সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভুটানের বিপক্ষে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মিশনে বাংলাদেশ
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন আসরের পর্দা ওঠার প্রাক্কালে মাঠের লড়াই নিয়ে উত্তাপ বাড়ছে। টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভুটানের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামার আগে কোচ ডুলিকে পড়তে হয়েছে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। ফিফা উইন্ডোর বাইরে টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবং ক্লাব ফুটবলের ব্যস্ত সূচির কারণে দলের সেরা খেলোয়াড়দের সবাইকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতেই একাদশে বড় ধরনের রদবদল এনেছেন কোচ, যা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভুটানের বিপক্ষে ঘোষিত বাংলাদেশ একাদশে বেশ কিছু চমক দেখা গেছে। বিশেষ করে দলের অভিজ্ঞ ও নিয়মিত মুখদের অনুপস্থিতিতে কোচের কৌশলগত পরিবর্তন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। জানা গেছে, আসন্ন ম্যাচে একাদশে জায়গা হয়নি আসিয়ান কাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করা সোহেল রানা ও শেখ মোরসালিনের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারদের। এছাড়াও তরুণ প্রতিভাবান স্ট্রাইকার মাহি খানও এই ম্যাচে দলের বাইরে রয়েছেন। ইনজুরি এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস নিয়ে সমস্যার কারণেই মূলত এমন বাধ্যবাধকতায় পড়তে হয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টকে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর সিদ্ধান্তটি এসেছে আক্রমণভাগ সাজানোর ক্ষেত্রে। স্বাভাবিকভাবেই রক্ষণভাগের দায়িত্বে থাকা নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় বিশ্বনাথ ঘোষকে এবার স্ট্রাইকার হিসেবে খেলানোর পরিকল্পনা করেছেন কোচ ডুলি। দলের মূল স্ট্রাইকারদের ঘাটতি মেটাতে বিশ্বনাথের ওপর এই বাড়তি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ দলের জন্য এক বড় ধরনের পরীক্ষা। রক্ষণভাগ থেকে উঠে আসা একজন ডিফেন্ডারকে গোলমুখে দায়িত্ব দেওয়া কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও দলের অন্দরমহলের ভাষ্যমতে, বর্তমান পরিস্থিতি সামলাতে এটিই সেরা সমাধান ছিল।
এদিকে টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাফের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটেছে। সেখানে সঙ্গীতশিল্পী সঞ্জয়ের পরিবেশনা এবং রোবটের নাচ দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে মাঠের বাইরের জৌলুসের চেয়েও এখন সবার নজর মাঠের ফুটবলের দিকে। বাংলাদেশ দল বৃহস্পতিবার রাতে ভুটানের বিপক্ষে মাঠে নামবে এবং এই ম্যাচ থেকেই টুর্নামেন্টে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিতে চায় কোচ ডুলির শিষ্যরা।
মূল খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হলেও, তরুণ ও নতুনদের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে দল নতুন কোনো কৌশল তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। রক্ষণের খেলোয়াড়কে আক্রমণভাগে ব্যবহার করার এই দুঃসাহসী সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ম্যাচে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তদের প্রত্যাশা, প্রতিকূলতা পেরিয়ে বাংলাদেশ দল জয় দিয়েই তাদের সাফ অভিযান শুরু করতে সক্ষম হবে। দলের সবার লক্ষ্য এখন একটাই, কোনোভাবেই পয়েন্ট হাতছাড়া না করে ভুটান বধ করা এবং টুর্নামেন্টের পরবর্তী ধাপের জন্য নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]