মাত্র ১০ হাজার টাকায় সিম ভাড়া দিয়ে ফেঁসে গেলেন যুবক, তিন দিনে ২ কোটি লেনদেন
নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট সিম মাত্র দশ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন লিটন হাওলাদার নামের ৩৬ বছর বয়সী এক যুবক। অনলাইন জুয়া এবং অবৈধভাবে বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রকে নিজের সিম ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়ে তিনি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে পড়েন। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চক্রের সদস্যদের কাছে সিম ভাড়া দেওয়ার পর থেকে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ওই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দুই কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকার বিশাল অংকের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, মো. লিটন হাওলাদার বেশ কিছুদিন ধরেই এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি তার নিজের নামে একাধিক বিকাশ ও নগদের এজেন্ট সিম নিবন্ধন করেন। মূলত সহজ উপায়ে টাকা আয়ের লোভ দেখিয়ে কিংবা কৌশলে চক্রের সদস্যরা তার কাছ থেকে এই সিমগুলো ভাড়া নিত। লিটন জানতেন যে এসব সিম দিয়ে জুয়া বা মানিলন্ডারিংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে, তবুও তিনি অর্থের লোভে এগুলো ভাড়া দিতে দ্বিধা করেননি। সিআইডির সাইবার মনিটরিং টিমের নজরে আসার পর গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত লিটন তার অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, অনলাইন জুয়াড়িদের একটি চক্র দীর্ঘ সময় ধরে তার এই সিমগুলো ব্যবহার করে আসছিল। প্রতি তিন দিনের চুক্তিতে তিনি ১০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করতেন। এই চক্রটি মূলত হুন্ডি বা অবৈধ অনলাইন গেমিংয়ের অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত অ্যাপস বা প্ল্যাটফর্মের সাথে সংযোগ স্থাপনে এই সিমগুলোকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। একটি সক্রিয় ব্যাংক বা এজেন্ট সিমের মাধ্যমে এত বিপুল পরিমাণ টাকা আদান-প্রদান হওয়ায় এটি সহজেই গোয়েন্দাদের নজরে পড়ে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার সঙ্গে কেবল লিটন একাই জড়িত নন, বরং তার পেছনে আরও বড় কোনো সিন্ডিকেট কাজ করছে। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে সিম নিবন্ধন করায় এবং পরবর্তী সময়ে সেগুলো ব্যবহার করে হুন্ডি বা জুয়ার অর্থ স্থানান্তর করে। এর মাধ্যমে তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করে থাকে। লিটনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই ঘটনাটি প্রযুক্তি সচেতনতার অভাব এবং অবৈধ কাজে নিজের পরিচয় ব্যবহারের ভয়াবহ পরিণতির একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তারা সাধারণ মানুষকে নিজের নামে নিবন্ধিত সিম বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অন্য কাউকে ব্যবহার করতে না দেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করে আসছেন।




আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]