খুঁজুন
, ,

২৭ জেলা ও মহানগর শাখায় নতুন আমির পেল জামায়াতে ইসলামী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
২৭ জেলা ও মহানগর শাখায় নতুন আমির পেল জামায়াতে ইসলামী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল এসেছে। দলের অভ্যন্তরীণ রুকনদের গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নতুন জেলা ও মহানগরী আমিরের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। গত বুধবার রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই নতুন নেতৃত্বের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনটির ৭৭টি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগর শাখার নেতৃত্বের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি জেলায় নতুন করে আমিরের দায়িত্ব পেয়েছেন নতুন নির্বাচিত নেতারা। অন্যদিকে, বাকি শাখাগুলোতে যারা ২০২৪ সালের আগে থেকে দায়িত্ব পালন করছিলেন, তাদের ওপরই পুনরায় আস্থা রেখেছে দলটির সদস্য বা রুকনরা।

সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামীর তৃণমূল পর্যায়ের রুকনদের মতামতের ভিত্তিতেই জেলা ও মহানগরীর আমির নির্বাচিত হয়ে থাকেন। রুকনদের ভোটে শীর্ষ প্রার্থী নির্বাচনের পর তা দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এবারের নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন ও অভিজ্ঞদের সংমিশ্রণে একটি নতুন নেতৃত্ব কাঠামো তৈরির চেষ্টা করেছে দলটি। নতুন দায়িত্ব পাওয়া আমিরের দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতই সম্পন্ন হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে যেসব শাখায় নতুন নেতৃত্বের পরিবর্তন এসেছে, সেখানে নতুন আমিররা শীঘ্রই তাদের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সুশৃঙ্খল ক্যাডারভিত্তিক দলে এই ধরণের নিয়মিত নেতৃত্ব পরিবর্তন সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নতুনদের সামনে নিয়ে এসে তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে আরও শক্তিশালী করতে চাচ্ছে। তবে পরিবর্তনের চেয়ে ধারাবাহিকতার ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে অধিকাংশ জায়গায়, যা ইঙ্গিত দেয় যে দলটির পুরনো নেতৃত্ব বর্তমানে তাদের সাংগঠনিক অবস্থানের বিষয়ে সন্তুষ্ট রয়েছে। ৭৭টি শাখার এই বড় আয়োজনে নতুন এবং পুরাতন নেতৃত্বের যে সমন্বয় দেখা যাচ্ছে, তা আগামী দিনগুলোতে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই নির্বাহী বৈঠকের মাধ্যমে জামায়াত আগামী দিনের সাংগঠনিক প্রস্তুতির একটি বড় ধাপ সম্পন্ন করল বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন নির্বাচিত আমিররা তাদের নিজ নিজ এলাকায় দলকে কতটা সক্রিয় করতে পারেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারেন।

হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ
   
হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন

দেশের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণের প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়েছে সরকার। এই কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা, আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম এবং অব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার লক্ষ্যে একটি বিশেষ তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জনস্বার্থে এই গুরুতর অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়নের জন্যই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

গঠিত কমিশনটি কেবল টিকা ক্রয়ের প্রক্রিয়া নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িত প্রশাসনিক ব্যর্থতার জায়গাগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। সরকারি নথি অনুযায়ী, কমিশনটিতে মোট তিন সদস্য রাখা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আশা করছেন, কমিশনের এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে টিকা বিতরণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।

তদন্ত কমিশনের কর্মপরিধির বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকাণ্ডের দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করবে এই কমিটি। মূলত, উক্ত সময়ের মধ্যে হামের টিকা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে যে ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং তাতে যে ধরণেই বিলম্ব বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে, তার প্রতিটি স্তরের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টিকা কেনা বা বিতরণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দীর্ঘসূত্রতা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই এই অনিয়মের সাথে কারা জড়িত এবং কী কারণে প্রশাসনিক ব্যর্থতা তৈরি হয়েছিল, তা খুঁজে বের করা জরুরি। কমিশন তাদের তদন্ত শেষে সরকারকে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কতার সাথে পরিচালিত হবে বলেও সরকারি প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে এই তদন্ত কমিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দাবি, অনিয়মের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ নিয়ম মেনে এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এখন থেকে টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিশন কত দিনের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে, সে বিষয়ে খুব দ্রুতই পরবর্তী নির্দেশনা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ ও সুশীল সমাজ ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন।

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ডের ওপর আস্থা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৫ পূর্বাহ্ণ
   
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ডের ওপর আস্থা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার

বাংলাদেশের শ্রম খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় নিয়ে একটি যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার গঠিত নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমের ওপর পূর্ণ আস্থা ও ভরসা ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই বোর্ড সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে সক্ষম হবে।

সম্প্রতি এক আলোচনায় উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, মজুরি বোর্ডকে সম্পূর্ণ নির্মোহ এবং স্বচ্ছতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান মজুরি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি এবং মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের দায়িত্ব হলো সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে এমন একটি মজুরি কাঠামো সুপারিশ করা যা শ্রমিকদের জীবন ধারণের জন্য বাস্তবসম্মত এবং শিল্পের সক্ষমতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যে মজুরি বোর্ডে যারা কাজ করছেন, তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। সেখানে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আলাপ-আলোচনা চলছে, তা যেন কোনো একক পক্ষের স্বার্থের দিকে ঝুঁকে না পড়ে বরং সামগ্রিকভাবে জাতীয় অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর হয়, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং বর্তমান বাজার পরিস্থিতির বাস্তবতাকে মাথায় রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো তৈরি করাই এখনকার বড় চ্যালেঞ্জ।

সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক এই প্রতিনিধি মনে করেন, মজুরি বোর্ডের সদস্যরা সম্পূর্ণ নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করলে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের ধৈর্য ধারণের এবং বোর্ডের সুপারিশের জন্য অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান। মাহদী আমিন স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার শ্রম অসন্তোষ নিরসন এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে একটি স্থিতিশীল শিল্প পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য পূরণে মজুরি বোর্ডের এই সিদ্ধান্তটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সবশেষে তিনি উল্লেখ করেন যে, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজে বের করার সংস্কৃতি আমাদের শিল্প খাতে আরো বেশি প্রয়োজন। মজুরি বোর্ড যখন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ পেশ করবে, তখন সরকার তা পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে কোনো শ্রমিক বা মালিকপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। সামগ্রিক এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি।

সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী গ্রেফতার

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ
   
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী গ্রেফতার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়েরকৃত ওই হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি রাজনীতির মাঠ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাবেক সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়েরের ধারাবাহিকতায় এই গ্রেফতারের ঘটনাটি ঘটল। যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত করছে পুলিশ। এই মামলাগুলোর এজাহারে অনেক ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম যুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তকারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতার করছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রতিটি প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। যেসব ব্যক্তি ওই সময়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়াটি আরও গতিশীল হলো। গ্রেফতারের পরপরই তাকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামীতে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা তাদের লক্ষ্য নয়, তবে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।

গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা এসব হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গ্রেফতারের ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের প্রতিটি গ্রেফতারের পর পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব প্রোটোকল মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। যাত্রাবাড়ী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই মামলার তদন্তে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন বা কার নির্দেশনায় ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন সাপেক্ষে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে এবং সংগৃহীত সকল প্রমাণ যাচাই করা হবে।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সারা দেশে যে ব্যাপক অস্থিরতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেইসব ঘটনার বিচার দাবিতে এখন সরব ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। পুলিশ প্রশাসনও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের গ্রেফতার আইনের শাসনের বার্তা দেয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মামলার কার্যক্রম এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

সর্বশেষ
হামের টিকা সংগ্রহ ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের কমিশন গঠন শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ মজুরি বোর্ডের ওপর আস্থা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী গ্রেফতার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ২৭ জেলা ও মহানগর শাখায় নতুন আমির পেল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: স্পীকার ডেমোক্র্যাটরা কি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে? জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, কোনো আহত নেই সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেফতার খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে গর্তে আটকা দুটি বন্য হাতি, তিন ঘণ্টা পর সফল উদ্ধার