চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মহাসড়কের পাশে ঝোপ থেকে নবজাতক উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় এক অমানবিক ও মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী হলো স্থানীয় বাসিন্দারা। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে একটি ঝোপের ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুটিকে ওই স্থানে ফেলে রেখে গেছে কেউ।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় কয়েকজন পথচারী মহাসড়কের পাশের ঝোপঝাড়ে নবজাতকটির কান্নার শব্দ শুনতে পান। প্রথমে তারা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও, উৎস সন্ধানে গিয়ে ঝোপের ভেতর একটি কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় নবজাতকটিকে দেখতে পান। শিশুটির করুণ কান্না শুনে মুহূর্তের মধ্যেই সেখানে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।

পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় শিশুটি জীবিত ছিল এবং তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রাখার জন্য যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নবজাতকটির শরীর অনেকটা দুর্বল হলেও সে আপাতত আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জন্মের ঠিক কতক্ষণ পর তাকে ফেলে রাখা হয়েছিল বা কে বা কারা এর পেছনে জড়িত, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়কের মতো জনাকীর্ণ এলাকায় দিনের বেলায় বা সন্ধ্যার শুরুতে এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। শিশুটিকে ফেলে রাখার বিষয়টি পরিকল্পিত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধারের পর থেকে তাকে যথাযথ সুরক্ষায় রাখা হয়েছে। এর সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করার জন্য পুলিশ কাজ করছে। আশেপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বা স্থানীয় কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বর্তমানে শিশুটি চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। শিশুটি সুস্থ হওয়ার পর প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী তার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। তারা মনে করছেন, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন। নবজাতকটির ভবিষ্যৎ এবং তাকে কারা এই অবস্থায় ফেলে গেল, সেই রহস্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছে পুরো এলাকা। আপাতত শিশুটির সুস্থতা এবং উন্নত চিকিৎসাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন।

  • সম্পাদক ও প্রকাশকঃ মোঃ রাসেল মিয়া

প্রিন্ট করুন