বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়েরকৃত ওই হত্যা মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
ইকবাল সোবহান চৌধুরী দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি রাজনীতির মাঠ ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সাবেক সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়েরের ধারাবাহিকতায় এই গ্রেফতারের ঘটনাটি ঘটল। যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় যে উত্তাল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা বিভিন্ন মামলার তদন্ত করছে পুলিশ। এই মামলাগুলোর এজাহারে অনেক ক্ষেত্রে তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম যুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্তকারীরা পর্যায়ক্রমে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও গ্রেফতার করছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত প্রতিটি প্রাণহানির ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ। যেসব ব্যক্তি ওই সময়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত বা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে এই প্রক্রিয়াটি আরও গতিশীল হলো। গ্রেফতারের পরপরই তাকে পুলিশের হেফাজতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। আগামীতে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা তাদের লক্ষ্য নয়, তবে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা বদ্ধপরিকর।
গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা এসব হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গ্রেফতারের ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরনের প্রতিটি গ্রেফতারের পর পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব প্রোটোকল মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর ক্ষেত্রেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। যাত্রাবাড়ী থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই মামলার তদন্তে আর কারা জড়িত থাকতে পারেন বা কার নির্দেশনায় ঘটনাগুলো ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে দীর্ঘমেয়াদী তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন সাপেক্ষে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করা হবে এবং সংগৃহীত সকল প্রমাণ যাচাই করা হবে।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে সারা দেশে যে ব্যাপক অস্থিরতা ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাতে অসংখ্য সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। সেইসব ঘটনার বিচার দাবিতে এখন সরব ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। পুলিশ প্রশাসনও তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মামলার এজাহারে উল্লেখিত আসামিদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। এই গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণমাধ্যম অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের গ্রেফতার আইনের শাসনের বার্তা দেয়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মামলার কার্যক্রম এখন বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট আদালত পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ । ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ