খুঁজুন
, ,

নারায়ণগঞ্জে সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের বিক্ষোভ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
নারায়ণগঞ্জে সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় কৃষি উপকরণের সংকট নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় চাষিরা। বুধবার সন্ধ্যায় বক্তাবলী এলাকার কানাইনগর বেকারী মোড় এলাকায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সার না পাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্য আদায় করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে কৃষকরা রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের দাবি, সার সংকটের কারণে ফসলের মাঠ পরিচর্যা ও উৎপাদনে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

বিক্ষোভকারী কৃষকদের ভাষ্যমতে, বর্তমান মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের জন্য সারের প্রয়োজন হলেও স্থানীয় ডিলার বা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে ন্যায্য মূল্যে তা পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার নির্ধারিত যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে তাদের। যারা বেশি দাম দিতে অস্বীকার করছেন, তারা সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কানাইনগর এলাকায় জড়ো হয়ে কৃষকরা এই অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। সন্ধ্যা গড়িয়ে যাওয়ার পরও উত্তেজিত কৃষকদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে, যার ফলে ওই এলাকায় জনচলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটে।

স্থানীয় চাষিদের একাংশ জানিয়েছেন, শুধু দামের সমস্যাই নয়, বরং ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সারের মজুত থাকার পরও তা বাজারে ছাড়া হচ্ছে না। এর পেছনে একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে বলে তাদের ধারণা। সার সংকটের এই প্রভাব পড়তে পারে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ কৃষকদের পথে বসিয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তারা মনে করেন, কৃষিপ্রধান এই এলাকায় সময়মতো সার ও বীজ না পেলে চাষাবাদ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব স্থানীয় খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও পড়বে।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সারের ডিলারশিপ বা সরবরাহ ব্যবস্থায় যদি কোনো অনিয়ম থাকে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। এর আগে বহুবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি না হওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছেন।

এদিকে, সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পূজা মণ্ডপগুলোতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যথাযথ তদারকির ফলে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই উৎসবের দিনগুলো পার করেছেন ভক্তরা। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপের ফলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এবার নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে পেরেছেন। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নজরদারি থাকায় পূজার সময় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি, যা সরকারের যথাযথ প্রস্তুতিরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মতোই নারায়ণগঞ্জের পূজা মণ্ডপগুলোতেও উৎসবমুখর পরিবেশে মানুষ তাদের ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করেছেন।

নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যা: সন্দেহভাজন এক তরুণ গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যা: সন্দেহভাজন এক তরুণ গ্রেফতার

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় আলোচিত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির, যিনি স্থানীয় মহলে আলিফ নামেই বেশি পরিচিত, তাকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ অভিযানে এই সাফল্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম আশিকুর রহমান প্রাঙ্গন। তার বয়স আনুমানিক একুশ বছর। এই গ্রেফতারের ঘটনাটি স্থানীয় এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

অভিযান পরিচালনাকারী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে দুর্গাপুর পৌরসভার শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ তৎপরতা চালায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন তথা এসআরবি-১৪ এর একটি দল। রাত পৌনে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানেই সন্দেহভাজন আশিকুর রহমান প্রাঙ্গনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে নিশ্চিত করা হয়।

গোয়েন্দা সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেফতারকৃত প্রাঙ্গন কোনো সাধারণ অপরাধী নয়। সে স্থানীয়ভাবে পরিচিত কুখ্যাত অপরাধী ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি শুটার শামীমের আপন ভাগনে। শামীমের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা ও তাদের অপরাধী চক্রের নেটওয়ার্কের বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সাংবাদিক আলিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পেছনে হয়তো এই চক্রের গভীর কোনো ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। প্রাঙ্গনের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের হোতাদের খুঁজে বের করার পথ প্রশস্ত হলো বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ দুর্গাপুরের জনজীবনে একজন পরিচিত ও স্পষ্টভাষী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছিলেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের ঘটনায় মামলার তদন্তে নতুন গতির সঞ্চার হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত প্রাঙ্গনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের মূল মোটিভ এবং যারা এর পেছনে মদদদাতা হিসেবে কাজ করেছে, তাদের মুখোশ উন্মোচন করাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।

এদিকে, স্থানীয় সাংবাদিকরা এই গ্রেফতারের ঘটনাকে স্বাগত জানালেও তারা হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য দ্রুত উদঘাটন এবং পরিকল্পনাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করার জোর দাবি জানিয়েছেন। দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকেও এই ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচারের আশা ব্যক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাংবাদিক হত্যাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং কোনো অপরাধীই যাতে ছাড় না পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

সন্দেহভাজন প্রাঙ্গনের গ্রেফতারের পর থেকে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা হবে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন-আর্সেনালের নাটকীয় ড্র, গোল উৎসবে মাতল রিয়াল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন-আর্সেনালের নাটকীয় ড্র, গোল উৎসবে মাতল রিয়াল

ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ ক্লাব প্রতিযোগিতা উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে বুধবার রাতে মাঠে নেমেছিল বড় দলগুলো। বায়ার্ন মিউনিখের ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে আর্সেনালের বিপক্ষে ২-২ গোলের নাটকীয় ড্র হয়েছে। জমজমাট লড়াইয়ে পিছিয়ে থেকেও পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে সক্ষম হয়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটি। জার্মান জায়ান্টদের ঘরের মাঠে ম্যাচটি দর্শকদের জন্য ছিল চরম উত্তেজনার। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণের ধার বজায় রেখেছিল, যার ফলে প্রথমার্ধ থেকেই মাঠের দখল নিয়ে তৈরি হয় হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বায়ার্ন তাদের নিজস্ব মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও আর্সেনাল রক্ষণভাগের দৃঢ়তা এবং পাল্টা আক্রমণে সমান তালে লড়াই চালিয়ে গেছে। ম্যাচে একাধিকবার ব্যবধান তৈরির সুযোগ এলেও শেষ পর্যন্ত কোনো পক্ষই পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি। ড্রয়ের ফলে উভয় দলকেই পয়েন্টের হিসাব মেলাতে হচ্ছে। আর্সেনালের জন্য প্রতিপক্ষের মাঠে এই ড্র চ্যাম্পিয়নস লিগের পরবর্তী রাউন্ডের সমীকরণে বেশ গুরুত্ব বহন করবে। অন্যদিকে বায়ার্ন মিউনিখ নিজেদের আঙিনায় জয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় পয়েন্ট তালিকায় কিছুটা অস্বস্তিতেই রইল।

একই রাতে অনুষ্ঠিত অন্য ম্যাচে স্পেনের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ মুখোমুখি হয়েছিল আরবি লাইপজিগের। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের সেরা ফর্মে ছিল। তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয়েছে। ঘরের মাঠে লাইপজিগের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ফেলেছিল রিয়াল। ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই আক্রমণের তোপ দাগাতে থাকে গ্যালাকটিকোরা, যা শেষ পর্যন্ত গোল উৎসবে রূপ নেয়। রিয়ালের স্ট্রাইকার এবং মিডফিল্ডারদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় লাইপজিগের ডিফেন্স বারবার পরাস্ত হয়েছে। যদিও লাইপজিগ গোল পরিশোধের চেষ্টা করেছিল, তবে রিয়ালের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় বড় কোনো বিপদ ঘটেনি। রিয়াল মাদ্রিদের এই দাপুটে জয় চ্যাম্পিয়নস লিগে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করল। বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের ছন্দ ধরে রাখার ক্ষেত্রে রিয়ালের এমন পারফরম্যান্স দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

চ্যাম্পিয়নস লিগের বর্তমান আসরে প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্বই অপরিসীম। গ্রুপ পর্বের শেষ দিকে এসে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে থাকতে সব দলই মরিয়া। বায়ার্ন ও আর্সেনালের ড্রয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে যেমন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, তেমনি রিয়াল মাদ্রিদের জয় তাদের পরবর্তী রাউন্ডের পথ অনেকটা মসৃণ করেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বায়ার্ন এবং আর্সেনালের ম্যাচে অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে কেউ কাউকে ছাড় দেয়নি। অন্যদিকে, লাইপজিগের বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের জয়ের ধরনে ছিল একপেশে আধিপত্য, যা তাদের বর্তমান মৌসুমের শ্রেষ্ঠত্বের দাবিকে আরও জোরালো করেছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে বড় ক্লাবগুলোর এমন পারফরম্যান্স সমর্থকদের পরবর্তী ম্যাচগুলো নিয়ে আরও বেশি আগ্রহী করে তুলছে। চ্যাম্পিয়নস লিগের লড়াই এখন আরও জমে উঠেছে, যা ফুটবল প্রেমীদের জন্য বাড়তি আনন্দ নিয়ে আসছে।

নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতার ওপর নৃশংস হামলা ও হত্যা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতার ওপর নৃশংস হামলা ও হত্যা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় জহির ফকির নামের এক যুবদল নেতা নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। জহির ফকির আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সোনারগাঁ এলাকায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা নাগাদ জহির ফকির যখন নির্দিষ্ট একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণকারীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। জহির ফকিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অথবা সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জহির ফকিরের দলীয় পরিচয় এবং তার ওপর এই হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট থাকতে পারে। তবে পুলিশ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ বা জড়িতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্বজন ও দলীয় সহকর্মীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের বা কাউকে আটকের প্রক্রিয়া চলছে কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় থানা পুলিশ।

সোনারগাঁ এবং আড়াইহাজারের সীমান্ত এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ড কি পূর্বশত্রুতার জের নাকি কোনো তাৎক্ষণিক বিরোধের ফসল, তা তদন্তের স্বার্থে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। পুলিশ তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার আপডেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

সর্বশেষ
নেত্রকোনায় সাংবাদিক আলিফ হত্যা: সন্দেহভাজন এক তরুণ গ্রেফতার চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন-আর্সেনালের নাটকীয় ড্র, গোল উৎসবে মাতল রিয়াল নারায়ণগঞ্জে যুবদল নেতার ওপর নৃশংস হামলা ও হত্যা দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বুড়িগঙ্গায় কঠোর নিরাপত্তা শারদীয় উৎসবের আমেজে হিলি সীমান্তে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় নারায়ণগঞ্জে সরকারি মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগে কৃষকদের বিক্ষোভ নারায়ণগঞ্জে নির্ধারিত মূল্যে সার না পেয়ে কৃষকদের বিক্ষোভ উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন দুর্গাপূজা, বুড়িগঙ্গায় বিসর্জনের ধুম ঢাকা জেলার সব পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন নরসিংদীতে প্রিন্টিং কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ: দগ্ধ ১১ জন
Advertisement