খুঁজুন
, ,

দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৫ অপরাহ্ণ
দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ ধর্ম পালন করলেও দেশের মানুষের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের জেএম সেন পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় শেষে তিনি এ কথা বলেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা ছিল, ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও চর্চার বিষয়; কিন্তু নাগরিক পরিচয়ের ক্ষেত্রে সবাই বাংলাদেশি। ধর্মের ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে যেন দেশে কোনো বিভাজন না হয়, সে প্রত্যাশাও তুলে ধরেন তিনি।

পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানান। এ সময় তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়ের পার্থক্য স্পষ্টভাবে উঠে আসে। ধর্ম যার যার নিজস্ব বিষয়—এই বক্তব্যের পাশাপাশি তিনি দেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয়কে এক জায়গায় দেখার কথা বলেন।

ধর্মীয় উৎসবের সময়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং তাঁদের প্রতি সৌহার্দ্য প্রকাশের তাৎপর্য রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেও সেই পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন নাগরিক পরিচয়ের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি ধর্ম পালনের স্বাতন্ত্র্য স্বীকার করে বিভেদ এড়িয়ে চলার কথা বলেছেন; অর্থাৎ বিশ্বাসের ভিন্নতা যেন নাগরিকদের মধ্যে দূরত্বের কারণ না হয়, সেই বার্তাই দিয়েছেন।

বক্তব্যের আরেক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে প্রকাশিত বক্তব্যের ওই অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে ঠিক কী বলেছেন, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তাই তাঁর বক্তব্যের ওই অংশের বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা হলো না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং ধর্মীয় বিভেদ না রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জে অবস্থিত জেএম সেন পূজামণ্ডপে এই কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের পরিচয় কিংবা অনুষ্ঠানের অন্য কোনো বক্তব্য সম্পর্কে পাওয়া তথ্য থেকে বিস্তারিত জানা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে অনুমানভিত্তিক কোনো তথ্য যোগ করা হচ্ছে না।

ধর্মীয় পরিচয় মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত, আর নাগরিক পরিচয় দেশের সঙ্গে সবার সম্পর্ককে নির্দেশ করে—প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এই দুই দিকই এসেছে। তাঁর আহ্বান অনুযায়ী, ধর্মীয় বিশ্বাসের পার্থক্যকে সম্মান করার পাশাপাশি দেশের মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত অভিন্ন নাগরিক পরিচয়। বক্তব্যটি ছিল ধর্মের কারণে বিভক্তি নয়, বরং একই দেশের নাগরিক হিসেবে একসঙ্গে থাকার পক্ষে।

শারদীয় শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের কুশল জানতে চান। এ ধরনের শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে উৎসবের সময়ে সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সৌজন্যের প্রকাশ ঘটে। তবে এই আয়োজনের পরিধি, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কিংবা সেখানে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তাই সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে দুটি বিষয়: ধর্ম যার যার নিজস্ব বিশ্বাসের ক্ষেত্র, আর বাংলাদেশের নাগরিক পরিচয় সবার জন্য অভিন্ন। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভেদ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। চট্টগ্রামের জেএম সেন পূজামণ্ডপে তাঁর এই বার্তাই ছিল কুশল বিনিময় ও বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বিষয়।

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর যে বর্বরতা ও নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তা নিয়ে দায়ের করা গণহত্যা মামলার আইনি কার্যক্রম সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত। দীর্ঘ সময় ধরে চলা আইনি লড়াই এবং মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের তোলা বিভিন্ন আপত্তি খতিয়ে দেখার পর আন্তর্জাতিক আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত ঘটনাটি গণহত্যার বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত হওয়ার মতো যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করে।

ঘটনার শুরু থেকেই মিয়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক আদালতের এক্তিয়ার এবং এই মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছিল। দেশটির সামরিক জান্তা বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের বিরুদ্ধে আনা গণহত্যার অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারক প্যানেল মিয়ানমারের সেসব আপত্তি ও যুক্তিকে আইনি মানদণ্ডে টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। আদালতের এদিনের রায়ের ফলে মামলাটি এখন মূল শুনানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।

২০১৭ সালে রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং উগ্রপন্থি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে চালানো অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারান। জীবন বাঁচাতে প্রাণভয়ে প্রায় সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিয়ানমারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হতে থাকে। গাম্বিয়ার মতো দেশগুলো গণহত্যার বিচারের দাবিতে সরব হয় এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মামলাটি দায়ের করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের মূল লক্ষ্য ছিল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার পুনরুদ্ধার করা।

আন্তর্জাতিক আদালতের এই আদেশকে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার কর্মী এবং আন্তর্জাতিক আইনের বিশেষজ্ঞরা একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, মিয়ানমার যে দাবিই করুক না কেন, গণহত্যা মামলার প্রতিটি উপাদান ও তথ্যের বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ার অর্থ হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন আনুষ্ঠানিক শুনানির মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের সুযোগ পাবে। মিয়ানমার সরকার বিভিন্ন সময় নিজেদের পক্ষে নানা প্রমাণ দাখিলের দাবি করলেও, আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেল আদালতের নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো আপস করতে রাজি হয়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদালতের এই রায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক ও আইনি চাপ সৃষ্টি করবে। যদিও মিয়ানমারের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে, তবে আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় তাদের সেই অবস্থানের আইনি দুর্বলতাকে উন্মোচিত করেছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে মিয়ানমারকে আরও শক্ত আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে, যেখানে তাদের প্রতিটি দাবি ও তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে।

এদিকে, এই মামলার কার্যক্রম এগিয়ে যাওয়ায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং মিয়ানমারে তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। আদালতের নিরপেক্ষ অবস্থানের কারণে ভুক্তভোগী রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে ন্যায়বিচারের আশা কিছুটা হলেও জেগে উঠেছে। তবে মামলার চূড়ান্ত রায় আসতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে এবং এর প্রতিটি পর্যায়ে মিয়ানমার পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এখন বিশ্ববাসীর চোখ আন্তর্জাতিক আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে।

দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
   
দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশব্যাপী যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে তা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। বিশেষ করে সারা দেশে যেভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিংয়ের সময়সূচী মানার কথা ছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বীকার করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসতে আরও এক সপ্তাহের সময় প্রয়োজন।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ গ্রাহকদের অভিযোগ ছিল যে, ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎহীন থাকার ফলে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং জনমনে অসন্তোষ বাড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় মন্ত্রণালয় কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তা নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে যে জ্বালানি সংকট বিশ্ববাজারে রয়েছে, তার প্রভাব বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতেও পড়েছে। এর ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ স্পষ্ট করে বলেন যে, সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তবে হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে বরং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করাটাই এখন বড় অগ্রাধিকার। তিনি জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বর্তমান সীমাবদ্ধতাগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এর পরেই একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর সময়সূচী ঘোষণা করা হবে, যা দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমানভাবে পালনের চেষ্টা করা হবে।

বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি তেল ও কয়লা সরবরাহে বৈশ্বিক অস্থিরতা সরাসরি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও সক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে। তবে বিদ্যুৎ বিভাগ এখন চেষ্টা করছে যাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা যায়। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির একটি যৌক্তিক এবং স্থিতিশীল রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়। সরকারি ও বেসরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে আগেই। এছাড়া শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও পৃথক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী এক সপ্তাহের কঠোর পর্যবেক্ষণ ও পরিকল্পনার পর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান অসামঞ্জস্যতাগুলো অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির দ্রুত কোনো উন্নতি না হওয়ায় দেশের ভেতরে লোডশেডিংয়ের এই সমস্যা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের এই সময় চাওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

কে২ জয় করে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ওয়াসফিয়া নাজরিন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
   
কে২ জয় করে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ওয়াসফিয়া নাজরিন

বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কে২ জয় করে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী ওয়াসফিয়া নাজরিন। পাকিস্তানের কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত এই শৃঙ্গটি পর্বতারোহীদের কাছে অত্যন্ত দুর্গম ও বিপজ্জনক হিসেবে পরিচিত। সেই দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে চূড়ায় আরোহণের মাধ্যমে ওয়াসফিয়া প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এক বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন। তার এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ও পর্বতারোহণের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পাকিস্তান ও চীনের সীমান্তে অবস্থিত এই পর্বতশৃঙ্গটি উচ্চতার দিক থেকে মাউন্ট এভারেস্টের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তবে পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে এর গঠনগত জটিলতা, খাড়া ঢাল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এটি আরোহণের জন্য মাউন্ট এভারেস্টের চেয়েও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে গণ্য করা হয়। বিশ্বের নামিদামি পর্বতারোহীদের কাছেও কে২ একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই ওয়াসফিয়া সাফল্যের শিখরে পৌঁছালেন।

ওয়াসফিয়ার এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। এর আগে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গগুলো জয় করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করার অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো পৃথিবীর অন্যতম কঠিন এই শৃঙ্গ জয়ের গৌরব। তার এই যাত্রাপথ অত্যন্ত ধৈর্য এবং সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশিক্ষণ এবং মানসিক প্রস্তুতির পরই তিনি এই অভিযানে নামেন এবং অবশেষে সফলতার মুখ দেখেন।

এই পর্বতশৃঙ্গ জয়ের পথে তিনি প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শারীরিক ধকলের মুখোমুখি হয়েছেন। কে২ শৃঙ্গটি সাধারণত বছরের খুব কম সময় আরোহণের উপযোগী থাকে, যেখানে অক্সিজেন স্বল্পতা এবং হিমাঙ্কের অনেক নিচে তাপমাত্রা বিরাজ করে। এমন পরিস্থিতি কাটিয়ে চূড়ায় ওঠা যেকোনো পর্বতারোহীর জন্যই পরম সাহসের প্রতীক। তার এই জয়ের সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে খুশির আমেজ বয়ে যাচ্ছে এবং তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও শুভানুধ্যায়ীরা।

ওয়াসফিয়ার এই সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রশংসিত হচ্ছে তার এই কীর্তি। পর্বতারোহণের জগতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার মাধ্যমে তিনি তরুণ প্রজন্মের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। যারা অ্যাডভেঞ্চার এবং পর্বতারোহণে আগ্রহী, তাদের জন্য ওয়াসফিয়ার এই দৃঢ় সংকল্প ও সাফল্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, শৃঙ্গ জয়ের পরবর্তী কার্যক্রম ও নিচে নেমে আসার প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করার পর তিনি নিরাপদে ফিরে আসবেন। তার এই সাহসী অভিযানে দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছা শক্তির প্রতিফলন ঘটেছে। এর আগে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি যেভাবে একের পর এক শৃঙ্গ জয় করেছেন, কে২ জয়ের মাধ্যমে সেই সাফল্যের ধারাই অব্যাহত থাকল। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে ওয়াসফিয়া নাজরিনের এই অর্জনের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

সর্বশেষ
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পরবর্তী ধাপের পথে যাত্রা দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের সুশৃঙ্খল সময়সূচী বাস্তবায়নে এক সপ্তাহের সময় চাইলেন নসরুল হামিদ কে২ জয় করে অনন্য ইতিহাস গড়লেন ওয়াসফিয়া নাজরিন লক্ষ্মীপুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি ও মারধরের ঘটনায় কৃষক দল নেতা আটক শরীয়তপুরে আবাসিক হোটেল থেকে স্কুলশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার খুলনায় নদী পার করার প্রলোভনে নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেফতার ৩ বাংলাদেশি রোগীদের জাপানে চিকিৎসার সুযোগ সহজ করতে সমঝোতা দেশে ধর্মের নামে যেন কোনো বিভেদ না থাকে: প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় নির্বাচনে গ্রহণযোগ্য ও বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাময় প্রার্থী বাছাইয়ের আহ্বান তারেক রহমানের ৩৪ বছরে পদার্পণ করলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
Advertisement