খুঁজুন
, ,

শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ণ
শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড বা বোয়েসেল মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের জন্য একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে মালয়েশিয়ার খ্যাতনামা কোম্পানি ডিএইচল সাপলাই চেইন এসডিএন বিএইচডি-তে দক্ষ জনবল নেওয়া হবে। দীর্ঘ সময় ধরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর এই নিয়োগ সংক্রান্ত ঘোষণাটি আসে এবং এর মাধ্যমে আগ্রহী প্রার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো শূন্য অভিবাসন ব্যয়। অর্থাৎ, যারা নির্বাচিত হবেন তাদের বিদেশে যাওয়ার জন্য কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালকে অর্থ দিতে হবে না। সরকারি ব্যবস্থাপনায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ সম্পন্ন হবে, যা কর্মীদের আর্থিক ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার সবসময়ই দক্ষ কর্মীদের জন্য উন্মুখ হয়ে থাকে এবং এই কোম্পানির জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বোয়েসেল সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্রে জানা গেছে, মোট ১১২ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। যেহেতু এটি দক্ষ জনবল নেওয়ার প্রক্রিয়া, তাই প্রার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা থাকতে হবে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত শর্তাবলি অনুযায়ী, আগামী ৬ নভেম্বর থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের বোয়েসেলের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের বিস্তারিত প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সরকারি ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সময়ে সরকারিভাবে কর্মী পাঠানোর এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। অতীতে বিদেশে কর্মী পাঠাতে গিয়ে অনেক সময় প্রতারণার শিকার হতে হতো সাধারণ মানুষকে। কিন্তু বোয়েসেলের মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার ফলে প্রকৃত যোগ্য কর্মীরা বিনা খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন। এটি দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতেও সহায়ক হবে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশিরা কীভাবে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারেন, তা এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বোয়েসেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। প্রার্থীদের সতর্ক করা হয়েছে যাতে তারা কোনো প্রতারকের প্রলোভনে পা না দেন। সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমের ওপর নির্ভর না করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় এই ধরনের সরকারি নিয়োগ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে কর্মসংস্থানের চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: দুর্যোগে শিক্ষার অধিকার হারাচ্ছে দেশের ৪৯ শতাংশ শিশু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
   
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: দুর্যোগে শিক্ষার অধিকার হারাচ্ছে দেশের ৪৯ শতাংশ শিশু

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাংলাদেশের শিশুশিক্ষার ভবিষ্যৎ এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোর শিশুরা প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গত এক বছরে বিদ্যালয়গামী শিশুদের প্রায় ৪৯ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এটি কেবল একটি পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক শিক্ষার অগ্রগতির ক্ষেত্রে এক বড় বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিগ্রস্ত এলাকার শিশুরা নিয়মিত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত দুই বছরে এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার ৯৬ শতাংশ শিশু অন্তত একবার কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় কিংবা নদীভাঙনের মতো ঘটনার পর তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতির ওপর। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, দুর্যোগের সময় বিদ্যালয়গুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় নিয়মিত পাঠদান বন্ধ হয়ে যায় অথবা যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে পৌঁছাতে পারে না।

কেবল শিক্ষার ক্ষেত্রেই নয়, দুর্যোগের সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। তীব্র তাপপ্রবাহ কিংবা দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে এসব এলাকার ৮০ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছে। অপুষ্টি, পানিবাহিত রোগ ও দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তাদের পড়াশোনায় মনোযোগী হতে বাধা দিচ্ছে। বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার কমে যাওয়ার পেছনে এই স্বাস্থ্য সংকটও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী জলবায়ু পরিবর্তন শিশুদের শৈশবকে অনিরাপদ করে তুলছে। বিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুতি না থাকা এবং দুর্যোগের পরবর্তী সময়ে শিক্ষাকার্যক্রম পুনরুদ্ধারের ধীরগতি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হারকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদি জরুরিভিত্তিতে এই সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আগামী প্রজন্মের বড় একটি অংশ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেবল ত্রাণ সহায়তা বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের ওপর নির্ভর না করে, শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্যোগসহনশীল করে গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। দুর্যোগের সময় বিকল্প শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা, বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দুর্যোগ-পরবর্তী মানসিক ও শারীরিক সেবা প্রদানের বিষয়টি জোরদার করা প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের শিক্ষাজীবনকে স্বাভাবিক রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত

রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পেস্ট বহনের দায়ে আটক দুই চীনা নাগরিককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হয়েছিল। আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন। আটককৃত ব্যক্তিদের নাম চেন লিউন এবং মো শিয়াওইউ বলে জানা গেছে। বিমানবন্দর কাস্টমস ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের আটক করা হয়েছিল।

জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে দুবাই থেকে বিমানযোগে ঢাকায় অবতরণ করেন এই দুই বিদেশি নাগরিক। তাদের চলাফেরা ও আচরণের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি ছিল। কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে তাদের অন্তর্বাসে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় মোট ১২ কেজি ওজনের স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করেন। এটি পাচারের একটি অভিনব কৌশল বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর গত সপ্তাহে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছিল। বিচারিক আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাদের সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। রিমান্ড চলাকালীন সময়ে তাদের কাছ থেকে পাচার সংক্রান্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছেন তদন্তকারীরা। আজ বৃহস্পতিবার রিমান্ডের মেয়াদ শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের পুনরায় আদালতে হাজির করেন। এ সময় মামলার তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়। বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে দুই অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের পেস্ট তারা কোনো একটি সিন্ডিকেটের সহায়তায় পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। উদ্ধার হওয়া এই পেস্ট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ পাওয়া সম্ভব। রিমান্ডে থাকা অবস্থায় তারা তদন্তকারীদের কাছে নিজেদের সংশ্লিষ্টতা ও পাচার চক্রের বিষয়ে প্রাথমিক কিছু তথ্য দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা এখন খতিয়ে দেখছে যে, এর পেছনে আর কারা জড়িত এবং তারা এর আগেও এই ধরনের কোনো অপকর্ম করেছে কি না। বিমানবন্দর কেন্দ্রিক কঠোর নজরদারির মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার ধারাবাহিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হবে। বর্তমানে তারা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা?

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হতে চলল। রাষ্ট্র পরিচালনার শুরু থেকেই প্রশাসনে গতিশীলতা আনতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে বড় ধরনের রদবদল, নিয়মিত বদলি, পদোন্নতি এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও সরকারি প্রশাসনের সামগ্রিক চিত্র খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সচিবালয় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত যে ধরনের স্থিতিশীলতা কাম্য ছিল, তা এখনো দৃশ্যমান হয়নি। উল্টো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বদলি ও পদায়ন নিয়ে একধরনের অসন্তোষ ও অস্থিরতার অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারের মেয়াদের প্রথম আট মাসেই দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি ও নতুনভাবে পদায়ন করা হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক রদবদলের বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার চেয়েও প্রশাসনিক তৎপরতার অংশ হিসেবে বেশি দেখা হচ্ছে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে এক হাজার ৫৫ জন কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রশাসনের পদোন্নতি ও পদায়ন একটি নিয়মিত কাজের অংশ হলেও এর ঘনঘটা কর্মপরিবেশে ভিন্ন ধরনের উত্তাপ ছড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু বদলি ও পদোন্নতিই নয়, একইসঙ্গে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার অজুহাতে ৩২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ধরনের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে প্রশাসনের ভেতরে কর্মকর্তাদের মধ্যে একধরনের ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজের গতিকে ব্যাহত করছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো প্রশাসনে ঘন ঘন রদবদল বা বড় ধরনের রদবদল আনা হলে সেখানে কিছুটা স্থবিরতা আসাই স্বাভাবিক। কারণ, নতুন পদে গিয়ে কর্মকর্তাদের খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। যখন একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে বারবার একই জায়গায় রদবদল করা হয়, তখন উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বিঘ্নিত হয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ার পর আবার তাদের পরিবর্তন করা হচ্ছে, যা কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

সরকার গঠনের পর থেকেই প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, তাতে এখনো প্রত্যাশিত ফল না আসার পেছনে সমন্বয়ের অভাব এবং যথাযথ মূল্যায়নের ঘাটতি থাকতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। মেধার ভিত্তিতে পদায়ন বা জ্যেষ্ঠতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও সামনে আসে, যা প্রশাসনের মেরুদণ্ডকে দুর্বল করে দেয়। যখন মাঠ প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে এ ধরনের অনিশ্চয়তা বিরাজ করে, তখন এর প্রভাব সাধারণ জনগণের ওপর পড়ে। সরকারি সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় নাকাল হন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কি না, তা নিয়ে প্রশাসন পাড়ায় এখন নানা গুঞ্জন রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে প্রশাসনের এই অস্থিরতা কাটিয়ে কীভাবে একটি কার্যকর ও স্থিতিশীল কর্মপরিবেশ তৈরি করা সম্ভব, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ
জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত: দুর্যোগে শিক্ষার অধিকার হারাচ্ছে দেশের ৪৯ শতাংশ শিশু দুবাই থেকে স্বর্ণ পাচার: দুই চীনা নাগরিককে কারাগারে পাঠালেন আদালত প্রশাসনিক রদবদলেও কেন ফিরছে না স্থিতিশীলতা? টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সাথে গোলাগুলি: সেনাবাহিনীর সদস্য নিহত শূন্য অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি যুদ্ধের অস্থিরতায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জিং: বিদ্যুৎমন্ত্রী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ হোম ইকোনমিকস কলেজের অধ্যক্ষ রাজধানীর শান্তিবাগে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের