দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী
ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করলেও দেশের মানুষের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চর্চার বিষয়; কিন্তু নাগরিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশি। ধর্মের ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে যেন দেশে কোনো বিভাজন না হয়, সে প্রত্যাশাও তুলে ধরেন তিনি।
পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়ের পার্থক্য স্পষ্টভাবে উঠে আসে। ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়—এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি দেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয়কে এক জায়গায় দেখার কথা বলেন।
ধর্মীয় উৎসবের সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাঁদের প্রতি সৌহার্দ্য প্রকাশের তাৎপর্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেই পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন নাগরিক পরিচয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি ধর্ম পালনের স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করে বিভেদ এড়িয়ে চলার কথা বলেছেন; অর্থাৎ বিশ্বাসের ভিন্নতা যেন নাগরিকদের মধ্যে দূরত্বের কারণ না হয়, সেই বার্তাই দিয়েছেন।
বক্তব্যের আরেক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে প্রকাশিত বক্তব্যের ওই অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে ঠিক কী বলেছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই তাঁর বক্তব্যের ওই অংশের বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা হলো না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় বিভেদ না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে অবস্থিত জেএম সেন পূজামণ্ডপে এই কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের পরিচয় কিংবা অনুষ্ঠানের অন্য কোনো বক্তব্য সম্পর্কে পাওয়া তথ্য থেকে বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কোনো তথ্য যোগ করা হচ্ছে না।
ধর্মীয় পরিচয় মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত, আর নাগরিক পরিচয় দেশের সঙ্গে সবার সম্পর্ককে নির্দেশ করে—প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই দুই দিকই এসেছে। তাঁর আহ্বান অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্যকে সম্মান করার পাশাপাশি দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অভিন্ন নাগরিক পরিচয়। বক্তব্যটি ছিল ধর্মের কারণে বিভক্তি নয়, বরং একই দেশের নাগরিক হিসেবে একসঙ্গে থাকার পক্ষে।
শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কুশল জানতে চান। এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের সময়ে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সৌজন্যের প্রকাশ ঘটে। তবে এই আয়োজনের পরিধি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কিংবা সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুটি বিষয়: ধর্ম যার যার নিজস্ব বিশ্বাসের ক্ষেত্র, আর বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় সবার জন্য অভিন্ন। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভেদ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। চট্টগ্রামের জেএম সেন পূজামণ্ডপে তাঁর এই বার্তাই ছিল কুশল বিনিময় ও বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বিষয়।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]