খুঁজুন
, ,

এলজিইডি’র সড়ক প্রশস্তকরণে উন্নয়নের ছোয়ায় বদলে যাচ্ছে চাঁদপুরের রাস্তাঘাট

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী-চাঁদপুর
প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৫, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
এলজিইডি’র সড়ক প্রশস্তকরণে উন্নয়নের ছোয়ায় বদলে যাচ্ছে চাঁদপুরের রাস্তাঘাট
আগামীতে সকল গ্রামীণ হাট-বাজার পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হবে
……..চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান কবির
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকৌশল সংস্থা। ৬০ এর দশকে পল্লীপূর্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে কার্যক্রম শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় এর পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের সীমানায় রয়েছে এলজিইডির বিশাল কর্মযজ্ঞ। পল্লি অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ এবং হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে এলজিইডি যে অবদান রেখেছে তা আজ দৃশ্যমান। দেশের ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি অর্জনে এসব অবকাঠামোর অবদান অপরিসীম। প্রত্যন্ত পল্লির মানুষ আজ সর্বোচ্চ দুই কিলোমিটারের মধ্যে পাকা সড়ক ব্যবহারের সুবিধা পাচ্ছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে পল্লির এসব অবকাঠামো ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এলজিইডি শহর ও নগর অঞ্চলেও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। নগর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে (পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন) কারিগরি সহায়তা প্রদান ও এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থা ও দক্ষতা উন্নয়নেও এলজিইডি সম্পৃক্ত। দেশের কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতেও এলজিইডি বিশেষ ভূমিকা পালন করছে সারাদেশে ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে। এসব প্রকল্পে স্থানীয় অংশীজনদের অংশগ্রহণে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সল্প ও দীর্ঘমেয়াদী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি এসব অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহকে বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি সহায়তা প্রদান এলজিইডির কর্মতালিকার অংশ। একইসঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে এলজিইডি। উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়নে অবকাঠামোর তথ্যভান্ডার, মানচিত্র, কারিগরি বিনির্দেশ, ম্যানুয়াল ইত্যাদি প্রণয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে সংস্থার নিজস্ব কর্মকর্তা/কর্মচারী, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এলজিইডি।

এলজিইডি চাঁদপুরের কমিউনিটি ওরগানাইজার’ রফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) কর্তৃক চাঁদপুর জেলার একাধিক উপজেলায় ২০২৪’ ২৫ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালী করন প্রকল্পের আওতায় ৭১ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ১৭১ টাকার টাকা ব্যায়ে
রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে।
চলমান রাস্তাগুলো হলো, মতলব উত্তর উপজেলার ২৩ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যায়ে চেংগারচর জিসি, কালিবাজার জিসি সড়ক, ১৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যায়ে ছেংগারচর জিসি- একলাসপুর জিসি সড়ক,
শাহারাস্তি উপজেলায় ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা
ব্যায়ে উপজেলা হেডকোয়ার্টার শিবপুর আরএন এইচডি সড়ক, কচুয়া উপজেলায় ৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যায়ে রহিমনগর নবাবপুর রোড।

এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল
অধিদপ্তর (এলজিইডি) চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আহসান কবির এর সাথে। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রামীণ, নগর ও ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য এলজিইডি কাজ করছে। চাঁদপুরের চলমান সড়ক উন্নয়নের ফলে ক্রমশ বদলে যাচ্ছে জেলার দৃশ্যপট। জেলার ৮টি উপজেলায় সড়ক সংস্কার, প্রশস্তকরন ও রক্ষণাবেক্ষণের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার এক যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হতে চলছে।

তিনি আরও বলেন, আগামীতে দেশের গ্রামসমূহে নাগরিক সুবিধা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। দেশের গ্রামসমূহের প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রেখে, শহরের সাথে যোগাযোগ সহজতর এবং গতিশীল করা হবে। হাটবাজার, ইউনিয়ন, উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কসমূহ সম্প্রসারিত করে ডাবল লেন করা হবে। শহরের সাথে গ্রামের সংযোগ সড়কসমূহ যানজটমুক্ত ও প্রশস্ত করা হবে। এতে মানুষ গ্রামে থেকে সহজেই শহরে চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে। গ্রামের নদীসমূহের নাব্য অক্ষুণ্ণ রেখে প্রয়োজনীয় সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। কোনো গ্রাম সেতুর অভাবে পশ্চাৎপদ থাকবে না। বিদ্যালয়গামী কোনো শিশুকে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে হবে না।

গ্রামীণ নৌপথসমূহ খনন করে সচল করা হবে। এতে কৃষিপণ্যের পরিবহন ব্যয় কমে আসবে। সড়ক পথের পাশাপাশি নৌপথও ব্যবহার করা যাবে। এ সকল নৌপথে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ঘাটও নির্মাণ করা হবে। পল্লী অঞ্চলের খালগুলো খনন করে সচল নদী প্রবাহের সাথে যুক্ত করা হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সকল গ্রামীণ হাট-বাজার পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা হবে। ব্যস্ত এবং বর্ধনশীল বাজারগুলোতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। হাট-বাজারগুলোতে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সুপরিসর সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হবে যাতে দুর্যোগকালীন মানুষের পাশাপাশি গবাদিপশু এবং অন্যান্য সম্পদেরও স্থান সংকুলান হয়।

দেশের শহরগুলো উন্নত বিশ্বের আধুনিক শহরের আদলে গড়ে তোলা হবে। নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত পার্ক, শিশুদের খেলার মাঠ, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ, যানজট দূরীকরণে প্রশস্ত সড়কসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। নগরগুলোর সেবা প্রদানের সক্ষমতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি করা হবে। এভাবেই ক্রমশ উন্নত দেশের পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত: কামরুল ইসলাম সিদ্দিক একজন বাংলাদেশী প্রকৌশলী এবং নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ। তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামোর রূপকার হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বিশ্বব্যাংক কামরুল ইসলাম সিদ্দিককে ১৯৯৯ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল রোড ফেডারেশন’ কর্তৃক বর্ষসেরা ব্যক্তি ঘোষণা করেন। ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে ওয়ার্কস প্রোগ্রাম উইং রাজস্ব বাজেটের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরো (এলজিইবি) রূপে পুনর্গঠিত হয়। ১৯৯২ সালের আগস্ট মাসে এলজিইবিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হিসেবে উন্নীত করা হয়।

বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
   
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম

সাধারণত বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনার কথা উঠলে পর্যটকদের মনে প্রথমেই ইউরোপের প্যারিস, লন্ডন কিংবা ইতালির বিভিন্ন ঐতিহাসিক জাদুঘরের নাম ভেসে ওঠে। ল্যুভর মিউজিয়াম বা ব্রিটিশ মিউজিয়ামের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, পর্যটকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন পর্যটকদের ভিড়ের দিক থেকে ইউরোপের জাদুঘরগুলোকে টেক্কা দিয়ে তালিকার শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে এশিয়ার একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা।

থিমড এন্টারটেইনমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মানুষ ঘুরে দেখছেন চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থিত প্যালেস মিউজিয়াম। ফরবিডেন সিটি বা নিষিদ্ধ নগরী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই স্থাপনাটি কেবল চীনের ইতিহাস নয়, বরং বিশ্ব ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন। গত কয়েক বছর ধরে পর্যটকদের কাছে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের পর্যটন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকা এই বিশাল প্রাসাদে রেকর্ড সংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে, যা অন্যান্য দেশের নামীদামি জাদুঘরগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।

কেন বেইজিংয়ের এই প্যালেস মিউজিয়াম পর্যটকদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে, তার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এর বিশাল স্থাপত্যশৈলী এবং সংরক্ষিত প্রাচীন ঐতিহ্যের বিশাল ভাণ্ডার পর্যটকদের সহজেই মুগ্ধ করে। মিং এবং চিং রাজবংশের শাসনামলে নির্মিত এই বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সটি কয়েকশ বছর ধরে চীনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। সময়ের বিবর্তনে এটি এখন কেবল একটি দর্শনীয় স্থান নয়, বরং ইতিহাস প্রেমীদের কাছে তীর্থস্থানের মতো। বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে পর্যটন খাতের যে উন্নয়ন ঘটছে, তাতে চীন সরকার তাদের ঐতিহাসিক স্থানগুলো রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটনবান্ধব করার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ফরবিডেন সিটিতে এখন আধুনিক সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলো যেখানে বছরের পর বছর ধরে পর্যটন খাতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, সেখানে চীনের এই অর্জন বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, পর্যটকদের এখন কেবল শিল্পকলার জাদুঘর নয়, বরং জীবন ঘনিষ্ঠ ও বিশাল পরিসরের ঐতিহাসিক স্থাপনার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্যালেস মিউজিয়ামের এই জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে, দর্শনার্থীরা এখন এমন জায়গায় ভ্রমণ করতে পছন্দ করছেন যেখানে স্থাপত্য, সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের এক অদ্ভুত মিলনমেলা দেখা যায়।

বেইজিংয়ের এই অর্জন কেবল জাদুঘরটির ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পুরো এশীয় অঞ্চলের পর্যটন খাতের জন্য একটি বড় স্বীকৃতি। একদিকে যেমন চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে নতুন করে সমাদৃত হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটন অর্থনীতিতেও এটি বড় ভূমিকা রাখছে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম সামলানো এখন কর্তৃপক্ষর জন্য একটি চ্যালেঞ্জও বটে। তাই অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবং দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা আরও আনন্দদায়ক করতে ডিজিটাল টিকিটিং ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব ভ্রমণের তালিকায় যারা নিজেদের নতুন করে সাজাচ্ছেন, তাদের কাছে এখন বেইজিংয়ের এই নিষিদ্ধ নগরী বা প্যালেস মিউজিয়াম অবশ্যই প্রথম সারির একটি গন্তব্য হয়ে উঠেছে।

দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিপ্লবের তাৎপর্য ও দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ঘোষণা করেছেন যে, বাংলাদেশকে কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো রাষ্ট্রের ক্লায়েন্ট স্টেট বা অনুগত রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

৭ নভেম্বরের সেই বিপ্লব বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বলে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তার মতে, ওই ঐতিহাসিক ঘটনা দেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিয়েছিল এবং একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মমর্যাদা নিয়ে টিকে থাকার প্রেরণা যুগিয়েছিল। সেই বিপ্লব দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে যে বার্তা বহন করেছিল, তা আজও প্রাসঙ্গিক। এই চেতনাকে ধারণ করেই বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনা করছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না বলে তিনি জোর দিয়ে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটও স্পর্শ করেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক সম্পর্ক বা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা যাই হোক না কেন, দেশের স্বকীয়তা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। অন্য কোনো শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যটি মূলত দেশের জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জোরদার করার একটি বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, ইতিহাসের শিক্ষা থেকেই বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ চলতে হবে। দেশ যে গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে জনগণের মতামতের প্রতিফলন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বিদেশি শক্তির প্রভাবে বা চাপে পড়ে দেশের নীতি নির্ধারণের দিন শেষ হয়েছে বলেও তিনি অভিমত প্রকাশ করেন। দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নে সরকার আত্মনির্ভরশীল হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র কর্তব্য। কোনো চক্রান্তই বাংলাদেশের উন্নয়নের পথকে রুদ্ধ করতে পারবে না। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বর্তমান প্রশাসন যেকোনো মূল্যে দেশের স্বাধীনতা ও সম্মান রক্ষার জন্য কাজ করে যাবে। ৭ নভেম্বরের সেই বিপ্লবী চেতনা থেকেই আগামী দিনে সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার কাজে সরকার অবিচল থাকবে।

দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
   
দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান

মানবজীবনের পথে এমন কিছু গভীর ক্ষত তৈরি হয়, যা সময়ের সাথে মুছে যায় না বরং স্মৃতির পাতায় আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। ইতিহাস যখন রাজনীতির চশমা দিয়ে বিচার করা হয়, তখন অগণিত সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত বেদনার আখ্যানগুলো প্রায়ই আড়ালে পড়ে যায়। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এমন এক রাজনৈতিক বিভাজন, যা কেবল মানচিত্রের সীমানা নির্ধারণ করেনি, বরং চিরতরে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে হাজারো মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, জীবনযাত্রা এবং পরিচয়ের ভিত্তি। ইতিহাসের পাতায় দেশভাগ একটি রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে নথিভুক্ত থাকলেও, এর গভীরে লুকিয়ে থাকা মানবিক সংকটের চিত্রটি আজও অমীমাংসিত এক ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত হয়।

দেশভাগের ফলে সৃষ্ট যে ভৌগোলিক ও মানসিক সীমানা তৈরি হয়েছিল, তা মানুষের হৃদয়ের ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী প্রলেপ ফেলে দিয়েছে। নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে অজানা ঠিকানায় পাড়ি জমানোর সেই দুঃসহ স্মৃতি আজো বহু মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নেয়। এই বিচ্ছেদের বেদনায় যারা জর্জরিত, তাদের জন্য দেশ কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং এটি শৈশবের স্মৃতি, ফেলে আসা প্রিয়জন এবং শেকড়ের টান। নীলকণ্ঠ পাখি এখানে সেই হারানো সুখ ও অজানার ঠিকানায় শান্তির প্রত্যাশার একটি প্রতীক হিসেবে উঠে এসেছে। কোনো মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকা সেই ফেলে আসা স্বদেশের গল্পগুলো নতুন করে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়েই যেন নীলকণ্ঠের খোঁজে মানুষ আজও অতীতে ফিরে যায়।

আমাদের সমাজে এমন অনেক আখ্যান রয়েছে যা দেশভাগের বিভীষিকাকে তুলে ধরে। সেই সব গল্পের গভীরে তাকালে দেখা যায়, দেশভাগ মানেই কেবল জায়গা পরিবর্তন নয়, বরং নিজের সত্তার একটি বড় অংশকে বিসর্জন দেওয়া। মানুষের জীবনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হয়, তা পূরণ করার মতো কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা আজও সেভাবে কার্যকর হয়নি। সাহিত্য ও শিল্পকলায় বারবার ফিরে আসে সেই চিরচেনা গ্রাম, নদীর বাঁক আর ফেলে আসা মানুষের মুখচ্ছবি। নীলকণ্ঠ পাখির রূপক ব্যবহার করে যেন সেই হারিয়ে যাওয়া স্বর্গের সন্ধানই করা হচ্ছে, যেখানে কোনো কাঁটাতার বা বিভেদ ছিল না।

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যখন সেই ফেলে আসা দিনগুলোর কথা স্মরণ করি, তখন অনুধাবন করা যায়, দেশভাগের ক্ষত কেবল ব্যক্তি মানুষের নয়, তা এক পুরো প্রজন্মের সামগ্রিক ট্র্যাজেডি। সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও মানুষের শিকড় খোঁজার এই আদিম বাসনা আজও অটুট। হারানো দেশ, হারিয়ে যাওয়া মানুষ এবং সেই প্রিয়জনদের সন্ধানে নীলকণ্ঠ পাখির উড়াল আসলে আমাদের সম্মিলিত চেতনার এক অংশ। এই অনুসন্ধানের মাধ্যমে মূলত আমরা নিজের পরিচয় ও অস্তিত্বের শিকড়কে নতুন করে চিনতে চেষ্টা করি। স্মৃতির এই দীর্ঘযাত্রায় নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীক যেন সেই হারানো মায়া আর ভালোবাসার জয়গান গেয়ে চলে, যা সীমানার বেড়াজাল পেরিয়ে মানুষের হৃদয়ে হৃদয়ে আজও স্পন্দিত হয়।

সর্বশেষ
বিশ্বের পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে বেইজিংয়ের প্যালেস মিউজিয়াম দেশকে কখনোই ক্লায়েন্ট স্টেট হতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী দেশভাগের ক্ষত ও স্মৃতির দহনে নীলকণ্ঠ পাখির প্রতীকি অনুসন্ধান শাহরুখের ‘কিং’ সিনেমার গানে সুর চুরির অভিযোগ, মুখ খুললেন মৌসুমী ভৌমিক রাজধানীতে সক্রিয় গাড়ির যন্ত্রাংশ চোর চক্র, গ্রেফতার ৪ কক্সবাজারে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী, আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর ত্বকের যত্নে ভিটামিন সি: সব প্রসাধনীতে কি এর প্রয়োজন আছে? অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সড়ক ছাড়লেন হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস, দায় চাপালেন ট্রাম্প দেশে হামের প্রকোপ অব্যাহত: উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু