খুঁজুন
, ,

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: দুর্যোগে শিক্ষার অধিকার হারাচ্ছে দেশের ৪৯ শতাংশ শিশু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: দুর্যোগে শিক্ষার অধিকার হারাচ্ছে দেশের ৪৯ শতাংশ শিশু

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের শিশুশিক্ষার ভবিষ্যৎ এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর শিশুরা প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত এক বছরে বিদ্যালয়গামী শিশুদের প্রায় ৪৯ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে এক বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিগ্রস্ত এলাকার শিশুরা নিয়মিত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত দুই বছরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একবার কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় কিংবা নদীভাঙনের মতো ঘটনার পর তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির ওপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, দুর্যোগের সময় বিদ্যালয়গুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নিয়মিত পাঠদান বন্ধ হয়ে যায় অথবা যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে পৌঁছাতে পারে না।

কেবল শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, দুর্যোগের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। তীব্র তাপপ্রবাহ কিংবা দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে এসব এলাকার ৮০ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে। অপুষ্টি, পানিবাহিত রোগ ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বাধা দিচ্ছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে যাওয়ার পেছনে এই স্বাস্থ্য সংকটও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তন শিশুদের শৈশবকে অনিরাপদ করে তুলছে। বিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুতি না থাকা এবং দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে শিক্ষাকার্যক্রম পুনরুদ্ধারের ধীরগতি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হারকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদি জরুরিভিত্তিতে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আগামী প্রজন্মের বড় একটি অংশ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল ত্রাণ সহায়তা বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর না করে, শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্যোগসহনশীল করে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। দুর্যোগের সময় বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা, বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী মানসিক ও শারীরিক সেবা প্রদানের বিষয়টি জোরদার করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের শিক্ষাজীবনকে স্বাভাবিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিশু অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদীয় ককাসের কার্যক্রম শুরু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
শিশু অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদীয় ককাসের কার্যক্রম শুরু

দেশের শিশুদের সার্বিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনগুলো পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জাতীয় সংসদের নবগঠিত শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাস। এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করতে গিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানিয়েছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য একটি নিরাপদ ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সময়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সভায় ডেপুটি স্পিকার শিশু অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আইন ও নীতিমালার ফাঁকফোকর দূর করে সেগুলোর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সভায় তিনি আরও বলেন, নির্বাহী বিভাগে কোনো আইনি বা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতা থাকলে সংসদ সদস্যরা তাদের নিজস্ব সাংবিধানিক ক্ষমতার বলে বেসরকারি বিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনী সংসদে উত্থাপন করতে পারেন। এই আইনি প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে শিশু অধিকার বিষয়ক আইনগুলোকে আরও যুগোপযোগী করা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ককাসের এই নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই ধরনের সক্রিয়তা শিশুদের প্রতি সহিংসতা, অবহেলা ও শোষণের হার কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। ককাসের সদস্যরা জানিয়েছেন, তারা ধারাবাহিকভাবে বিদ্যমান আইনগুলোর প্রতিটি ধারা চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন এবং যেখানেই অসামঞ্জস্য বা আধুনিক সময়ের দাবি অনুযায়ী পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে দ্রুত সংস্কারের প্রস্তাব আনা হবে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন যে, সংসদীয় ককাস শুধু আইন পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সনদসমূহ এবং দেশের সংবিধানের মূল চেতনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কীভাবে নীতিমালাগুলো বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়েও তদারকি বজায় রাখবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্যদের এই সম্মিলিত প্রয়াস দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত শিশু অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় অংশগ্রহণকারী নীতিনির্ধারকরা প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে প্রতিটি শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সংসদীয় ককাস তাদের সরব উপস্থিতি বজায় রাখবে এবং শিশু অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল আইনি কাঠামো সংস্কারে কোনো গাফিলতি রাখা হবে না। সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সংসদীয় এই ককাস দেশের শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাষ্ট্র বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ১৬টি প্রকল্পের প্রদর্শন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ১৬টি প্রকল্পের প্রদর্শন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও এর ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এ অনন্য নজির স্থাপন করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবিত ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্প প্রদর্শনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের পরিচয় দিয়েছেন। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিল্প উৎপাদন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নগর অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে কেন্দ্র করে এসব প্রকল্প সাজানো হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পই বাস্তব জীবনের বিভিন্ন জটিল সমস্যার কার্যকর ও সুলভ সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এআই সামিটে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কেবল অংশগ্রহণই করেনি, বরং ডায়মন্ড স্পন্সর হিসেবে ইভেন্টটির আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ড্যাফোডিল গ্রুপের পাঁচটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানও এই আয়োজনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের এমন উদ্যোগ ও আগ্রহ আয়োজকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্বে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতা তুলে ধরতে এই ধরনের প্রদর্শনী বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার আধুনিকায়ন এবং কৃষিখাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এছাড়া নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নিয়েও শিক্ষার্থীদের কাজগুলো সামিটে সমাদৃত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছে। শিক্ষার্থীদের এই ১৬টি প্রকল্পই প্রমাণ করে যে, তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রয়োগেও তারা সমান পারদর্শী।

সামিটে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনগুলো ঘুরে দেখেন এবং তাদের কাজের প্রশংসা করেন। প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনগুলোকে বাস্তবে রূপান্তর ও এর বাণিজ্যিক সফলতার বিষয়েও তারা তরুণদের পরামর্শ দিয়েছেন। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্পগুলো কেবল সামিটে প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে এগুলোকে আরও সমৃদ্ধ করে জাতীয় প্রয়োজনে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

দিনব্যাপী এই সামিটে প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এআই প্রযুক্তির ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো নিয়েও বিশদ পর্যালোচনার সুযোগ ছিল সেখানে। তরুণ উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবসার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এমন সামিটে অংশগ্রহণ ও নিজেদের কাজ তুলে ধরার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব প্রদানের আত্মবিশ্বাস অর্জন করবে। সব মিলিয়ে, ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের এই সাফল্য দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার চিত্রকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ার আভাস, অর্থনীতিতে নতুন চাপের মুখে বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
   
বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ার আভাস, অর্থনীতিতে নতুন চাপের মুখে বাংলাদেশ

বিশ্বজুড়ে খাদ্য ও জ্বালানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার এক নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দুই মাস এবং আগামী বছরজুড়ে বিশ্ববাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য বজায় থাকতে পারে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও প্রকট করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশ্বব্যাংকের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম গড়ে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি, সরবরাহ চেইন জটিলতা এবং ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়া মানেই হলো উৎপাদন খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্ববাজারের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল থেকে শুরু করে সার ও জ্বালানি তেলের অধিকাংশ চাহিদাই মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে। ফলে বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়তে খুব বেশি সময় লাগে না। আমদানিনির্ভর এই কাঠামোর কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের অস্থিরতা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে মুদ্রাস্ফীতিকে উসকে দেয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে, তখন নতুন করে এই দাম বাড়ার আশঙ্কা উদ্বেগের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বিশ্ববাজারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। আমদানি ব্যয় মেটাতে প্রচুর পরিমাণে ডলারের প্রয়োজন হয়, যার জোগান নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের ব্যয় বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে কলকারখানার উৎপাদন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন যাতায়াত খরচ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে। বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাস সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি আগাম সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা, নিজস্ব উৎপাদন বাড়ানো এবং বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ না করলে মূল্যস্ফীতির এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন হতে পারে। আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে পণ্যের অস্থিরতা কতটুকু দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ
শিশু অধিকার সুরক্ষায় বিদ্যমান আইন সংশোধনের লক্ষ্যে সংসদীয় ককাসের কার্যক্রম শুরু বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিটে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ১৬টি প্রকল্পের প্রদর্শন বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বাড়ার আভাস, অর্থনীতিতে নতুন চাপের মুখে বাংলাদেশ বাংলাদেশের স্কোয়াড গভীরতা নিয়ে মুগ্ধ ভুটানের কোচ অধ্যক্ষর পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্স দীর্ঘ ২৩ বছর পর পরিবর্তন লক্ষ্মীপুর জামায়াতের নেতৃত্বে, নতুন আমির এ আর হাফিজ উল্লাহ কপ-৩১ সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নে অনুদানের ওপর জোর দেবে বাংলাদেশ অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে হোম ইকোনমিকসের শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়: মাহদী আমিন অসুস্থ মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ছেলের