দেশের অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর মোংলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিকায়নের কাজ ত্বরান্বিত করার লক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বন্দরটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করা এবং পণ্য খালাস প্রক্রিয়ার জটিলতা কমিয়ে দ্রুত সেবাপ্রদান নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বৃহস্পতিবার খুলনা সফরের অংশ হিসেবে মোংলা বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক পরিদর্শন কার্যক্রম শেষে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
খুলনার দাকোপ উপজেলা হয়ে মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি নৌঘাঁটি, বন্দর এলাকা এবং মোংলায় প্রস্তাবিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘুরে দেখেন। সরকারি এই উচ্চপদস্থ সফর ঘিরে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে বানৌজা মোংলা ঘাঁটিতে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানানো হয়। মূলত মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং বিদ্যমান অবকাঠামোগত উন্নয়নের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখাই ছিল এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুপুর পৌনে ১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী বানৌজা মোংলায় অবতরণ করেন। এরপর তিনি বন্দর এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। মধ্যাহ্নবিরতির পর বিকেলের দিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করেন এবং বন্দর উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে মোংলা বন্দরের ভৌগোলিক গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে বলেন, আঞ্চলিক বাণিজ্যে এই বন্দরের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বন্দরকে আধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত করার পাশাপাশি পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বন্দরের সেবার মান বাড়াতে হবে। বিশেষ করে আমদানিকৃত পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থাকলে তা অবিলম্বে নিরসনের জন্য কর্মকর্তাদের তাগিদ দেন তিনি। এছাড়া, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু হলে বন্দরের ওপর যে বাড়তি চাপ পড়বে, তা সামাল দেওয়ার জন্য এখনই প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
সফরকালে বন্দরের আধুনিকায়ন, বন্দর চ্যানেলের নাব্যতা বজায় রাখা এবং লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী বন্দর এলাকায় কর্মরত সকল পর্যায়ের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি জোরদার করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোংলা বন্দর দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
উল্লেখ্য যে, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক এজেন্ডা। এর আগে একাধিকবার এই বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সরাসরি সফর ও পরিদর্শন বন্দরের উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বন্দর এলাকায় তার এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় জনমনেও উৎসাহ দেখা গেছে। পুরো কার্যক্রম শেষে প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে মোংলা ত্যাগ করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে বন্দরের প্রতিটি কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ । ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ