নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় জহির ফকির নামের এক যুবদল নেতা নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। জহির ফকির আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় সোনারগাঁ এলাকায় এই হামলার ঘটনাটি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা নাগাদ জহির ফকির যখন নির্দিষ্ট একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আক্রমণকারীরা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। জহির ফকিরকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার পথেই অথবা সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত জহির ফকিরের দলীয় পরিচয় এবং তার ওপর এই হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এলাকায় রাজনৈতিক অস্থিরতা বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট থাকতে পারে। তবে পুলিশ প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এই হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ বা জড়িতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, জড়িতদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ বা প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির স্বজন ও দলীয় সহকর্মীরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের বা কাউকে আটকের প্রক্রিয়া চলছে কি না, তা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
সোনারগাঁ এবং আড়াইহাজারের সীমান্ত এলাকায় রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ড কি পূর্বশত্রুতার জের নাকি কোনো তাৎক্ষণিক বিরোধের ফসল, তা তদন্তের স্বার্থে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। পুলিশ তদন্তের গতিপ্রকৃতি দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়েছে। আপাতত পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রশাসন। পরবর্তী পরিস্থিতি এবং আইনি প্রক্রিয়ার আপডেট সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ