাকে কারা এই অবস্থায় ফেলে গেল, সেই রহস্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো এলাকা। আপাতত শিশুটির সুস্থতা এবং উন্নত চিকিৎসাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন।

রোমান্টিক হিপোক্রেসি: সম্পর্কের টানাপোড়েনে দ্বিমুখী মানসিকতার সংকট

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
রোমান্টিক হিপোক্রেসি: সম্পর্কের টানাপোড়েনে দ্বিমুখী মানসিকতার সংকট

মানব সম্পর্কের জটিল সমীকরণগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার জায়গা। সম্পর্কের প্রতিটি বাঁকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়, যার মধ্যে অন্যতম এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা হলো রোমান্টিক হিপোক্রেসি বা প্রেমের সম্পর্কে দ্বিমুখী আচরণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঙ্গী যখন অন্য কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদান করেন বা খুব ঘনিষ্ঠ হন, তখন আমরা তাকে নির্দ্বিধায় বিশ্বাসঘাতকতা বা প্রতারণার নাম দিই। কিন্তু ঠিক একই আচরণ যখন আমরা নিজেরা করি, তখন হাজারো যুক্তি বা অজুহাত সাজাতে দ্বিধা করি না। এই অসংগতিপূর্ণ মানসিকতাই রোমান্টিক হিপোক্রেসি নামে পরিচিত, যা ধীরে ধীরে একটি সুন্দর সম্পর্ককে বিষিয়ে তুলতে পারে।

রোমান্টিক হিপোক্রেসি মূলত এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক আত্মরক্ষা বা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। সম্পর্কের ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত সঙ্গীর আচরণকে কঠোরভাবে বিচার করতে অভ্যস্ত। সঙ্গীর ছোট কোনো ভুল বা অন্য কারও সাথে কথা বলার বিষয়টি আমাদের মনে নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়। আমরা ভাবতে শুরু করি, সঙ্গী হয়তো আমাদের প্রতি অনুগত নন। কিন্তু এই একই ব্যক্তি যখন নিজে এমন কোনো কাজ করেন, তখন তিনি নিজের উদ্দেশ্যকে পবিত্র বা নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেন। হয়তো অজুহাত হিসেবে বলা হয়, এটি কেবল একটি বন্ধুত্ব, অথবা এই কথা বলার মাঝে কোনো রোমান্টিকতা নেই। এই যে নিজের কাজের ক্ষেত্রে নমনিয়তা এবং সঙ্গীর কাজের ক্ষেত্রে কঠোরতা, এখানেই সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে।

মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে দেখলে, এই আচরণের পেছনে কাজ করে মানুষের সহজাত আত্মকেন্দ্রিকতা। আমরা আমাদের নিজেদের মনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত থাকি। আমরা জানি আমাদের মনে কোনোরকম অসৎ উদ্দেশ্য নেই, তাই আমরা আমাদের আচরণকে নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করতে পারি। কিন্তু সঙ্গীর মনের ভেতর কী চলছে, তা আমাদের জানার কোনো উপায় নেই। এই অনিশ্চয়তা থেকেই আমরা সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত সতর্কতা বা সন্দেহ আরোপ করি। মজার ব্যাপার হলো, আমরা যখন নিজেরা একই কাজ করি, তখন আমরা ধরে নিই যে আমাদের সঙ্গীর উচিত আমাদের বিশ্বাস করা। আমরা তখন আশা করি, সঙ্গী আমাদের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখবে, অথচ উল্টো পথে আমরা নিজেরা তাদের ওপর সেই আস্থাটুকু রাখতে ব্যর্থ হই।

এই ধরনের দ্বিমুখী মানসিকতা সম্পর্কের ক্ষেত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রথমত, এটি কথোপকথনের সুযোগ বন্ধ করে দেয়। যখন কেউ তার সঙ্গীকে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত করে, অথচ নিজে একই কাজ করে চলেছে, তখন সেখানে আর খোলাখুলি আলোচনার পরিবেশ থাকে না। দ্বিতীয়ত, এটি সঙ্গীর মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দেয়। সঙ্গী যখন বুঝতে পারেন যে তার ওপর নিয়মগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে অথচ অপর পক্ষ সেগুলো মানছে না, তখন তিনি সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন এবং একপর্যায়ে সম্পর্কটি বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

আধুনিক ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়া ও মেসেজিং অ্যাপের আধিক্যের কারণে এই সমস্যাটি আরও প্রকট হয়েছে। ভার্চুয়াল জগতে মানুষের সাথে যোগাযোগ করা অনেক সহজ হয়ে গেছে। অনেক সময় আমরা না বুঝেই এমন সব কথাবার্তা বলে ফেলি যা আমাদের সঙ্গীর কাছে আপত্তিকর মনে হতে পারে। সমস্যাটি তখনই জটিল হয়, যখন আমরা নিজের ভুল স্বীকার না করে বিষয়টিকে লঘু করে দেখার চেষ্টা করি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই দ্বিমুখীতা কাটিয়ে ওঠার প্রথম শর্ত হলো আত্ম-সচেতনতা। নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, আমি কি এমন আচরণ করছি যা আমার সঙ্গী করলে আমার নিজের খারাপ লাগত? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তবে সেই আচরণ পরিবর্তন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য স্বচ্ছতা এবং সমতা অপরিহার্য। যদি সঙ্গী ও নিজের জন্য আলাদা কোনো নিয়ম থাকে, তবে সেই সম্পর্ক কোনোদিনই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমানাধিকার। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, প্রেমের সম্পর্কে বিশ্বাসের জায়গাটি খুবই নাজুক। একবার সেই বিশ্বাসে চিড় ধরলে তা জোড়া লাগানো বেশ কঠিন। তাই নিজের প্রতিটি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সঙ্গীর অনুভূতির প্রতি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। রোমান্টিক হিপোক্রেসি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের নিজেদের কাজের দায়ভার নিতে শিখতে হবে এবং সঙ্গীর প্রতি সেই একই সহমর্মিতা দেখাতে হবে, যা আমরা নিজের জন্য প্রত্যাশা করি। কেবল তখনই একটি সুস্থ এবং সুন্দর সম্পর্কের নিশ্চয়তা পাওয়া সম্ভব।

সর্বশেষ
শনিবার ডিআরইউতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘এমআরইউ মিডিয়া ডে ২০২৬’ চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মহাসড়কের পাশে ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার রোমান্টিক হিপোক্রেসি: সম্পর্কের টানাপোড়েনে দ্বিমুখী মানসিকতার সংকট মিরপুরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’-এর তিন ভাই গ্রেফতার উন্নত চিকিৎসাও ব্যর্থ, না ফেরার দেশে রাবি শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরা মোংলা সফরের বিরল মুহূর্ত: বাদাম বিক্রেতার সঙ্গে করমর্দনে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা নিয়ে দ্বন্দ্ব: কুষ্টিয়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ৪ সাভারে মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী গ্রেফতার বগুড়ায় অ্যাপে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার
Advertisement